1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
হলুদ সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক বাতিঘর আল-জাজিরা - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
হলুদ সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক বাতিঘর আল-জাজিরা - ebarta24.com
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৮ অপরাহ্ন

হলুদ সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক বাতিঘর আল-জাজিরা

আকিব মোহাম্মদ ফুয়াদ
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

মাথাপিছু আয় ও সম্পদের হিসাবে কাতার এই গ্রহের সবচেয়ে ধনী দেশ। তাদের নাগরিকেরা অন্যান্য তেল সমৃদ্ধ রাজতন্ত্রগুলোর নাগরিকের চেয়েও উচ্চতর মাথাপিছু জিডিপি উপভোগ করেন। প্রকৃতপক্ষে দেশটির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তাদের সম্পদ কিংবা তাদের রাজতন্ত্রের শাসন নয় বা উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নয়, বরং সেটি হলো—আরব বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী টিভি নেটওয়ার্ক এবং পুরো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যম, আল-জাজিরা।
নব্বই দশকের শুরুতে, আল-থানি রাজপরিবারের লৌহ-শাসনের অধীনে কাতার একটি স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল। সেই তাগিদে ছোট্ট এই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে নিজেকে একক আধিপত্য কায়েমের পরিকল্পনা আরম্ভ করেছিল। কাতার এতোটাই ছোট্ট একটি দেশ যে, জনসংখ্যায় এর অবস্থান বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম শহর, অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও খুলনার মধ্যে।
অবশ্যই তারা সামরিক ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি এবং শরিয়াহ আইনের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে আর্থিকভাবে শক্তিধর হওয়াও অসম্ভব ছিলো। তদুপরি, তাদের ভৌগলিক অবস্থানও বিশেষ কিছু ছিলো না। কেবলমাত্র একটি সম্ভাব্য কৌশল ছিলো এবং এটি ছিলো তথাকথিত ‘সফট পাওয়ার’ ধারণা। অন্য কথায়—প্রভাব, কূটনীতি এবং প্রোপাগান্ডা। কাতারের ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া, ফর্মুলা ওয়ান-এর ভেন্যু হওয়া, এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্লাব ফুটবল দলগুলোকে স্পন্সর করার মতো প্রক্রিয়ায় মূলত বিশ্বের কাছে কাতারের অগ্রগতির ও উন্নতির চিত্র তুলে ধরতে অন্য কোনো দেশের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে।
তবে এই সমস্ত প্রকল্পের মধ্যে, সবচেয়ে সফল এবং বিখ্যাত হিসেবে উঠে আসবে কাতার রাজপরিবারের সংবাদমাধ্যম—আল-জাজিরা। দর্শক জনপ্রিয়তায় পুরো আরব বিশ্বের বাজারে আল-জাজিরার অবস্থান সবার উপরে। বস্তুত সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আল-জাজিরার ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম বা টিভি নেটওয়ার্ক ।
১৯৯৫ সালে সৌদি সরকার বিবিসির সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে চাইলে তারা তাদের আরব চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ১৫০ জন সাংবাদিক হঠাৎ চাকরিচ্যুত হয়ে যায়। যারা সকলেই ছিলো বিশ্বের অন্যতম প্রধান মিডিয়া সংস্থায় প্রশিক্ষিত আরব সাংবাদিক। এই লোকগুলোর মুসলমান ও আরব সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছিলো, তবে একই সাথে তারা পশ্চিমা গণমাধ্যমের উচ্চতর মান পূরণ করতে পারতেন না।
এ সময়েই কাতারের ক্ষমতায় আমির হামাদ আল-থানি এসেছিলেন। আল-থানি তার দেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মসূচি রাখেন যে, কাতারকে মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে দেখতে চেয়েছেন এবং তার সেই যাত্রায় ১৫০ জন চাকরিচ্যুত সাংবাদিকবৃন্দ একটি উপলক্ষ হিসেবে উপস্থিত হয়। তাদের উদ্দেশ্য ঠিক করা হয় যে, একটি নতুন সংবাদ অন্তর্জাল তৈরি করে একটি আরবি-ভাষী টিভি নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা যা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের মান পূরণ করবে।
কাতার সরকার সেজন্য তাদের ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করে। যার মাধ্যমে ১৫০ জন সাংবাদিকের এই দলটি নিজেদের জন্য স্টেট অব দ্য আর্ট স্টুডিও সাজিয়ে নেয়, তারপর বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেওয়ার পর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করা শুরু করে। অতি ক্ষুদ্র থেকে সামান্যতর বিষয় অত্যন্ত যত্ন নিয়ে করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, লোগো ডিজাইন করতে আমির দেশের সবার জন্য উন্মুক্ত একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে আমরা যে লোগোটি দেখতে পাই, আরবিতে ‘আল-জাজিরা’ যার অর্থ ‘দ্বীপ’। ১৯৯৬ সালে আরব বিশ্বে সম্প্রচার শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ে তারা তাদের বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যায়।
অতীতে আরব বিশ্বের টিভি চ্যানেলগুলো অত্যন্ত বিরক্তিকর ছিলো। বিশ্বের এই অংশে সংবাদমাধ্যমর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও অনুপস্থিত। আল-জাজিরা সে জায়গাতেই বৈপ্লবিক সূচনা করে। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ এবং রাজপরিবারের সমালোচনা করতে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। তারা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি সম্প্রচার থেকে এমনকি রাজনৈতিক বিরোধীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করে। একইসাথে এতো অনন্য, আধুনিক, গতিশীল শৈলীর সাথে সংবাদ উপস্থাপন আগে কখনো আরবিভাষী টিভি চ্যানেলে দেখা যায়নি।
আল-জাজিরার বিশ্বমঞ্চে প্রভাবের শুরু মূলত ২০০১ সালে নিউইয়র্কে ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক মাধ্যম বিশ্বের যেসব জায়গা থেকে খবর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ—সেসব জায়গায় দারুণভাবে সফল আল-জাজিরা। সুতরাং বিশ্বের অনেক অংশে কী চলছে তা বোঝার একমাত্র তথ্যের উৎস হয়ে উঠে আল-জাজিরা।
সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়দার নেতা ওসামা বিন লাদেন তার আতঙ্কবাদী বক্তব্য প্রচার করার জন্য এই টিভি চ্যানেলটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিল। হঠাৎ করেই বিশ্বজুড়ে টিভি সংবাদে আল-জাজিরা নামটি আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার একমাস পর মার্কিন সরকার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তখন দেখা যায় যে, সিএনএন বা সিএনবিসির মতো বিশ্বমঞ্চে বড় সংবাদমাধ্যম কর্পোরেশনগুলোর টোকিও, লন্ডন বা বার্লিনে সংবাদদাতা থাকলেও তাদের কাবুলের মতো শহরে কোনো সংবাদদাতা নেই। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে আল-জাজিরা। যেহেতু তারা মুসলিম-বিশ্বকেন্দ্রিক একটি সংবাদমাধ্যম, তাই সবগুলো মুসলিম দেশে তাদের সংবাদদাতা ছিলো। এর ফলে আল-জাজিরার ফুটেজ বিশ্বজুড়ে টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছিল।
এ কারণেই ২০০৪ সালে, কাতারের আমির বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার কাছে যে অস্ত্রটি আছে তা কেবল আরব বিশ্বেই নয়, প্রকৃতপক্ষে বিশ্বজুড়ে প্রভাববিস্তারে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এবং এই চিন্তা থেকেই আল-জাজিরা ইংরেজি চ্যানেলটির জন্ম হয়েছিল এবং তা ক্রমেই বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পশ্চিমা মিডিয়া মার্কেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলো।
তারপর থেকে আল-জাজিরা এমন একটি টিভি চ্যানেল পরিণত হয় যা ইতিপূর্বে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে কখনও দেখা যায়নি। আল-জাজিরা এমন দেশগুলোর খবরাখবর সামনে আনে, যা আগে কখনো পশ্চিমা টিভি চ্যানেলে দেখা যেতো না। তারা আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য হতে মধ্য-এশিয়া থেকে সংবাদ পরিবেশন শুরু করেছিল, যা সাধারণত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম উপেক্ষা করত।
তবে আল-জাজিরার ভূমিকা শেষ পর্যন্ত একটি সরকারি সংবাদমাধ্যম হিসেবে অন্য দেশগুলোর জন্য প্রভাবক রূপেই দেখতে হবে। আল-জাজিরা প্রথম আরব টিভি নেটওয়ার্ক হিসেবে অন্য দেশের সরকারগুলোর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিল। সেসব দেশগুলোর বেশিরভাগই স্বৈরতান্ত্রিক হওয়ায় চ্যানেলটি দেশগুলোতে নিষিদ্ধ হওয়া শুরু করে। নিষিদ্ধ করার পেছনে কারণ হিসেবে মূলত দেখা যায় আল-জাজিরা আরব বিশ্বের বিভিন্ন সরকারকে উৎখাতে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে কাজ করেছে। বেশ কয়েকটি দেশে তারা আরব বসন্তের প্রভাবকে প্রশস্ত করেছে এবং বিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের জন্য অফিসিয়াল মুখপাত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
২০১১ সালে তিউনিসিয়া থেকে আরব বসন্তের যে বিদ্রোহ শুরু হয় তাতে স্বৈরশাসক বেন-আলি দেশত্যাগ করলে আল-জাজিরা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির দৃশ্যপটের কেন্দ্রে চলে আসে। তিউনিসিয়ার বাস্তবতায় অন্যান্য দেশে খুব কম প্রভাব ফেলতে পারতো কিন্তু আল-জাজিরার এই বিদ্রোহের গভীর কভারেজ প্রদানের ফলে অন্যান্য আরব দেশে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু সংবাদমাধ্যমটি মূলত একটি স্যাটেলাইট টিভি স্টেশন, তাই তাদের স্যাটেলাইট সিগন্যালের মাধ্যমে বিদ্রোহের দানা পুরো উত্তর আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
মিশরের হোসনি মোবারক অতি দ্রুত স্যাটেলাইটের তরঙ্গ নিয়ন্ত্রণের যুদ্ধে নেমে তার দেশে আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করেন। তবে একটি স্যাটেলাইট টিভি স্টেশন সেন্সর করলে বা সম্প্রচার বন্ধের ঘোষণা দিলেই পুরোপুরি সম্প্রচার বন্ধ সম্ভব হয় না, কারণ স্যাটেলাইট ডিশের মাধ্যমে যে কোনো স্থান থেকে সরাসরি সংযোগ করা যায়। সুতরাং খুব সহজেই আরব বসন্তে অংশগ্রহণ করা সকল আরব দেশের নাগরিকরাই তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদ্রোহ দেখে নিজেরা গণতন্ত্রের জন্য বিদ্রোহে নেমে পড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে আল-জাজিরার মাধ্যমে। এবং তার ফলে অনেক জায়গায় স্বৈরশাসনের পতনও হয়।
তবে দৃশ্যপটের বাইরে আরেকটি চিত্র ছিলো তা হলো—আল-জাজিরা যাদের প্রচার করে রাজনৈতিকভাবে সহায়তা করছিলো তারা আসলে কোনো গণতান্ত্রিক শক্তি ছিলো না।
কয়েক বছর ধরেই মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতাকে আল-জাজিরায় তার নিজস্ব টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেওয়া হয়েছিলো। এমনকি দায়েশকে(ইসলামিক স্টেট) আল-জাজিরা সিরিয়ার আসাদের বিপক্ষে কেবল একটি বিরোধী শক্তি হিসেবে বা মধ্যপন্থী বিদ্রোহী একটি দল হিসেবে প্রথম দিকে আখ্যায়িত করেছিলো। আল-কায়েদার মতো অন্যান্য সুন্নিপন্থী উগ্র-সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং আল-জাজিরাকে অনেকে উগ্রবাদীদের পক্ষে পশ্চিমা বিরোধী শক্তি হিসেবে দেখতে চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগও রয়েছে। বাহরাইনের আল-জাজিরার সংবাদদাতাকে নিষিদ্ধ করার কারণ হিসেবে বাহরাইনের তথ্যমন্ত্রী নাবিল আল-হামর দাবি করেছিলেন যে, এই সংবাদমাধ্যম উপসাগরীয় অঞ্চলে জায়োনিস্ট অনুপ্রবেশের অন্যতম অঙ্গ।
বস্তুত আল-জাজিরার সম্পাদকীয় নীতির প্রধানতম শক্তি হলো তাদের আর্থিক উৎস, অর্থাৎ কাতারের আল-থানি রাজপরিবার যারা নিজেরা নিজেদের দেশে বাক-স্বাধীনতা হরণ করে রেখেছে। উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী আল-জাজিরা কাতারের বৈদেশিক নীতি অনুসারে সম্পাদকীয় নীতি বারবার পরিবর্তন করে।
তবুও এর অর্থ এই নয় যে, কাতারের রাজপরিবার অর্থায়িত হলেই আল-জাজিরা কাতারের ও তাদের রাজপরিবারের সমালোচনা করতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে এও বলা চলে যে, আল-জাজিরা অন্য যে কোনো রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে। উদাহরণস্বরূপ, ইতিপূর্বে আল-জাজিরা কাতারে অভিবাসী নির্মাণ শ্রমিকদের দুর্বিষহ চিত্রের সংবাদ পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা আল-থানি পরিবার এবং তাদের নীতিমালা সম্পর্কে খোলামেলা সমালোচনা করার সুযোগ পায়।
অন্যভাবে চিন্তা করলে, আল-জাজিরার সম্পাদকবৃন্দ তাদের সংবাদ পরিবেশন খুবই দক্ষতার সাথে নির্ধারণ ও পরিচালনা করেন, যাতে দর্শক-শ্রোতাদের অসন্তুষ্টি না জাগে। তার সাথে তারা এও জানেন যে, আধুনিক বিশ্বে যা ঘটছে তা বাস্তবতার নিরিখে চাপা রাখা যায় না। যদি আপনি আপনার শক্তির বিরুদ্ধে একেবারে খবর প্রচার নাও করেন, অন্যরা তা নিশ্চিতরূপে আপনার জন্য করে দেবে।
আল-জাজিরার সবচেয়ে বেশি বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায় তাদের আরবি ও ইংরেজি দুটি মাধ্যমে। দৃশ্যত এবং স্পষ্টত পরস্পর ভিন্ন সম্পাদকীয় নীতিতে। আল-জাজিরা ইংরেজিতে পশ্চিমা উদারপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্য ও মডারেট (বা লিবারেল) মুসলমান পরিচয়ের এক ধরনের প্রচার দেখা যায়, অন্যদিকে আল-জাজিরা আরবিতে অনেকটা আরবীয় ও কট্টর মুসলমান ধর্মীয় পরিচয় ফুটে আসে। উদাহরণস্বরূপ আল-আজিরা ইংরেজি এলজিবিটিকিউ সমর্থক ও ইহুদিবিদ্বেষী না হলেও; আল-জাজিরা আরবির সম্প্রচারে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায়। অর্থাৎ আল-জাজিরা আরবিতে তারা এলজিবিটিকিউ বিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষ মনোভাব লালন করে।
নিশ্চিতভাবে আল-জাজিরার একটি আদর্শ ও স্বার্থ রয়েছে এবং সেজন্যই আল-জাজিরা সৌদি-আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই নিষিদ্ধ। তবুও তারা এ অঞ্চলে এখনও সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদমাধ্যম। আল-জাজিরার অর্থের যোগানদাতা সম্পর্কে সকলেই অবগত এবং একই সাথে এ অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বের অনেক জায়গার খবরের একমাত্র উৎস। সংবাদমাধ্যম হিসেবে আল-জাজিরার সবচেয়ে বড় সফলতা হলো বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের জন্য আল-জাজিরার মডেল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে; যার উদাহরণ নিম্নরূপ-
– ২০০৩ সালে সৌদিরা তাদের নিজস্ব চ্যানেল আল-আর‍্যাবিয়া প্রতিষ্ঠা করে।
– মার্কিন সরকারের নিজস্ব আরবিভাষী সংবাদ রয়েছে যা আল-হুররা নামে পরিচিত।
– ইরান সরকারও হিস্পান টিভি নামক স্প্যানিশভাষী চ্যানেলের মাধ্যমে স্প্যানিশ দেশগুলোতে প্রচার করে।
-প্রেস টিভি নামে তাদের একটি ইংরেজিভাষী চ্যানেলও রয়েছে।
– ২০০৫ সালে রাশিয়া নিজেদের রাশিয়া টুডে (আরটি) চালু করেছিল।
– ২০১৫ সালে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা টিআরটি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড নামক নতুন সংবাদমাধ্যম চালু করে।
২০১৩ সালে আল-জাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের মার্কেটে সরাসরিভাবে প্রতিযোগিতা করতে আমেরিকান ক্যাবেল টিভি চ্যানেল হওয়ার জন্য ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত ক্যাবেল নেটওয়ার্ক ক্রয় করে নেয়। যদিও আমেরিকান দর্শকেরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি রাজতন্ত্রের অর্থায়নে সংবাদমাধ্যম সহজভাবে গ্রহণ করেনি। সুতরাং আমেরিকান মার্কেটে বিশেষ সুবিধা করতে ব্যর্থ হয় আল-জাজিরা ইংরেজি। কিন্তু এ জায়গায় নিজেদের বিবর্তনের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে আল-জাজিরা। পরিবর্তিত প্রচার মাধ্যম ও ব্যবস্থায় আল-জাজিরাও নিজেদের পরিবর্তন করে এজে+ নামক একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম তৈরি করে, যা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ দর্শকদের কাছে টানার জন্য তৈরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারে অনেক পিছিয়ে থাকা দেশ কাতার পরিচালিত এই সংবাদমাধ্যমে আমেরিকার দর্শকের সামনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঐতিহাসিক রূপে একটি বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে মার্কিন রাজনীতিতে অতি-বাম উদারনৈতিক রাজনৈতিক এজেন্ডাকে অগ্রসর করাকে কপটতা হিসেবে দেখালেও, এটিই মূলত আল-জাজিরা মডেল-এর সফলতা।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021