1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিনের আদ্যোপান্ত - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিনের আদ্যোপান্ত - ebarta24.com
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০১:১২ অপরাহ্ন

অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিনের আদ্যোপান্ত

মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো না বুঝে হোক, অজ্ঞতাবশত অথবা ঈর্ষান্বিত হয়েই হোক এখনও অনেকেই ভ্যাক্সিনের উপর আস্থা আনতে পারছেন না। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পৃথকভাবে পরিচালিত দুটি গবেষণায় দেখা গেছে শতকরা ৮৪%/৭৫% মানুষই ভ্যাক্সিন নিতে আগ্রহী। অনেকেই ভারতবিরোধীতার যায়গা থেকে ভ্যাক্সিনেরও বিরোধিতা করছেন। এর উপর সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের নানারকম অপপ্রচারে অনেকেই ভ্যাক্সিন নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে ভ্যাক্সিনবিভ্রাট দূর করার চেষ্টা করবো।
অনেকেই মনে করে থাকেন, ভারত থেকে যেই ভ্যাক্সিন বাংলাদেশে আসছে, সেটি ভারতের নিজস্ব ভ্যাক্সিন। বস্তুত ভারতে ২ টি ভ্যাক্সিন অনুমোদিত হয়েছে, ১. কোভিশিল্ড, ২. কোভ্যাক্সিন। এর মধ্যে বাংলাদেশ যেই ভ্যাক্সিনটি আমদানি করছে, সেটি হলো কোভিশিল্ড। কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিনটি মূলত ভারতের না। এটি হলো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির আবিষ্কৃত ভ্যাক্সিন।
এই কোম্পানিটি গত বছরের এপ্রিল থেকে তাদের ভ্যাক্সিনের বিভিন্ন পর্যায়ের ট্রায়াল সম্পূর্ণ করে সারা বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের শেষ পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে ২৩ নভেম্বর। যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরও গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় এবং ৪ জানুয়ারি প্রয়োগ শুরু হয়। ৮২ বছর বয়সী ব্রায়ান পিংকার প্রথম রোগী হিসেবে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
কেন এস্ট্রাজেনেকার এই ভ্যাক্সিন ভারত থেকে আমদানি করছে বাংলাদেশ?
এর কারণ হলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এই ভ্যাক্সিনটি বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের জন্য এস্ট্রাজেনেকা কোম্পানি বিশ্বের ৩টি ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারক প্রাইভেট কোম্পানির সাথে চুক্তি করে। সেগুলো হলো, ১. CEPI ২. GAVI ৩. Serum Institute of India। সেরাম ইন্সটিটিউট হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ করোনা ভ্যাক্সিন ছাড়াও অন্যান্য অনেক ভ্যাক্সিন এই কোম্পানিটি থেকেই ক্রয় করে থাকে। সেই সুবাদেই এই কোম্পানি থেকেই বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে করোনা ভ্যাক্সিন ক্রয় করেছে বাংলাদেশ সরকার। তাই কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিন ভারতে প্রস্তুত হলেও এটি মূলত এস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির ভ্যাক্সিন। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানসহ অন্যান্য দেশে এই ভ্যাক্সিনটির ভ্যাক্সিনেশন শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ কেন সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে ভারত থেকে ৪৭ শতাংশ বেশি দামে প্রতিটি ভ্যাক্সিন ক্রয় করছে?
এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিন কোভিশিল্ডের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৪ ডলার করে। ভারত সেটি ২৫০ রুপি বা ৪ ডলারের কিছু কমে পাচ্ছে কারণ হলো এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিন যেই কয়েকটি ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান উৎপন্ন করবে, সেগুলোর একটি হলো ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট।
নিজেদের দেশ হওয়ায় আর আমাদের তুলনায় ভারত অনেক অনেক বেশি ভ্যাক্সিন কেনায়(সেরামের প্রায় ৯০% ভ্যাক্সিন ক্রয় করবে ভারত), ভারতে ৪ ডলারের কিছু কমে দিচ্ছে। কিন্তু এটা সহজেই বোধগম্য হওয়ার কথা যে, কোন দেশের প্রাইভেট কোম্পানি নিজের দেশকে যেই মূল্যে কিছু দিবে, অন্য দেশকে সেই দাম অনুযায়ী দেবে না।
তাই বাংলাদেশকে তারা দিবে ৪ ডলারে এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরবরাহ, বিতরণ খরচ আরও ১ ডলার। মোট ৫ ডলারে পাবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কেন ফাইজার ও মডার্নার ভ্যাক্সিন ক্রয় না করে ভারতের মাধ্যমে এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিনই ক্রয় করছে?
সারা বিশ্বে এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাক্সিন ছাড়াও যুক্তরাজ্যে ফাইজার বায়োএনটেকের ভ্যাক্সিন ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুতকৃত মডার্নার ভ্যাক্সিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৯০% কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং এগুলো বিভিন্ন দেশে বিতরণও শুরু হয়েছে।
এই তিনটি ভ্যাক্সিনের মধ্যে ফাইজার বায়োএনটেকের ভ্যাক্সিন -৭০° সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করতে হয় এবং মডার্না ও অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিন সাধারণ ফ্রিজেও সংরক্ষণ করা যায়।
কিন্তু আসল সমস্যাটা হলো দামের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশে যদিও মডার্নার ভ্যাক্সিন সংরক্ষণ সহজ, কিন্তু গ্রীষ্মকালে এই ভ্যাক্সিনের প্রতিটি ডোজের দাম পড়বে ৩৮ ডলার। এবং ফাইজার বায়োএনটেকের ভ্যাক্সিনের দাম পড়বে ২০ ডলার।
সেই হিসেবে অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৪ ডলার যা আমাদের দেশের মতো একটি মধ্যম আয়ের দেশের সর্বসাধারণের জন্য কেনার উপযোগী। সেকারণেই সরকার ফাইজার বায়োএনটেক ও মডার্নার ভ্যাক্সিন ক্রয় না করে এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিন ক্রয় করছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স কি ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে?
জানুয়ারির ২১ তারিখ বার্তাসংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেটির শিরোনাম ছিলো এমন, “India’s Bharat biotech seeks Bangladesh trial for covid vaccine.” শুধু শিরোনাম দেখে এবং এর অর্থ ঠিকমতো না বুঝে বা ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ এটিকে এভাবে প্রচার করেছিলো যে, ভারত বাংলাদেশে যেই ভ্যাক্সিন পাঠাচ্ছে তা তাদের ভ্যাক্সিনের বৃহৎ পরিসরে ট্রায়ালের জন্য পাঠাচ্ছে।
আগেই বলেছি, ভারত তাদের দেশে ২টি ভ্যাক্সিনের অনুমোদন দিয়েছে। একটি এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড অন্যটি হলো তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেকের ‘কোভ্যাক্সিন’। রয়টার্সের এই শিরোনামটিতে মূলত বলা হয়েছে ভারত বাংলাদেশে তাদের নিজস্ব ভ্যাক্সিনে তথা ‘কোভ্যাক্সিন’-এর ট্রায়াল সম্পন্ন করতে চায়।
ভারত এটি চাইলেও বাংলাদেশ তাদেরকে ট্রায়াল পরিচালনার অনুমতি দেয়নি।
এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিনে কি শুকরের চর্বি ব্যবহার করা হয়েছে?
ব্রিটেন, ইন্দোনেশিয়া, সৌদী আরব ও ভারত সহ অনেকে দেশেই ভ্যাক্সিনে শুকরের চর্বি ব্যবহারের আশংকায় মুসলিমরা ভ্যাক্সিন গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। অনেক ধর্মীয় নেতা হারামও ঘোষণা করেন। কিন্তু অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকা কোম্পানি জানিয়েছে তাদের ভ্যাক্সিনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন শুকরের চর্বি ব্যবহার করা হয়নি। তাদের ভ্যাক্সিন কোভিশিল্ড যেহেতু শুকরের চর্বিমুক্ত, তাই এটি হারাম হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব যখন স্থবির হয়ে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভ্যাক্সিন নিয়ে কোন অপপ্রচার না করে বরং প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজ নিজ যায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করা। সরকারের পর্যবেক্ষণে এবং জনগণের সহযোগিতায় ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে দেশ আবার পূর্বের মত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে, এটিই হওয়া উচিত সকল দায়িত্বশীল নাগরিকের প্রত্যাশা।
তথ্যসূত্র-
*রয়টার্স,
*ইন্ডিয়া টাইমস,
*বিবিসি,
*বাংলা ট্রিভিউন,
*প্রথম আলো।
লেখক: মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021