রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:০৪ অপরাহ্ন

কি এই আল জাজিরা : গণমাধ্যম নাকি অন্যকিছু ?

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
আপডেট : বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

১৯৯৬ সালে আরব বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ, সন্ত্রাসবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী কাতারভিত্তিক এই টিভি চ্যানেল এখন বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত। এটি সর্বপ্রথম আলোচনায় আসে ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার ও আল কায়েদা সম্পর্কিত খবর প্রচারের মাধ্যমে।

২০১৩ সাল থেকে তালেবান, আল কায়েদা, মুসলিম ব্রাদারহুড ও আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্বের কাছে খবর পৌঁছানোর মাধ্যম হয়ে ওঠে এটি।

 

ইতোমধ্যে কাতার থেকে জঙ্গি সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার তথ্যপ্রমাণও প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বমিডিয়ায়। কারণ ঘটনা ঘটতে পারে এ সংবাদ তাদের সংবাদকর্মীরা আগে থেকে পেয়ে যায়।

এজন্যই আফগানিস্তানে আল কায়েদা পরিচালিত অপারেশন, আত্মঘাতী হামলা, ২০০৭ সালের ৭ জুলাই-এ লন্ডনে আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রভৃতি ঘটনা একমাত্র আল জাজিরায় প্রচারিত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র আল-জাজিরার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে এভাবে, এই মিডিয়া নারীর ক্ষমতায়নের বিরোধী, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, ধর্মীয় উস্কানি ও হলুদ সাংবাদিকতার পরিপোষক।

২০০৯ সালের পর শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের নানা ঘটনা নিয়ে অপপ্রচার করে চলেছে আল জাজিরা।

উস্কানিমূলক ও বিতর্কিত সংবাদ পরিবেশনের জন্য ২০১৭ সালের মে মাসের শেষ দিকে আল জাজিরার ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মিশর এবং বাহরাইন।

অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আপত্তিকর সংবাদ পরিবেশনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তারা। ফলে দেশে দেশে নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, বিভ্রান্তিতে পড়েছে জনগণ।

 

মনে রাখা দরকার, একসময় প্রতিবেদনের পর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে দেশ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে পতিত হবে বলেও তথ্য উপস্থাপন করে আল জাজিরা। সেসময় বিশ্বের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে প্রহসন হিসেবে উপস্থাপন করেছিল এবং একাত্তরের কুখ্যাত ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ইসলামী চিন্তাবিদ সাজিয়ে তাদের ভাবমূর্তি তৈরির একটি চেষ্টা দেখা গিয়েছিল।

২০১৪ সালে আমরা দেখেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধারাবাহিক নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করেছিল কাতারি রাজ পরিবারের মালিকানাধীন এই টেলিভিশন চ্যানেলটি। তখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত যে কোনো সংবাদ উপস্থাপনের ধরন দেখে মনে হয়েছিল তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

যুদ্ধাপরাধী মো. কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায়ের পর আল জাজিরায় ‘বাংলাদেশ পার্টি চিফ টু হ্যাং ফর ওয়ার ক্রাইমস’ শিরোনামে এক সম্প্রচারে ৩০ লক্ষ মানুষের শহীদ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলা হয় ইতিহাসবিদদের হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে ৩ থেকে ৫ লাখ মানুষ মারা গেছে।

২০১৪ সালে দোহায় আল জাজিরার সম্পাদকীয় বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন চার সদস্য। মিশর নিয়ে আল-জাজিরার ‘পক্ষপাতমূলক সম্পাদকীয় নীতি’কে নিজেদের পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তারা।

 

পশ্চিমা বিশ্বেও এই টেলিভিশন চ্যানেলটিকে দেখা হয় সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের পরোক্ষ কিংবা কখনও প্রত্যক্ষ মদদদাতা হিসেবে।

উস্কানিমূলক সংবাদ প্রচারের কারণে ২০১০ সালে আল জাজিরা টেলিভিশনের কুয়েত শাখার কার্যালয় বন্ধ করে দেয় সেখানকার সরকার।

এর আগেও একবার ২০০২ সালের নভেম্বরে আল জাজিরা কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছিল কুয়েত সরকার। দীর্ঘ আড়াই বছর পর ২০০৫ সালের মে মাসে কার্যালয়টি পুনরায় চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

২০১৫ সালে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে আল-জাজিরার ৩ জন সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেয় মিশরের আদালত। অভিযুক্ত সকলেই জঙ্গি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থন ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে দোষী ছিল।

 

সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিকতায় বাধ্য করা, জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ এবং অনৈতিকভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা ইত্যাদি অভিযোগ এনে আল জাজিরার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ ফাহমিসহ মিশরে ২২ জন সাংবাদিক পদত্যাগ করেন।

ধর্মীয় উস্কানি, জিহাদের অপব্যাখ্যা দিয়ে উগ্রবাদী ধারণা প্রচার, জঙ্গিদের দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যা দেয়া, বোমা হামলা ও আত্মঘাতী হামলাকে জান্নাতের সফর বলে উল্লেখ করাসহ নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিতর্কিত অনুষ্ঠান প্রচারের কারণে বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এই মিডিয়া।


আরও সংবাদ