1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
রাষ্ট্রদ্রোহ ও বহু প্রতারণা মামলার আসামী কে এই সামি! - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
রাষ্ট্রদ্রোহ ও বহু প্রতারণা মামলার আসামী কে এই সামি! - ebarta24.com
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রদ্রোহ ও বহু প্রতারণা মামলার আসামী কে এই সামি!

সম্পাদনা:
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

আল জাজিরা কর্তৃক মঞ্চস্থ বাংলাদেশ বিরোধী নাটকে মূল ভূমিকায় উপস্থাপন করা হয়েছে “নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক” দাবি করা এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ীকে। জাজিরা গং বেমালুম গোপন করলো সামির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে মামলার কথা! তানভীর সাদাত, জুলকারনাইন, জুলকারনাইন সায়ের খান, সায়ের জুলকারনাইন এভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম বদল করা এক চিহ্নিত প্রতারকের মাধ্যমে আল জাজিরা নৈতিকতাহীন ও হলুদ সাংবাদিকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা নজির হয়ে থাকবে। অগণিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত আল জাজিরা ফিল্মের মূল চরিত্র সামি। তার প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান। অল্প বয়সে মাকে হারানোর পর চুরি ও প্রতারণামূলক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে বদলে ফেলেন মায়ের রাখা নাম ‘তানভীর মোহাম্মদ সাদাত খান’। সকল সেনানিবাস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সময় তার নাম ছিল ‘সামিউল আহমেদ খান’। মাদক ও অন্ধকার জগতে জড়িয়ে বেছে নেন নতুন নাম সায়ের জুলকারনাইন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সামি সম্পর্কে তার সহপাঠি ও পরিচিতরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখোশ উন্মোচন করছে।
শিশুকাল থেকেউ প্রতারণায় যুক্ত সামি :
সামির বাবা মো. আবদুল বাসেত খান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। আবদুল বাসেতের চার সন্তানের মধ্যে সামিউল আহমেদ খান সবার বড়। জন্ম ১৯৮৪ সালে হলেও স্কুলের তথ্য মোতাবেক তার জন্ম তারিখ ৮ অক্টোবর, ১৯৮৬। কৈশোর থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠতে থাকে। ১৪ বছর বয়সে সামি মা’কে হারায়। তার দুই বছর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে তখন থেকেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সামি। ক্যাডেট কলেজ থেকে বহিস্কার হওয়ার পর ভর্তি হয় কুমিল্লার ইস্পাহানি স্কুলে। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে ড্রাগ নেয়া, মেয়েদের উত্যক্ত করা সহ হেন কাজ নেই যা সে করে নি। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে সহপাঠি বন্ধুরাও তাকে এড়িয়ে চলতো।
সেনানিবাসে নিষিদ্ধ হয়েছিল সামি:
আল জাজিরার ফিল্মের কেন্দ্রীয় চরিত্র সামিউল আহমেদ খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি কৈশোর বয়সেই চুরিতে হাতখড়ি নেন। ১৭ বছর বয়সে ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি, ইসিবিতে কর্মরত মেজর ওয়াদুদের বিদেশ থেকে আনা ট্র্যাকস্যুট চুরি করে ধরা পড়েন। ২০০০ সালের জুলাই মাসে টাইগার অফিসার্স মেস থেকে হাতির দাঁত চুরি করে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে অবস্থিত অঙ্গনা জুয়েলার্সে বিক্রি করেও ধরা পড়েন। বাবার চাকরির সুবাদে নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট, কখনো ক্যাপ্টেন হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকা সেনানিবাসে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন সামি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু উৎপলের কাছে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে প্রমাণের জন্য বেল্ট, বুট ও র‍্যাংক ইউনিফর্ম কিনেন। উৎপলের বাসা থেকেই সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে ট্যাক্সি ক্যাব দিয়ে সেনানিবাসসহ ঢাকার প্রথম আলো পত্রিকা অফিস, রাপা প্লাজা, ধানমন্ডি ও চিড়িয়াখানা ঘুরে জাহাঙ্গীর গেট হয়ে সিএমএইচে প্রবেশের সময় দুপুর ২টায় মিলিটারি পুলিশের (এমপি) হাতে ধরা পড়ে সামি। এর ঠিক দু’দিন পর ২ মে বাবার অঙ্গীকারনামায় আর্মি এমপি ডেস্ক থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
প্রতারণার কারণে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার:
২০০৬ সালের ২০ জুলাই র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এজে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভুয়া চেক দেন। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ১০টি ল্যাপটপ কেনার কথা বলে ২টি ল্যাপটপের গুণগত মানের কথা বলে চেক দিয়ে ২টি ল্যাপটপ নিয়ে আসে। চেক ডিজঅনার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার পর তাকে এনপিজি ঘোষণা করে সকল সেনানিবাস ও দপ্তরে অবাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার পর অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনের জন্য সামিকে ত্যাজ্য করেছিলেন তার পরদিন ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন লেঃ কর্নেল আবদুল বাসেত।
একাধিক বিয়ে ও নারী কেলেঙ্কারী:
সেনাকর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছিলেন সামি। এন্টেনা ভাঙ্গা ভি.এইচ.এফ (ওয়াকিটকি) নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়ার নামে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নেন। ব্যবসার কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে এক সেনাকর্মকর্তার মেয়েকেও বিয়ে করেন। শ্বশুরের অর্থে হাঙ্গেরিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন সামি।
ব্যবসা বাণিজ্যের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য অনেকেই তাকে খুঁজছেন। তাই বহুদিন প্রকাশ্যে আসতে পারেন না। বিদেশে ভিসা ও ইমিগ্রেশন দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করেছেন অসংখ্য নারীর সঙ্গে।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রয়েছে সামির বিরুদ্ধে:
গতবছর সাইবার ক্রাইম ইউনিট অনলাইনে জাতির পিতা, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কটূক্তি ও আপত্তিকর প্রচারণা এবং করোনা ভাইরাস নিয়ে অপপ্রচার সহ বিভিন্ন গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের অন্যতম শায়ের জুলকারনাইন সামি। উই আর বাংলাদেশী পেইজ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে অভিযুক্তদের ল্যাপটপ ও মোবাইল অনুসন্ধান করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় গোয়েন্দা বাহিনী। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাসনিম খলিল ও সামি সহ উক্ত ১১ জনের বিরু্দ্ধে ২০২০ সালের মে মাসে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে মামলা হয়। এ মামলার প্রতিবাদে কলাম লিখেছিলেন আরেক অপপ্রচারকারী ডেভিড বার্গম্যান।
প্রতারণা ও মিথ্যাচারে সিদ্ধহস্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কেন আল জাজিরার অপপ্রচার তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশকে টার্গেট করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যেই কল্পিত ফিল্মটি নির্মাণ করা হয়েছে তা দিনের আলোর মতো পরিস্কার।





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021