শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

আল জাজিরা পাশ্চাত্যে সমকামিতাকে সমর্থণ, আরব ও মধ্যপ্রাচ্যে সমকামিতার বিরোধীতা করে

সুভাষ হিকমত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

প্রতিষ্ঠান পর থেকে আল জাজিরা কখনোই সংবাদ পরিবেশনে বস্তুুনিষ্ঠতার ধার ধারেনি। বরং শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী জঙ্গিদের মূখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। জঙ্গিবাদকে উস্কে দিতে প্রতিষ্ঠানটি দেশে দেশে সরকার ও প্রগতিশীল শক্তিকে টার্গেট করে সিনেমার মতো গল্প সাজাচ্ছে। জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয়ার জন্যই বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ আল জাজিরা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে শুরু করে আল জাজিরা বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী যে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এবারের কর্মকান্ড তারাই ধারাবাহিকতা মাত্র। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে আল জাজিরা যেটা প্রকাশ করেছে তাকে বড়জোড় বিকৃত তথ্যে ভরা একটি ‘মূভি’ বলা যেতে পারে। যার লক্ষ্য সরকার ও সেনাবাহিনীতে বিব্রত করে জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয়া।

‘আল জাজিরা: তথ্য বিকৃতি বনাম বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা’ শিরোনামে মঙ্গলবার রাতে ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিব্রত করতে টার্গেট করেই শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীকে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও তার বিন্দুমাত্র তথ্য প্রমান দাড় করাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তারা আল জজিরায় দুমুখো চেহারার তথ্য তুলে ধরে বলেছেন, এই আল জাজিরা পাশ্চত্যে যেমন সমকামিতাকে সমর্থণ করে সংবাদ পরিবেশ করে তেমনি ভোল পাল্টে আরব ও মধ্য প্রাচ্যে সমকামিতার বিরোধীতা করে।

 

বাংলাদেশ পোস্টের সাংবাদিক ও ঢাকা রিরোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিবের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও ফিল্ম স্টাডিস বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক গাজী নাসির উদ্দিন আহমেদ, ওয়ান বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. রশীদুল হাসান ও দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক বিভাষ বাড়ৈ।

অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া বলেন, আলো গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে, কাদের মোল্লার ফাঁসির পরে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে সে সময় আল জাজিরা যে রিপোর্ট করেছে সেগুলো অনেকটাই পক্ষপাতদুষ্ট ছিলো। একটা রাজনৈতিক পক্ষ হয়ে আল জাজিরা রিপোর্ট করেছে। আরো বিশেষভাবে বলতে গেলে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ হয়ে তারা তাদের রিপোর্টগুলো করেছে।

তিনি আরো বলেন, হেফাজতের ২০১৩ সালের ৫ মে’র যে ঘটনায় আল জাজিরা তাদের রিপোর্টে যে হতাহতের দাবি করেছে সে দাবির সমর্থনে তারা কোনো প্রমাণ হাজির করেনি। তার মানে, তারা সাংবাদিকতার নামে বাংলাদেশ নিয়ে একধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সেটারই ধারাবাহিকতা হিসেবে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’কে আমরা দেখতে পাই।

 

উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে আল জাজিরা যেটা প্রকাশ করেছে সেটাকে আমি বড়জোর একটা ভিডিওচিত্র, তথ্যচিত্র; বা আরেকটু যদি এটার প্রতি সুবিচার করতে চাইলে এটাকে একটা ‘মুভি’ বলতে পারি। একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হতে গেলে গুণাবলি থাকতে হয় সেগুলো এই ভিডিওচিত্রে দেখতে পাইনি।

আল জাজিরার সংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাংবাদিকতার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সেই সঙ্গে নেত্র নিউজের সম্পাদক হিসেবে পরিচিত তাসনীম খলিল এবং হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে উপস্থাপিত সামীর অতীত কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে তাদের প্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাজী নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যের কাছে সেই ব্যক্তিদের দিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করে তার ওপরে মতামত দিচ্ছেন তখন সেটা কতখানি বিশ্বাসযোগ্য তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম বলেন, সংবাদটা দেখে আমার মনে হয়েছে, এটার কনক্লুশনটা (উপসংহারটা) আগে লেখা হয়েছে। আল জাজিরার সংবাদকে নিশ্চিতভাবে পক্ষপাতমূলক বলতে পারি এর আচরণ, এর নিউজ স্টাইল দেখে। আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে যে কয়টি ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিটি ঘটনাতেই এটি পাকিস্থানপন্থি বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থানকারী এবং মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের বিপক্ষে যারা অবস্থান নেয় এদের পক্ষকে শক্তিশালী করতে প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমকে আমরা উল্লেখ করতে পারি।

 

সাংবাদিক বিভাষ বাড়ৈ বলেন, প্রতিষ্ঠান পর থেকে আল জাজিরা কখনোই সংবাদ পরিবেশনে বস্তুুনিষ্ঠতার ধার ধারেনি।

আল জাজিরার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠতার কোনো সম্পর্ক নেই। মিডিয়া বা গণমাধ্যম যদি বলি সেটার সঙ্গে তাদের যায় না। তারা ঠিক জঙ্গিদের মুখপাত্রের মতোই কাজ করে। সেকারণেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও তাদের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয়ার জন্যই বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ আল জাজিরা। তারা আল জজিরায় দুমুখো চেহারার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই আল জাজিরা পাশ্চত্যে যেমন সমকামিতাকে সমর্থণ করে সংবাদ পরিবেশ করে তেমনি ভোল পাল্টে আরব ও মধ্য প্রশ্চে সমকামিতার বিরোধীতা করে।

ওয়ান বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মো. রশিদুল হাসান তাঁর সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে বলেন, আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রাখা। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যেকোনো চক্রান্ত মোকাবেলা এবং প্রতিহত করার জন্য এবং তার বিপক্ষে কাজ করার ব্রত নিয়েই আমাদের ওয়ান বাংলাদেশের যাত্রা শুরু।


আরও সংবাদ