1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
ভারতের সাথে প্রথম যোগাযোগ, বিপ্লবী সরকার গঠন - ebarta24.com
  1. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  2. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
ভারতের সাথে প্রথম যোগাযোগ, বিপ্লবী সরকার গঠন - ebarta24.com
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

ভারতের সাথে প্রথম যোগাযোগ, বিপ্লবী সরকার গঠন

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যার ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে এবং ভারতের সমর্থন আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যার যার সুবিধাজনক পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় রাজ্যগুলোতে প্রবশে করতে থাকেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে, কার নেতৃত্বে হবে-এসব নিয়ে দোলাচল চলতে থাকে । এ সময় হাল ধরেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান, জহুর হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, আব্দুস সামাদ আজাদসহ কয়েকজন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা। খন্দকার মোসতাক আহমেদ দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হওয়া সত্ত্বেও অন্যদের সঙ্গে তার দূরত্ব বজায় থাকে।
সীমান্ত অতিক্রমকারী আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাগণ বেশির ভাগই আশ্রয় নেন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও ত্রিপুরার আগরতলায়। এ পরিস্থিতিতে কী করা যায়, কত দ্রুত করা যায়—তারই সলাপরামর্শ চলতে থাকে। পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে যে বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধ চলে আসছে তাকে সংঘবদ্ধ রূপ দেয়া প্রয়োজন । ট্রেনিং ও অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রয়োজন। লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সর্বপরি ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে অবিলম্বে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করা প্রয়োজন । ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর (বিএসএফ) কর্মকর্তাগণ এ সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা সীমান্ত অঞ্চলে আশ্রীত শরণার্থীদের নিরপত্তা বিধান এবং বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় পাওয়া জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক হন।
ঢাকা থেকে গোপন পথে সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ। সঙ্গী ছিলেন আওয়ামী লীগের, এমএনএ এবং সংসদীয় দলের অন্যতম হুইপ ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম। সীমান্ত থেকে বিএসএফ এর পশ্চিমবঙ্গ প্রধান গোলক মজুমদার এবং ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ আর চক্রবর্তী তাঁদের কলতায়ায় নিয়ে যান। কলকাতায় তারা বিএসএফ-এর প্রধান কে.এফ. রুস্তমজীর সঙ্গে বৈঠক করেন। রুস্তমজী ও গোলক মজুমদার তাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে অবহিত করেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
১ এপ্রিল ১৯৭১। কলকাতা থেকে দিল্লির পথে একটি রাশিয়ান বিমানে যাত্রা করেন তাজউদ্দীন আহমদ। সাথে আমীর-উল ইসলাম ও বিএসএফ এর গোলক মজুমদার ।
এ পর্যায়ে একটি সংকট দেখা দেয়। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পরিচিতি নিশ্চিত হতে চান । সে সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান ও ড. আনিসুর রহমান। তাঁরা পরিচিতি নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন। দিল্লিতে তাজউদ্দীন আহমদ এবং শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এপ্রিলের ৪ তারিখ। এই সাক্ষাতের সময় তাজউদ্দীনের সঙ্গে আর কেউ ছিলেন না।
ভারতের মাটিতে বিচ্ছিন্ন ভাবে বাংলাদেশের দেশত্যাগীরা আশ্রয় পেতে শুরু করলেও মূলত ইন্দিরা-তাজউদ্দীনের বৈঠকের পরই কেন্দ্রীয় ভারত সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত গুলোর প্রথমটি, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে যে সকল শরণার্থী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় রাজ্যগুলোতে প্রবেশ করতে চায়—তাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করা। দ্বিতীয়টি, সীমান্ত অতিক্রমকারী বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধিদের ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক তৎপরতার অধিকার দান করা।
বলাই বাহুল্য, এই দুই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। এই দুটি সিদ্ধান্ত নিতে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের চাপ সইতে হয় প্রভূত ভাবে । মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য এবং কয়েকজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা কমবেশি পাশ্চাত্যমুখী’—তাঁরা বিরোধিতা করেন । প্রশ্ন তোলেন, এসব সিদ্ধান্তে ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু দৃঢ়চিত্ত ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সরকার ও প্রশাসনে মতবিরোধের অবসান ঘটান।
বলাই বাহুল্য, শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর এই দৃঢ় মনোভাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করতে এবং চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিতে ঐতিহাসিক অবদান রাখে।
বাংলাদেশের প্রথম সরকারঃ
বিদ্যমান সংকটপূর্ণ বাস্তবতায় ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন একটি ঐতিহাসিক আশীর্বাদ। কারণ নতুন রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচনার মধ্য দিয়ে গোটাবিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিত হয়ে ওঠে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে যাত্রা করে।
এরই মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদ দ্বিতীয়বার ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে, ১. মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সরকার ভারতের মাটিতে অবস্থান করতে করবে। ২. ভারতের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ এবং শরণার্থীদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। ৩. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর প্রচারের জন্য ভারতের মাটিতে একটি বেতার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের কাজকর্মে সহায়তা করার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল নগেন্দ্র সিংকে দায়িত্ব অর্পণ করে।
এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাঙালি নিধন অভিযান ক্রমশই তীব্রতর হয়। সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোতে বিপন্ন দেশত্যাগীদের ঢল বেড়ে চলে। দেশের নানা অংশে হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ ও ছাত্রজনতার বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ গড়ে ওঠলেও তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও আধুনিক অস্ত্র-গোলাবারুদে সঞ্জিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখতে ব্যর্থ হয়। এদিকে ভারত সীমান্তের সকল অংশে আশ্রয় লাভকারী যুব-তারুণ্য অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাবার জন্যও একটি আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ জরুরি বিবেচিত হয় । ফলে যত দ্রুত সম্ভব একটি সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করতে থাকেন সকলে।
এ সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগকারী সেনা অফিসারদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার কাউন্সিল’ বা ‘রিভুলিউশনারি কাউন্সিল গঠনের দাবি তোলা হয়। ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থানরত মেজর জিয়াউর রহমান মুখ্যত এই উদ্যোগকে সামনে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতৃবৃন্দ এমন কি ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেয়া অন্যান্য বাঙালি সেনা-অফিসার—কারও কাছেই এমন উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য হয় না বরং তা সন্দেহের সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন অংশে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অনেকগুলো বৈঠক বসে।
সরকার গঠনের কথা উচ্চারিত হওয়ার পর থেকে দলের যুব নেতৃত্বের প্রভাবশালী একটি অংশ থেকেও নানামুখী চাপ আসতে থাকে। কার নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হবে, কাদের নিয়ে হবে—এসব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে বঙ্গবন্ধু যে ৫ জন শীর্ষ নেতাকে নিয়ে দলের হাই কমান্ড তৈরি করেছিলেন, তাদের দিয়েই নিয়মিত গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার গঠন করা হবে। বলাই বাহুল্য, সরকার গঠনের ব্যাপারে ভারত সরকারের সক্রিয় সমর্থন পাওয়া যায়।
১০ এপ্রিল, ১৯৭১ঃ
প্রাথমিক সংকটের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সরকার গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী, এএইচএম কামরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বৈঠকে বসেন। তারা পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। সিদ্ধান্ত হয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম হবেন উপরাষ্ট্রপতি, যিনি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাজউদ্দীন আহমদ যুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেদিনই গভীর রাতে (১১ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের রেকর্ড করা একটি ভাষণ গোপন বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। এই বেতার ভাষণের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের সরকার বিশ্ববাসীর সামনে আত্মপ্রকাশ করে।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রচারিত সেই বেতার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এই ভাষণ প্রচারের পর থেকে দেশ ও বিদেশে বাংলাদেশের সরকার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকে। ইতিমধ্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও আবদুল মান্নানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয়া দলীয় নেতৃত্বের সাক্ষাত়্ ঘটে। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন । এরপর একটি বিমানে চেপে আগরতলায় পৌঁছান।
আগরতলায় ইতিমধ্যে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা এসে আশ্রয় নিয়েছেন। খন্দকার মোস্তাক আহমদ, এম আর সিদ্দিকী, জহুর আহমদ চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিরাজুল হক, আবদুস সামাদ আজাদসহ আরও অনেকে। আরও আছেন কর্নেল আতাউল গনি ওসমানী, ডা. টি. হোসেন, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও মাহবুব আলী চাষী—প্রমুখ । তারা সকলে আগরতলা সার্কিট হাউজে ১১ ও ১২ এপ্রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে করেন। এই বৈঠকটি ছিল কার্যত আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক। এই বৈঠকেই বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন ও মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের এমএনএ কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি মনোনীত করা হয়। অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন ক্যাপ্টেন (অব.) এম, মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, কৃষি ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এএইচএম কামরুজ্জামান এবং খন্দকার মোসতাক আহমদ দায়িত্ব প্রাপ্ত হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ১৩ এপ্রিল দলের বেশির ভাগ নেতা বিমানে কলকাতায় ফিরে যান।
কলকাতার THE STATESMAN ১৩ এপ্রিল খবর ছাপে 6-Member Cabinet with Mujib as President Formed-A six-member Cabinet of the sovereign Democratic Republic of Bangladesh was formed somewhere in East Bengal today. According to sources close to the Awami League, Sheikh Mujibur Rahman was named President while Syed Nazrul Islam and Mr. Tajuddin Ahmed were chosen Vice-President and Prime Minister, respectively. The Government of Bangladesh came into being following protracted deliberation at a meeting of the National Assembly members and the top Awami League leaders held somewhere in Bangladesh.
উল্লেখ্য, বৈঠকটি আগরতলায় অনুষ্ঠিত হলেও ভারতীয় গণমাধ্যমে কৌশলগত কারণে তা উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক শপথের জন্য প্রথমে ১৪ এপ্রিল নির্ধারিত হয়। স্থান হিসেবে চুয়াডাঙ্গাকে স্থির করা হয়। কিন্তু ১৩ এপ্রিল পাকিস্তান বাহিনী চুয়াডাঙ্গা দখল করে নেয়। শেষ পর্যন্ত সবদিক বিবেচনায় রেখে কুষ্টিয়া জেলার সাবেক মহকুমা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলাকে শপথ গ্রহণের উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। নিরাপত্তার কারণে সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা হয়।
এরপর শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বা বিএসএফ এর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা আসে। ইতিমধ্যে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের একটি খসড়া রচনার কাজ সম্পন্ন করেন। ঘোষণাপত্রে তুলে ধরা হয় পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় কি কি আইনানুগ অধিকার আছে, যা কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবাধিকারের অংশও বটে। প্রথমত তাজউদ্দীন আহমদ খসড়াটি অনুমোদন করেন এবং পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী সুব্রত রায় চৌধুরী এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করেন।
মেহেরপুরের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে সাংবাদিকদের আনার দায়িত্ব পড়ে আওয়ামী লীগের দুই হুইপ-আব্দুল মান্নান এএনএ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম এমএনএ- র ওপর। ১৬ এপ্রিল কলকাতায় উপস্থিত ভারতীয় ও পশ্চিমী দেশের সাংবাদিকগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে অনুমান করতে পারেন। কাজেই কলকাতা প্রেস ক্লাব লোকে লোকারণ্য থাকে। বিএসএফ পক্ষ থেকে বেশকিছু গাড়িরও ব্যবস্থা করা হয় । কিছু গাড়ি ভারতীয় ও পশ্চিমী দেশের সাংবাদিকদের জন্য এবং অন্য গাড়িগুলোতে যাবেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। সেদিনই শেষ রাতে এবং পরদিন ভোর বেলায় দেশি-বিদেশি সাংবাদিকগণ এক অজানা গন্তব্যের দিকে যাত্রা করেন । গাড়িগুলো কোথায় যাচ্ছে প্রথমত কেউই জানতে পারেন না।
সূত্রঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত, তথ্য ও দলিল (পশ্চিমবঙ্গ)
গ্রন্থনা ও সম্পাদনাঃ হারুন হাবিব





সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ





ebarta24.com © All rights reserved. 2021