শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

নৌকা ৩০০ তেই সুন্দর

মুজিবুর রহমান অনিক
আপডেট : শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নৌকা ৩০০ তেই বেশি সুন্দর, নৌকা ৩০০ তেই অনেক বেশি শক্তিশালী। যে নৌকা ছিলো সোনার হরিন এবং একজন রাজনীতিবিদের শেষ স্বপ্ন সেই নৌকা আজ অনেকটাই সহজলভ্য। জেলা উপজেলায় দলীয় কোন্দল সহ সকল সমস্যার এটাই বড় কারন নয়তো?

অধিকাংশ জেলাতেই জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে নানান বিষয় নিয়ে স্থানীয় এমপিদের অভ্যন্তরীণ ঝামেলা সহ দলীয় কোন্দল থাকে। আর সেই ঝামেলা মাঝে মাঝে এমন আকার ধারণ করে, আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে কেউ কেউ জামাত-বিএনপিকে সাথে নিয়ে দলভারী করতেও কার্পণ্য করে না। এই সুযোগে জামাত-বিএনপি আর হাইব্রিডরা আমাদের কাঁধে ভর দিয়ে আমাদেরকেই প্রচন্ড ভাবে লাঞ্চিত করে। মাননীয় নেত্রী খোঁজ নিয়ে দেখুন, প্রতিটি জেলার চিত্রই এমন। আর আপনার মনোনীত বিশেষ ব্যক্তিরা আপনার ও দলের নয় বরং নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই মরিয়া।

স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বোর্ডের কাছে জেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রস্তাব করে, আর হ্যাঁ, এটাই সিস্টেম। কিন্তু কোন কারণে যদি জেলা আওয়ামীলীগ ও স্থানীয় এমপিদের সাথে প্রার্থী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য তৌরি হয় বিপত্তিটা ওখান থেকেই সৃষ্টি হয়। কারণ কেউ নৌকা জিতাতে চায় না, সবাই নিজেই জিততে চায়। আর তাই নৌকা ডুবিয়ে নিজের মাইম্যানকে জেতায়, নৌকার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করে নিজেরা উল্লসিত হয়।

 

মাননীয় নেত্রী, প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক পাওয়ার লোভে, আপনার কর্মী ও সাধারন জনগনের সাথে কোন প্রকার সখ্যতা না রেখেই বিশেষ ব্যক্তিদের খুশি করার লক্ষে বিভিন্ন ভাবে তাদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করে। উদ্দেশ্যে, যেকোন উপায়ে হোক দলীয় মনোনয়ন তাকে পেতেই হবে। কারণ, বর্তমান পরিবেশটাই এমন।

আপনার দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ । ”
তাই লক্ষ একটাই, যেকোন মূল্যই নৌকাই চাই “।
দলীয় মনোনয়ন পেলেই জয় সুনিশ্চিত।

যে কারনে জনগনের সাথে দলীয় প্রার্থীর কোন সখ্যতা আর সম্পর্কই গড়ে ওঠে না। তারা প্রয়োজন ও মনে করে না, কারন নৌকাই তাদের শক্তি। এর বড় প্রমাণ হলো দুই/তিনবার নির্বাচিত হয়েও তাদেরকে আবারও দলের উপরই নির্ভর করতে হয় জয়ের জন্য। যাদের ব্যক্তিগত কোন অর্জনই নেই, যাদের কারণে সাধারণ মানুষ নৌকা প্রেমী না হয়ে বিদ্বেষী হয়, যারা নির্বাচিত হয়ে নিজেদের আখের গোঁছাতে ব্যস্ত তাদের বারবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কোন মানে আছে কি?

 

মাননীয় নেত্রী, আপনি ভালোভাবে খোঁজখবর নিন। স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেয়ার পর থেকেই আপনার নেতারা খুব বেশি উদাসীন। সাধারণ জনগণ ও ভোটারদের সাথে তাদের দূরত্ব বেড়েছে বহুগুণ। স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়াতে প্রতিনিয়ত আমরা হারাচ্ছি প্রকৃত জননেতাদের। আপনার নেতারা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে, ভুল মানুষকে নৌকা দিচ্ছে। কোথাও কোথায়ও এখন আদার বেপারীরাও নৌকার মাঝি! যার খেসারত হচ্ছে দলীয় অন্তঃকোন্দল এবং আপনার আদর্শিক কর্মীদের হতাশার আত্মচিৎকার। এসব কারনে সবমিলিয়ে ক্রমেই ভোটের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারন মানুষ।

মাননীয় নেত্রী, আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়, সারাদেশে আপনার এত এত নৌকার মাঝি থাকতেও আপনার কর্মীরা কেন এত বেশি হতাশ? কিসের এত পিছু টান আমাদের? আপনার আদর্শিক কর্মীদের নিঃশ্বাস আরো বেশি ভারী হলে ফলাফল কি হবে তা একমাত্র আল্লাহ’ই ভালো জানে।

 

লেখকঃ মুজিবুর রহমান অনিক,
সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি, সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগ।


আরও সংবাদ