রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন ‘মাইলফলক’ রচনা

সুভাষ হিকমত
আপডেট : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নিজেদের চেনা স্টাইলেই মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের বেসাতি ছড়িয়েছিল সেই চক্রটি। নিধিরাম সর্দারের মতোন কখনও ফেসুবক আবার কোন কোন সময় ইউটিউবে নিজেদের হীন স্বার্থ বাস্তবায়নে গালগপ্পের তুবড়ি ছুটিয়েছেন মুখে। আজগুবি সব গল্পের যবনিকাপাত না ঘটলেও সত্যের কিরণে মিথ্যা ভেসে গেছে কচুরিপানার মতোই।

নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টানা ১৩ দিনের ঐতিহাসিক এক সফর শেষে বীরের বেশেই দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ। দীর্ঘ এ সফরের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যকার বিরাজমান সহযোগিতামূলক সম্পর্কের এক নতুন দিক যেমন উন্মোচন করেছেন তেমনি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে নবযাত্রারও সূচনা করেছেন।

জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও পৃথক পৃথক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছেন। জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়নসহ মানবাধিকার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

 

সেনা সদর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আড়াই বছরে সরকারের সদিচ্ছায় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সৌদি আরব, চীন, মায়ানমার, যুক্তরাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। প্রতিটি দেশের সরকারের আমন্ত্রণেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার লক্ষে তিনি এসব দেশ সফর করেছেন।

তাঁর প্রতিটি সফরই দেশের জন্য কিছু না কিছু অর্জন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। যার বেশিরভাগই সুফল পেয়েছে দেশ। কোন কোনটিতে হয়েছে প্রাপ্তির সূত্রপাত। দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই তিনি সফরগুলোর অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এসব দেশের বিরাজমান সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করতেও নিজের বহুমাত্রিক মেধা, বিচক্ষণতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিশ্বের তাবৎ পরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র। সেই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তরিক সম্পর্কের কারণে সেদেশের সরকারের আমন্ত্রণে গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তাঁর ১৩ দিনের এ সফরটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নানা দিক থেকেই এ সফরটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনে ঈর্ষান্বিত একটি বিশেষ মহল নিজেদের অশুভ অভিপ্রায় বাস্তবায়নে পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলতে নানাভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদের যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর চলাকালেই ওই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কাল্পনিক গল্প গুজবের মাধ্যমে নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপকৌশল গ্রহণ করে।

কিন্তু সেনাবাহিনী প্রধান এসব ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন অপপ্রয়াসকে পায়ে মাড়িয়ে নিজের পরিশীলিত মেধা ও কূশলী-বিচক্ষণ নেতৃত্বের অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এ সফরটিকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথেই দুটি দেশের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

 

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর শেষে শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধানের আমন্ত্রণে গত ২৯ জানুয়ারি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সফরকালে তিনি মার্কিন সেনাপ্রধানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাদি পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী প্রধান ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, অফিস অব সেক্রেটারি অব ডিফেন্স ফর পলিসি সাউথ এন্ড সাউথইস্ট এশিয়া এবং ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এর প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সেনাবাহিনী প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী রাশেদ চৌধুরীকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে জেনারেল আজিজ বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ম্যাকনভিল এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় ১৯ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনসহ গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এছাড়াও আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে গার্ড অব অনার প্রদানকালে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। পরে তিনি মার্কিন সেনাপ্রধানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সাক্ষাতকালে তিনি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী প্রধান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মিলিটারি এডভাইজার, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলগণ এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সাথে মতবিনিময় করেন।

আলোচনার পূর্বে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের পেশাগত দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন একটি হেলিকপ্টার ইউনিট মিশন এলাকায় (গাও, মালীতে) মোতায়েনের জন্য এবং ডিআর কঙ্গো -তে ১৩ সদস্যের একটি মিলিটারি পুলিশ ডিটাচমেন্ট প্রদানের জন্য আহ্বান জানান।

 

এছাড়াও বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের মিশন এলাকায় গমনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ব্যবহার, শান্তিরক্ষা মিশনে মহিলা শান্তিরক্ষীদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং বিভিন্ন মিশন এলাকায় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে মত বিনিময় হয়।

সেনাবাহিনী প্রধান জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জোরালো ভূমিকা বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী/ফোর্স কমান্ড পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সেনাবাহিনী প্রধান এর এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


আরও সংবাদ