রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন

ড. কামালের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা ও জামাতা বার্গম্যানের গোপন মিশন

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবকিছুই জানি। গত নির্বাচনের আগে স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করেছেন তিনি। তবে তার মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও মেয়ের স্বামী ডেভিড বার্গম্যান সম্পর্কে অনেক কিছুই এখনো আপনাদের অজানা। অপসাংবাদিকতার কারণে চাকরি হারানো এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারণা চালানোর জন্য ইতোমধ্যে বার্গম্যানের মুখোশ খুলে গেছে। তবে আরও অনেককিছুই এখনো আপনাদের অজানা। বার্গম্যান ও স্ত্রী সারা হোসেনের গোপন মিশনের পরিধি আরো ব্যাপক এবং ভয়ঙ্কর।

 

এই বার্গম্যান একজন ইহুদী। সে একজন এজেন্ট। ব্যারিস্টার সারাকে বিয়ে করে বাংলাদেশে অবস্থান করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। এসময় ধর্মপ্রাণ সহজসরল বাঙালি মুসলমানদের নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছিল বার্গম্যান। ২০১৪ সালে শাহবাগে হেফাজতের আন্দোলন স্থিমিত হওয়ার পর মুসলিমবান্ধব ছদ্মবেশে মাদ্রাসার কিশোর তরুণদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছিল সে।

তার মিশন ছিল, হত্যা-খুন এসবের গুজব ছড়িয়ে তরুণ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উস্কে দেওয়া। এরপর ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করা। একারণে আল-জাজিরার সঙ্গে আঁতাত করে অনেক বানোয়াট করিয়ে নেয় বার্গম্যান। নিজের সাদা চামড়া ও ইহুদী ধর্মকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছ থেকে কারণে আলাদা সুবিধা আদায় করতো সে। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে, এখন বিদেশে বসে বাংলাদেশকে নিয়ে বানোয়াট গালগল্প ছড়াচ্ছে সে। আর এই সাদা চামড়ার বেকার ইহুদীকে মিডলম্যান হিসেবে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো।

 

এখানেই শেষ নয়, আপনি জানলে আরো অবাক হবেন। এই বার্গম্যান একদিকে বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের কাছ থেকে টাকা খাচ্ছে। আবার, অপরদিকে প্রগতিশীলতার ছদ্মবেশে এলজিবিটি বা সমকামিতার অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও টাকা নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত এলজিবিটি বা সমকামি ম্যাগাজিন রূপবান-এর প্রকাশনা উৎসবে বিদেশি প্রতিনিধিদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন বার্গম্যানের স্ত্রী ব্যারিস্টার সারা। তারা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতাও করছে, আবার বিদেশ থেকে ডলার কামানোর জন্য দেশের মধ্যে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথাও বলছে।

ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং সাংস্কৃতিক উগ্রবাদ, ভিন্ন স্টাইলে বিপরীতধর্মী দুই ধরনের উগ্রতা ছড়িয়ে দেশকে অস্থিশীল করে তুলতে বেপরোয়া ভূমিকা পালন করছে এই পরিবার। অথচ দুই পক্ষ থেকেই দেদারসে ডলার কামাচ্ছে তারা। আর আমরা, আপনি-আমি-সাধারণ মানুষরা কী করছি? এদের মুখোশ খুলে দিন, এদের নোংরা খেলা থেকে নিজেকে সতর্ক রাখুন।

 

২০১১ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণা করেন ড. কামাল হোসেন। এমনকি তিনি এই জোটের সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্বও নেন। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে যে কোনো উপায়ে সরানো। শুধু ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্য থেকেই তিনি স্বাধীনতাবিরোধী ও বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ বিস্তারকারী এই জোটের সঙ্গে একতাবদ্ধ হন। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে হেয় করতে লাগাতার অপপ্রচার চালিয়ে যায় তার মেয়ের স্বামী ডেভিড বার্গম্যান। কিন্তু সেই বার্গম্যানের স্ত্রী ও ড. কামালের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন আবার দেশের মধ্যে সমকামী অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেন। দুটো তো পুরোপুরি বিপরীতমুখী হয়ে গেলো! তাহলে ঘটনাটা আসলে কী দাঁড়াচ্ছে?

ধর্মীয় উগ্রবাদ যেমন বিশ্বের কোনো ধর্ম এমনি কোনো রাষ্ট্রও সমর্থন করে না, তেমনি সমকামিতাকেও কোনো ধর্ম এবং আমাদের গতানুগতিক সংস্কৃতিতে অনুমোদন দেওয়া হয় না। সেখানে বাবা ড. কামাল সরাসরি উগ্রবাদীদের সঙ্গে হাত মেলান, আর মেয়ে ঠিক উল্টো পথে গিয়ে আরেক ধরনের যৌন সংষ্কৃতির উগ্রতায় ইন্ধন দেন। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে একাত্ম করার দায়িত্ব পালন করেন তাদের পরিবারের আরেক সদস্য ডেভিড বার্গম্যান, যিনি মূলত ব্লগে নিজের মতো লেখেন, সাংবাদিকতা জানেন না কিন্তু বিদেশি এজেন্ট হিসেবে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি বাংলাদেশের দুটি সংবাদ মাধ্যম থেকেও নৈতিকস্খলজনিক কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন।

 

ডেভিড বার্গম্যান বিডিনিউজে অনুবাদক হিসেবে চাকরি করতেন অথচ বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে অফিসকে না জানিয়ে অনেক মানুষের সাক্ষাৎকার নেন। কিন্তু সেসব সংবাদ অফিসে জমা দেননি। পরে বিডিনিউজের সম্পাদক সাক্ষাৎকারদাতাদের কাছ থেকেই এসব তথ্য জানতে পারেন। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ডেভিড বার্গম্যানকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করে লেখালেখির কারণে আদালতেও তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান তিনি। এরপর লিপ্ত হন বাংলাদেশ বিরোধী চক্রে। সাদা চামড়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশ সম্পর্কে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এই বার্গম্যান।

 

বার্গম্যানের এসব নৈতিক অবক্ষয় ও বিকৃত কর্মকাণ্ড নিয়ে তা শ্বশুর ড. কামাল হোসেন বা তার স্ত্রী ব্যারিস্টার সারা হোসেন কিন্তু কখনো কোনো কথা বলেননি। অথচ দেশের অন্য কারো পান থেকে চুন খসলেই সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে যান তিনি। তার জামাই যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী-পুলিশবাহিনী-আইন-আদালত সবকিছু নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নোংরা খেলা খেলে যাচ্ছে; এটা কী ড. কামালের সঙ্গে থাকা স্বাধীনতাবিেরাধী বিএনপি-জামায়াত জোটের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নয়? অবশ্যই তাই। তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে বিএনপি-জামায়াতের লন্ডনের এক বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন তিনি। অপরদিকে ড. কামালের মেয়ে আবার দেশের প্রথম সমকামি পত্রিকা রূপবানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিশ্বের দরবারে নিজেদের প্রগতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করেন। অবাক করার মতো বৈপরীত্য, বাবা উগ্রবাদীদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করেন, মেয়ে সমকামিতার পক্ষে সোচ্চার অবস্থান নেন, আবার জামাই বার্গম্যান দুই পক্ষের হয়েই ডলার ম্যানেজ করেন। দিন শেষে তাদের কাছে ডলার ফ্যাক্ট, আর আপনার আর আমার মতো সাধারণ মানুষরা বসে থেকে তাদের দেওয়া ধোঁকা খেতে অভ্যস্ত। এই দেশবিরোধী ও সংস্কৃতিবিরোধী ব্যবসায়ী চক্র ও বিদেশী এজেন্টদের থেকে সতর্ক থাকুন।


আরও সংবাদ