শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
মসজিদের দানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মামুনুল অনুসারী হেফাজতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১ হেফাজতভক্ত সাম্প্রদায়িক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে ছাত্রলীগ : পাওয়া মাত্রই বহিষ্কার মুজিবনগর দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘সোনার বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে’ প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বিএনপি কেন পালন করে না মুজিবনগর দিবস? মামুনুল কাণ্ডে টালমাটাল হেফাজত যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার মামুনুল কিংবদন্তী কবরীর জীবনাবসান চট্টগ্রামের ৩০০ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিবিরের স্টাইলে কৃষক লীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিল ‘হেফাজত’ করোনা রোগীদের শয্যা প্রাপ্তিতে ছাত্রলীগের মানবিক টিম

ঐতিহাসিক ‘৭ মার্চ’ উদযাপনে হঠাৎ বিএনপির বোধদয় কেন?

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
আপডেট : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

হঠাৎ করেই রাজনীতিতে এক চমক সৃষ্টি করেছে। বিএনপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন, তারা ৭ মার্চ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান করবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ মার্চ এক ঐতিহাসিক পর্ব। ১৯৭১ সালের ওই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষণ দেন। যে ভাষণটিকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ভাষণের অন্যতম বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই ভাষণে তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র বির্নিমাণের পথনির্দেশনাও দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র কীভাবে এগিয়ে যাবে সে সম্পর্কেও তিনি সুনির্দিষ্ট একটি কর্মপন্থা ঘোষণা করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের রুপরেখা দিয়েছিলেন ৭ মার্চের ভাষণে।

 

৭ মার্চ যে কোনো বিবেচনায় বাঙালি জাতির এক অনন্য দলিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পর থেকে এই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি নিষি’দ্ধ ছিলো। এই ভাষণটি প্রচার করতে দেয়া হতো না।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ৭ মার্চের ভাষণ শুধু নিষি’দ্ধই করেননি, বিভিন্ন আর্কাইভে থাকা এই ভাষণের ভিডিও ফুটেজ নষ্ট করারও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ৭ মার্চের ভাষণ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ছিলো। কিন্তু জনগণ এই নিষি’দ্ধ ভাষণ আবেগ নিয়ে শুনেছে উদ্দীপ্ত হয়েছে।

বিএনপি তার রাজনৈতিক কোনো দলিলেই ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে কোনো কথা বলেনি। তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুরু করে ২৬ মার্চ থেকে। সেই বিএনপি হঠাৎ করে ৭ মার্চ উদযাপন করার ঘোষণা কেনো দিল এই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি ৭ মার্চ পালন করবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী হিসেবে এবং বিএনপি মনে করে ৭ মার্চের ভাষণের একটি তাৎপর্য রয়েছে।

 

কিন্তু এতদিন পরে বিএনপি ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য কোনো অনুভব করলো সে প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন মূলত কয়েকটি কারণে বিএনপি এখন ৭ মার্চ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১. নতুন প্রজন্মের ভোটার: নতুন প্রজন্মের ভোটাররা মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে অনেক সচেতন। তারা ইতিহাস জানে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকার করে এবং তাঁর নেতৃত্বের হওয়া মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহী। বিএনপি যতই ৭ মার্চের ভাষণ আর বঙ্গবন্ধুকে উ’পেক্ষা করছে ততই তারা নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বিচ্ছি’ন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই উপলব্ধির কারণেই বিএনপি হয়ত ৭ মার্চ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২. জিয়াউর রহমানের অস্তিত্ব রক্ষা: বিএনপির অনেকের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক ভালো কৌশল। ৭ মার্চ যদি তারা উদযাপন করে তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের একটি সমঝোতার দুয়ার উন্মোচিত হবে এবং এতে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে তারা দেনদরবার করতে পারে। রাজনৈতিক সমঝোতার একটি পথ উন্মোচনের জন্যই বিএনপি ৭ মার্চ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লষকের কেউ কেউ মনে করেন।

 

৩. বিএনপির বোধদয়: বিএনপির রাজনীতিতেও পরিবর্তন হচ্ছে, বোধদয় ঘটছে। বিএনপির অনেক নেতার মতে, ১৯৭৯ সালের বিএনপি আর ১৯৮৩’র বিএনপি এক ছিলো না। আবার ২০০১ এর বিএনপি অন্যরকম ছিলো। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নানান পরিস্থিতিতে নীতি পরিবর্তন করেছে। এখন বিএনপি উপলব্ধি করছে, ৭ মার্চ নিয়ে যদি বিএনপি ভুল রাজনীতি করে, সেটি হবে দলের জন্য ক্ষ’তিকর। এই উপলব্ধিই হয়ত ৭ মার্চ উদযাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে তাদের।

৪. আন্তর্জাতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির গ্রহণযোগ‌্যতা কমছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের বিতর্কিত অবস্থানের জন্য বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের জন্য। তাই বিএনপি এখন মনে করছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে গেলে কিছু বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান থাকতে হবে। ৭ মার্চের ভাষণ এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও যু’দ্ধাপরাধীদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান সুস্পষ্ট করার তাগিদও ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় হয়ত ৭ মার্চ উদযাপনে ব্যাপারে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৫. শুধুমাত্র চমক সৃষ্টি: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বেশিরভাগই মনে করছেন, বিএনপির ৭ মার্চ উদযাপন একটি রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছুই না। বিএনপি এখন যে কোনো মূল্যে রাস্তায় থাকতে চায়। সে কারণেই নতুন প্ল্যান নিয়েছে। তবে যে কারণেই করুক না কেন, ৭ মার্চ উদযাপন বিএনপির রাজনীতিতে বড় মেরুকরণের প্রথম ধাপ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


আরও সংবাদ