1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

বাংলাদেশকে ব্রান্ডিংয়ে আরও গুরুত্ব দিতে হবে

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

যেসব খাত থেকে একটা দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, সেগুলো আগেই বিস্তারিত এবং বারবার লিখেছি। এই লেখা রিপিটেশন হলে সমস্যা নেই, হয়তো কোনো কাজে লাগবে না, তারপরও পড়ে দেখতে পারেন। এফডিআই বা ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট একটা বড় সূচক। যেসব দেশে দক্ষ কর্মীবাহিনী, টেকনোলজির ব্যবহার, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, শিল্পের অনুকূল পরিবেশ, ইউটিলিটি-বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস এর সহজলভ্যতা, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, শিপমেন্ট ব্যবস্থা, সহজে ব্যবসা শুরুর ব্যবস্থা, ট্যাক্স রিবেট, বিদেশিদের এসে থাকবার সুব্যবস্থা ইত্যাদি এসব আছে সেখানে বিদেশি সরাসরি ইনভেস্টমেন্ট আসে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বর্তমানে কতো ইনভেস্ট হয়েছে সেই ডেটা না পেলেও যা দেখলাম, পাইপলাইনে ২০১ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা আছে। গত বছরের হিসাবে এটা জিডিপির ৫.৩৬ শতাংশ। এটা বড় অর্থনীতি হয়ে গেলো, একটু ছোট করি। ভিয়েতনাম। বাংলাদেশ আর ভিয়েতনামের একটা বড় পার্থক্য হলো, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র আছে বলে বলা হয়। ভিয়েতনামে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা। সেই হিসাবে গণতান্ত্রিক একটি দেশে বিদেশিদের ইনভেস্টমেন্ট বেশি হওয়ার কথা। ঘটনা তেমন না। কিছু ডেটা দিয়ে বলি। জনসংখ্যায় ১০ কোটির বিপরীতে আমাদের ১৭ কোটি। শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞানের উপর জোর দেওয়া হয়, সেইসঙ্গে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল যেখানে আমাদের এখানে এক্সপেরিমেন্টাল ভাবে ভাষা, ইতিহাস, সমাজ ব্যবস্থা এসবের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভিয়েতনামের ২০২৪ সম্ভাব্য জিডিপি ৪৭০ বিলিয়ন ডলার, আমাদের ৪৫৫ বিলিয়ন। মাথাপিছু আয়, রপ্তানি এবং এইচডিআই ইনডেক্স দেখে নিতে পারেন। বড় ফ্যাক্টর বলি, ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ২০ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ৪.২৬ শতাংশ, এরমধ্যে সিঙ্গাপুর এককভাবে ৪ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বাংলাদেশে আগের বছর ৩.৫ বিলিয়ন থেকে ১৭ শতাংশ কমে ২.৯ বিলিয়ন। প্রান্তিক হিসাবে ৩৬ শতাংশ কমেছে, আর জিডিপির ০.৬৪ শতাংশ বা ২.৯ বিলিয়ন ডলার। আমার লেখাগুলো আপনাদের হতাশ করার জন্য না, আমি নিজেও মাঝে মাঝে বিব্রতবোধ করি, তারপরও ডেটা যা তার বাইরে যেতে পারি না, আমাদের ২০২৩ এর রপ্তানি যেখানে ৫৫ বিলিয়ন ডলার, ভিয়েতনাম সেখানে ১৯ বছর আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই আমেরিকাতেই রপ্তানি করে বছরে ৭২ বিলিয়ন ডলার। একটা হিসাব আমি কখনো বুঝি না, বাংলাদেশের অর্থনীতির ৪০ শতাংশ কৃষিনির্ভর হয়ে আমরা যেখানে শষ্য আমদানি করি, সেখানে ভিয়েতনামের অর্থনীতির ২৭ শতাংশ হওয়ার পরও তারা কীভাবে রপ্তানি করে যাচ্ছে। মাথাপিছু হিসাব করে দেখাতে পারবো উর্বর ব-দ্বীপের পলিমাটি থাকার পরও আমাদের শষ্য আমদানি, সেটা চাল, পেঁয়াজ, মরিচ এমনকি চিনি, তেল, লবন পর্যন্ত আমদানি করতে হয়। এফডিআই নিয়ে কথা বলছিলাম, সেখানে আসি। আমরা নীতিগতভাবে ঠিক রাস্তায় আছি, দুইটা জিনিস দরকার, এক ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি যারা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, আর দুই বিশেষ ইকনোমিক জোন তৈরি।

বিডা বা বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি যদিও কাজ করছে, তারপরও বিডার কার্যক্রম সঠিক পথে নেই। বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ সেমিনার করেও যখন বিনিয়োগের জন্য ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রসেসিং কোম্পানিকে আমন্ত্রন জানায়, আমার আমাদের শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগে উৎসাহ দেই। ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস এর রেটিং অনুযায়ী আমাদের অবস্থান ১৯০ দেশের মধ্যে ১৬৮, মূল কারণ ব্যবসা শুরু করতে যতোগুলো ধাপ আছে, তার সংখ্যা অনেক বেশি। ওয়ান স্টপ উইন্ডো চালু করা হলেও ধাপে ধাপে আটকে যায়। আমাদের দরকার ছিলো বিদেশে আমাদের কনস্যুলারগুলোতে কমার্শিয়াল এটাচে নিয়োগ দেয়া, যেখানে আমাদের দূতাবাসগুলো খুবই দুর্বল। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের বা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রোটকল অফিসার হিসাবে কাজ করতে ভালোবাসে। বেজা বা বাংলাদেশ ইকনোমিক জোন অথরিটিও কাজ করছে। মোট ১০০ এমন জোন তৈরির পরিকল্পনা করা, খুবই দামি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, এসব করতে অনেক সময় নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩০টা অঞ্চলে কাজ হয়েছে, তারমধ্যে ১২টা কিছুটা এগিয়ে। এরসঙ্গে টেকনোলজি পার্কের ব্যবস্থা করলেও আমার দেখা হিসাব মতো কোনো এলাকায় ১৪ শতাংশ সর্বোচ্চ বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা গেছে, অন্য কিছু জায়গায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় মিরেরসরাইয়ের ৩৬ হাজার একর জমির জন্য বিনিয়োগকারী পাওয়া গেছে ৮ শতাংশ। বেপজা এখনো আছে, হয়তো সামনে বেপজা ও বেজাকে একীভূত করা হবে।

আমাদের পরিকল্পনায় ভুল নেই, যেটা কাজ করছে না তা হলো বাংলাদেশকে ঠিকমতো ব্রান্ডিং করার জন্য যোগ্য ও অর্থনীতি মনস্ক ব্যক্তি নিয়োগ করা যাচ্ছে না। সরকারি আমলারা বিভিন্ন দেশ বেড়াচ্ছেন, শিখছেন, এরপর আর কাজ এগোচ্ছে না। কাজ হাতে নিলে কাজটা ঈমানদারীর সঙ্গে করতে হবে, এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সমস্যাটা এখানেই। সঠিক পরিকল্পনার পরও সঠিক লোকের অভাবে যেই ইনভেস্টমেন্ট আসার কথা সেটা নেই। বিদেশের বিমানে চড়লে যেই পত্রিকাগুলো পড়তে দেয়া হয়, খুব গুছিয়ে সেটা তুলে ধরে। বিভিন্ন কমার্শিয়াল এটাচেরা বিভিন্ন দেশে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করে। আমাদের বিদ্যুৎ নিয়ে কিছুটা সংকট হলেও সঠিক ব্রান্ডিং বা বাংলাদেশকে ব্রান্ড বানাতে না পারার জন্য পিছিয়ে পরছি। বাংলাদেশে কতোগুলো দেশ ইনভেস্ট করেছে সেটা জানা নেই, কিন্তু ভিয়েতনামে ১০২টা দেশের ইনভেস্টমেন্ট, তারা এমন কিছু করছে যা ভিয়েতনামকে ব্রান্ড হিসাবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মেইক ইন ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইন এতোটাই সফল সেটা ভারতের প্রতিবেশী হিসাবে আমরা অনুসরণ করতে পারতাম, সেটাও পারিনি। বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা তেমন কোনো সফলতা দেখাতে পারেন নি। এই পদটায় আরো যোগ্য কাউকে দিয়ে সঙ্গে একটা বিপণন, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞের একটা টিম দাঁড় করালে হয়তো কাজ এগিয়ে যেতো।

লেখক: কাজী এম. মুর্শেদ – অর্থনীতি বিশ্লেষক


সর্বশেষ - রাজনীতি