1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন মাত্রা

ডেস্ক রিপোর্ট : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠিমারফত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ৪ ফেব্রুয়ারি বাইডেনের চিঠিটি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি, রোহিঙ্গা সংকট, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থনের পাশাপাশি একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্নপূরণে অংশীদারি প্রতিষ্ঠায়ও ঢাকার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

আমাদের নির্বাচন প্রস্তুতি পর্ব থেকে নানাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অনেক দেশের পক্ষ থেকে নেতিবাচক কথাবার্তা বলা হচ্ছিল। এমনকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘এ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি’। সেই সঙ্গে বিরোধী দলের কয়েক হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনে অনিয়মের খবরে দেশটির উদ্বিগ্নতার কথাও বলা হয়েছিল ওই বিবৃতিতে। সে রকম প্রেক্ষাপট থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের নতুন সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করার এ আগ্রহের গতিপ্রকৃতি বিচার-বিশ্লেষণ জরুরি।

স্বাধীনতার ৫২ বছর অতিক্রান্তে আমাদের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতি শূন্য সহিষ্ণুতাÑএ তিন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে নিকট অতীতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন দৃশ্যমান হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এ চিঠি উভয় দেশের জন্য আগামী দিনের সুসম্পর্কের নববার্তা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সেবার গণতন্ত্রের শীর্ষ সম্মেলন থেকেও বাদ দেওয়া হয় বাংলাদেশকে। র‍্যাবের ওপর দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এমন আশঙ্কাও নানা মহল থেকে বারবার উচ্চারিত হয়েছিল। কিন্তু ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় সে আশঙ্কা সত্যি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ৫০ বছরের পুরোনো। ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র দেশে পরিণত হয়। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক বিষয়াদি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, সন্ত্রাস দমন, সামুদ্রিক এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যুতে উভয় দেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশাপাশি কাজ করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা তৈরি পোশাক, জুতা, টেক্সটাইল সামগ্রী ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করি। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় দেড়শ কোটি ডলার রপ্তানি আয় সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ওই সময় দেশটি বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে প্রায় ৫৭০ কোটি ডলারের পণ্য। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য (খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম, ভুট্টা), যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাত পণ্য। ২০২০-২১ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৯৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় ৫ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ওই বছর দেশে ২১২ কোটি ডলারের বেশি অর্থমূল্যের মার্কিন পণ্য আমদানি হয়। পাশাপাশি দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। বর্তমানে দেশে এফডিআইয়ের সবচেয়ে বড় উত্স যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ছিল ৪৬ কোটি ডলার, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেশি। দেশের মোট এফডিআইতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। এর মধ্যে জ্বালানি তেল ও গ্যাস, ব্যাংকিং ও বীমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে অধিকাংশ বিনিয়োগ এসেছে।

২০১৩ সালের এপ্রিলে ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসের ইস্যু কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুনে দেশটির জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) বাণিজ্যসুবিধা স্থগিত করে। জিএসপির ওপর স্থগিতাদেশ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে তেমন প্রভাব ফেলেনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য বস্ত্র ও তৈরি পোশাক জিএসপি সুবিধার আওতাভুক্ত নয়। তবে পুনরায় জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার শর্তপূরণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে কর্মপরিকল্পনা দেয় তার মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিদর্শন, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অগ্রগতি লাভ করে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে আরও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য একক বাজার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব অনেক। বাংলাদেশের সঙ্গে এ বাণিজ্যিক সম্পর্ক সামনে আরও বাড়বে। বাণিজ্যিক খাতে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডের মতো প্রতিযোগী রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থা ধরে রাখতে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নে কৌশলী হতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। এ সময়ে অর্থনৈতিক কূটনীতি বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের অর্থনৈতিক ভিত আরও দৃঢ় করা সম্ভব।

লেখক: ফারিহা জেসমিন ইসলাম – সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


সর্বশেষ - রাজনীতি