রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দন

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিং, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুইতেরেস ও ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমান তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে একটি টুইট বার্তায় জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকার ও বাংলাদেশের জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সমগ্র বাংলাদেশকে ভারতের ১৩০ কোটি জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গত শতাব্দীর মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর সমগ্র জীবন আমাদের সকলের জন্য অনেক বড় প্রেরণা।’

বঙ্গবন্ধুকে একজন সাহসী নেতা হিসাবে অভিহিত করে মোদি বলেন, ‘একজন দৃঢ়চেতা মানুষ, একজন ঋষিতুল্য শান্তিদূত, একজন ন্যায়, সাম্য ও মর্যাদার রক্ষাকর্তা, একজন পাশবিকতাবিরোধী এবং যে কোনও জোরজুলুমের বিরুদ্ধে একজন ঢাল ছিলেন বঙ্গবন্ধু।’

বঙ্গবন্ধুর জীবন একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের জন্য এক মহান বার্তা উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘আমরা সকলেই ভালো করে জানি, কীভাবে একটি নিপীড়ক ও দমনকারী সরকার সমস্ত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ‘বাংলা ভূমির’ ওপর অবিচারের রাজত্ব চালিয়ে জনগণের সর্বনাশ করেছিল। সে সময় যে ধ্বংসলীলা ও গণহত্যা হয়েছিল, সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে বের করে এনে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল সমাজে পরিণত করার জন্য তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন।’

বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন যে ঘৃণা এবং নেতিবাচকতা কখনই কোনও দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে না এবং তাঁর এই ধারণা এবং প্রচেষ্টা কিছু লোক পছন্দ করেনি এবং আমাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান মোদি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং আমরা সকলেই ভাগ্যবান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ঈশ্বরের আশীর্বাদে রক্ষা পেয়েছিলেন। নয়তো সহিংসতা এবং ঘৃণার সমর্থকরা চেষ্টার কোনও কমতি রাখেনি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে, গত ৫-৬ বছরে ভারত এবং বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি সোনালী অধ্যায় রচনা করেছে এবং আমাদের অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা এবং দিশা দিয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার কারণেই আমরা স্থল ও সমুদ্রসীমানার মতো জটিল সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কিন্তু করোনা ভাইরাসজনিত কারণে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমাদের যৌথ ঐতিহ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, লালন শাহ, জীবনানন্দ দাশ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীরা। বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ও অনুপ্রেরণা আমাদের এই ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করেছে। তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে ভারত সর্বদা সংযুক্ত ছিল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এই এই অভিন্ন ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি

জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি বলেন, ‘যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে আমি অভিনন্দন জানাই উনার দৃঢ় নেতৃত্বের জন্য।’

তিনি নেপালি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত করার চেষ্টার জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাই।

বাংলাদেশ ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মধ্যে অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের পর্যটন, কানেক্টিভিটি, পানিসহ অন্যান্য অনেক বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশের সব নদীর উৎপত্তি নেপালে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে দুইদেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিং তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জন্মশতবার্ষিকীর জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবানাদর্শে প্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের জনগণ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুইতেরেস বলেন, বঙ্গবন্ধু ভিশন অনেককে উজ্জীবিত করেছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ শান্তি ও সংহতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এদিকে এক টুইট বার্তায় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে লিখেছেন, ‘নিজের জীবন ও কর্মের জন্য তিনি সারা বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ।’


আরও সংবাদ