শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
মসজিদের দানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মামুনুল অনুসারী হেফাজতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১ হেফাজতভক্ত সাম্প্রদায়িক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে ছাত্রলীগ : পাওয়া মাত্রই বহিষ্কার মুজিবনগর দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘সোনার বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে’ প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বিএনপি কেন পালন করে না মুজিবনগর দিবস? মামুনুল কাণ্ডে টালমাটাল হেফাজত যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার মামুনুল কিংবদন্তী কবরীর জীবনাবসান চট্টগ্রামের ৩০০ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিবিরের স্টাইলে কৃষক লীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিল ‘হেফাজত’ করোনা রোগীদের শয্যা প্রাপ্তিতে ছাত্রলীগের মানবিক টিম

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের টিস্যু রপ্তানি হচ্ছে ১১টি দেশে

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১

রুমাল ছাড়া একটা সময় একজন ভদ্রলোককে কল্পনা করা কঠিন ছিল। কোনো যাত্রায় বের হলে পকেটে একটা রুমাল ছিল অতি জরুরি অবিচ্ছেদ্য উপকরণ। ঘাম মুছতে বা যেকোনো ময়লা মুছতে রুমালের বিকল্প ছিল না।

বিয়েশাদি বা বড় কোনো উৎসব-পার্বনে একসময় হাত পরিষ্কারে রাখা হতো গামছা।

এখন টিস্যু পেপার আসায় বিদায় নিয়েছে গামছা ও রুমাল। টিস্যু পেপার এখন জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য উপকরণ। টিস্যুর উপজাত স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপারও এখন বিকল্পহীন।

একসময় শৌখিন পণ্যের তালিকায় থাকত টিস্যু পেপার। এখন মধ্যবিত্ত, এমনকি নিম্নবিত্তের ঘরেও এটি ঠাঁই করে নিয়েছে। টিস্যু পেপার এবং এর অন্যান্য উপজাত পণ্যের ব্যবহার দেশে দিন দিন বাড়ছে।

 

নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ, পুরুষের পকেট, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসের বাথরুম থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের ডেস্ক– কোথায় নেই এই টিস্যু। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানেও এটি এখন দরকারি উপকরণ। টিস্যু এখন নিত্যপণ্য।

দেশে টিস্যু পেপারের চাহিদা মেটাচ্ছে স্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোই। ব্যবহারকারীর চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পণ্যে বৈচিত্র্য আনছেন উৎপাদকেরা। যেমন খাওয়া শেষে হাত-মুখ ধুতে সফট টিস্যু, বাথরুমে ব্যবহারের জন্য টয়লেট টিস্যু, খাবারের প্লেট-গ্লাস মোছার জন্য টাওয়েল টিস্যু, বাচ্চাদের মলমূত্র এড়াতে ডায়াপার।

আবার এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাল, সাদা, নীল, সবুজসহ বাহারি রং ও ডিজাইন। তাতে মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন ফুলের সুবাস। উৎপাদকেরা এর আধুনিকায়নেও মনোযোগ বাড়িয়েছেন। ফলে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে এগুলোর চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

২০০২ সালে দেশে ১০০ টন টিস্যু সরবরাহ হয়েছে। এখন এর বাজার চাহিদা বছরে ৬ হাজার টনের মতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই টিস্যু ও টিস্যু উপজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে সিঙ্গাপুর, নেপাল, ভারত, মালয়েশিয়া, আফ্রিকাসহ বিশ্বের ১১টি দেশে। বছরে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন টিস্যুপণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দেশে টিস্যু পেপারের অন্যতম উৎপাদক কোম্পানি বাংলা টিস্যুর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন জানান, অন্তত ১৫ শতাংশ মানুষ দেশে নিয়মিত টিস্যু ব্যবহার করছে। প্রতিবছর বাজার বাড়ছে ২০ শতাংশ হারে। এখন ৩৫ থেকে ৪০টির মতো উৎপাদক কোম্পানি ও কনভার্টিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি উৎপাদন করছে ২০টির মতো প্রতিষ্ঠান।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বসুন্ধরা, মেঘনা, জননী, ক্যাসপার, সুপারস্টার, বাংলা, সফটি, আমেনা, নোভা, হাক্কানি ও সিদ্দিক পেপার মিল। বাকিদের বেশির ভাগই কনভার্টিং।

তিনি আরও জানান, দেশে টিস্যু উৎপাদনে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের টিস্যু। এ খাতে এককভাবে তাদের বাজার অংশীদারত্ব ৬০-৬৫ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব মেঘনার ফ্রেশ টিস্যুর এবং ১০ শতাংশ বাংলা টিস্যুর।

দেশে প্রতিদিন টিস্যুর চাহিদা ১৫০ থেকে ২০০ টন। এই তিনটি কোম্পানি প্রতিদিন যথাক্রমে ৮০ টন, ৩০ টন এবং ২০ টন উৎপাদন করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. মামুন হোসেন জানান, দেশে টিস্যুর বাজার রয়েছে ৮০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার। প্রায় এর সমপরিমাণ রপ্তানি হচ্ছে।

বাজারে জননী ব্র্যান্ডের টিস্যু সরবরাহ করছে জননী গ্রুপ। এর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মো. সোহেল বলেন, অতি অল্প সময়ে টিস্যু বাংলাদেশে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে এমন নজির কম। তিনি দাবি করেন, বিলাসী পণ্য থেকে নিত্যপণ্যের কাতারে চলে এসেছে টিস্যু পেপার, আর তা সম্ভব হয়েছে স্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে।

এই কর্মকর্তা জানান, দেশি টিস্যু পেপারের গুণগত মান খুব ভালো। দেশে এর ব্যবহার বাড়লেও এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠই টিস্যু ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। তবে প্রতিবছর যে হারে এর বাজার বাড়ছে, তাতে বাংলাদেশের এ শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কোম্পানিগুলোরও প্রস্তুতির ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তারা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

দেশে টিস্যু পেপারের ব্যবহার বাড়লেও দাম কেন বেশি– এ প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, ‘টিস্যু হচ্ছে সম্পূর্ণ শিল্পজাত পণ্য। যার কাঁচামাল পাল্প প্রায় সবটাই আমদানিনির্ভর। বৈশ্বিকভাবে এর দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদকদের সে হারেই মূল্য নির্ধারণ করতে হয়।’

তিনি জানান, প্রতি টন পাল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এক হাজার ডলারের মতো খরচ পড়ে। এই খরচ সমন্বয় করে উৎপাদন-পরবর্তী ক্রেতাপর্যায়ে দাম যা রাখা উচিত, তাই করছে কোম্পানিগুলো।

জানা গেছে, বিশ্বে টিস্যু পেপারের প্রথম প্রচলন হয় ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দে, চীনে। টয়লেট টিস্যুর প্রচলন শুরু হয় ১৮৫৭ সালে। তবে টিস্যুর জনপ্রিয়তা তৈরি হয় ১৮৯০ সাল থেকে, যখন টিস্যুকে রোল করে আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারজাত করা শুরু হয়। বাংলাদেশে ১৯৮৭ সালে ফে ব্র্যান্ডের নামে প্রথমে টিস্যু বাজারজাত করে কল্লোল ইন্ডাস্ট্রিজ। এরপর ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে বসুন্ধরা গ্রুপ।

এ প্রসঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, বসন্ধুরাই প্রথম দেশে টিস্যু পেপার উৎপাদনে সবচেয়ে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে। এর মাধ্যমে দেশে টিস্যু ব্যবহারে মানুষের সংস্কৃতি, রুচিবোধও পালটে দেয় বসুন্ধরা। পণ্যের গুণগত মান এবং নিত্যনতুন আইটেম, ডিজাইন ও ফ্লেভারে অল্প সময়েই ক্রেতা তৈরি করে দেশের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয় এই প্রতিষ্ঠান।


আরও সংবাদ