জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাবস্থায় সেই অপরাধীদের বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে চাকরি এবং পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছিলেন। দেশের বিপক্ষে বিভিন্ন ষড়’যন্ত্রে লিপ্ত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। খালেদা জিয়ার আমলেও এ পরিস্থিতি চলমান থাকে।

১৯৭৬ সালের ৮ জুন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে ১২ জনকে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়েছিল-

১. শরিফুল হক ডালিম (মেজর ডালিম), চীনে প্রথম সচিব।

২. আজিজ পাশা, আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব।

৩. একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব।

৪. বজলুল হুদা, পাকিস্থানে দ্বিতীয় সচিব।

৫. শাহরিয়ার রশীদ, ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব।

৬. রাশেদ চৌধুরী, সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব।

৭. নূর চৌধুরী, ইরানে দ্বিতীয় সচিব।

৮. শরিফুল হোসেন, কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব।

৯. কিসমত হাশেম, আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব।

১০. খায়রুজ্জামান, মিশরে তৃতীয় সচিব।

১১. নাজমুল হোসেন আনসার, কানাডায় তৃতীয় সচিব।

১২. আবদুল সাত্তার, সেনেগালে তৃতীয় সচিব।

এই ১২ জনের নিয়োগপত্র ঢাকা থেকে লিবিয়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের একান্ত আস্থাভাজন শমসের মবিন চৌধুরী। এর আগে একই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে তাদের সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতার জন্য তৎকালীন মেজর জেনারেল নুরুল ইসলাম লিবিয়ায় যান।

 

১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ফরেন সার্ভিস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। তবে উল্লিখিত ১২ সেনা কর্মকর্তা ফরেন সার্ভিসে যোগ দিতে রাজি হলেও প্রধান দুই হোতা ফারুক ও রশীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সমঝোতা করে চাকরি না নিয়ে ব্যবসা করার মনস্থির করেন। পরে জিয়া তাদের ব্যবসার মূলধন হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা করেন। ফারুক ও রশীদ লিবিয়ার গাদ্দাফি সরকারের বিশেষ অনুকম্পা লাভ করেন।

সেই ঘৃণ্য অপরাধীদের স্বার্থরক্ষার জন্য জিয়া-খালেদা সরকার রীতিমতো প্রতিযোগিতায় মত্ত থেকেছে। প্রয়াত বেনজির ভুট্টো সরকার পাকিস্থানে মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও সৌদি সরকার তাকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশন উপপ্রধান হিসেবে গ্রহণ করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মেজর ডালিমকে বেইজিং থেকে হংকংয়ে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে পোল্যান্ডের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিয়োগ দেওয়া হলে সে সময়ে সমাজতান্ত্রিক পোল্যান্ড সরকার তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। পরে তাকে কেনিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

মেজর নূর তখন ব্রাজিলে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর আগে তিনি আলজেরিয়ায় কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

মেজর রাশেদ চৌধুরী টোকিওতে কাউন্সিলর পদে নিযুক্ত ছিলেন।

মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন সৌদি আরবের মিশন উপপ্রধান হিসেবে (বেনজির ভুট্টোর সরকারও করাচিতে একই পদে তার নিয়োগ গ্রহণ করেনি)।

মেজর শরিফুল হোসেন ওমানে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

মূলত, এই জিয়াউর রহমান ছিলেন ক্ষমতালোভী। যখন বিপথগামীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিষয়ে জিয়াউর রহমানের কাছে পরামর্শের জন্য আসে, সে সময় তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উৎসাহ দেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কর্নেল ফারুক, রশিদ, মাজেদরা এ ঘটনায় জিয়ার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেন।

যার প্রমাণ দেখা যায়, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর তার আশে-পাশে সেই অপরাধীরা থাকলেও তাদের কোনো প্রকারের সাজা না দিয়ে উল্টো বহাল তবিয়তে জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেন।