1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

রাজনীতিতে জরুরি বিশ্বাস ও পারস্পরিক আস্থা

ড. সুলতান মাহমুদ রানা : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩

সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলের আগ্রহ ততই বাড়ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখনো নির্ধারিত সময়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের বিকল্প কিছু ভাবছে না। অন্যদিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে নির্বাচনে না যাওয়ার প্রশ্নে অনড় বিএনপি ও তার মিত্ররা। পরিস্থিতি যা-ই হোক, বিএনপির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো কতটুকু যৌক্তিক হবে সেটি তাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। রাজনীতিতে সফল হওয়ার মূল শক্তি হলো গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার এবং সহনশীল মানসিকতা। রাজনীতিতে টানাপড়েনের মাত্রা বেশি হলে, সেখানে আস্থার জায়গা নষ্ট হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সেটি ভঙ্গুর হয়ে ওঠে। গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রায়ই উচ্চারিত উইনস্টন চার্চিলের ভুলভাবে উল্লিখিত একটি উক্তির সঙ্গে আমরা মোটামুটি পরিচিত। তিনি বলেছিলেন, ‘কেউই ভান করে না যে গণতন্ত্র নিখুঁত বা সব কিছুর জবাব আছে এতে। বাস্তবিকই বিভিন্ন কালান্তরে অন্য যেসব পদ্ধতির প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেগুলোকে বাদ দিলে গণতন্ত্র হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট ধরনের সরকার পদ্ধতি।’ চার্চিল নিঃসন্দেহে ঠিকই বলেছেন। গণতন্ত্র গোলমেলে; এটা পরিশুদ্ধ বা পূর্বানুমানযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নয়। আর এমনই এক গোলমেলে ধরনের শাসনব্যবস্থা হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র। অনেকটা ‘সালিস মানি তালগাছটা আমার’ ধরনের গণতন্ত্র বিদ্যমান।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক মাঠকে অনেকটা ব্যস্ত করে তুলেছেন। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মূল প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কি বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে, নাকি নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে? বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বিএনপি। ১২ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বিএনপি দৃঢ়ভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পারলাম যে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে এক দফার আন্দোলনে চূড়ান্ত রূপ দিতে জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। বিএনপি নির্বাচনের মাঠকে অনুকূল মনে না করে নির্বাচনে না যাওয়ার যে হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছে, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পুনরায় গোলমেলে ও চরম সংঘাতময় করে তোলার সংকেত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

১৯৯০ সালের তিন জোটের রূপরেখায় রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছিল সেটি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে রাজনীতির টানাপড়েন এবং আস্থা-অনাস্থার সংকটে। ১৯৯১ সালের অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও ওই সরকারের অধীনে যে উপনির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয় তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়। ওই সময়ের সংকটাবস্থার মধ্যেই ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াই বিএনপি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলে সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করে। আবার ২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কে এম হাসানকে মনোনীত করার লক্ষ্য নিয়ে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়। আর এভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যাত্রায়ও বাধা সৃষ্টি হয়। ক্রমেই রাজনীতিতে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটি নষ্ট হতে থাকে।

বিএনপি যদি ভোটে না গিয়ে নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকার পতনের ইস্যু সামনে আনে, সেটি কোনোভাবেই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনী ট্রেন চলে এলে, সেটি আর কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। রাজনীতির মাঠে গোল কে খাবে আর কে দেবে, সেটা বড় কথা নয়। আমরা চাই স্থায়ী, গ্রহণযোগ্য এবং ন্যায্য সমাধান। তবে সমাধান ও সমঝোতার টানাপড়েনে বাংলাদেশে নতুন করে আবার কোনো ১/১১ হোক, এটা আমরা কেউই চাই না। ধারণা করা যাচ্ছে যে দেশে আসন্ন নির্বাচনকেন্দ্রিক অনাস্থার সংকট চলতে থাকলে সংঘাতময় পরিস্থিতি ব্যাপকতর হতে পারে। কারণ খুবই পরিষ্কার। বাংলাদেশের রাজনীতি মোটামুটিভাবে দুটি মেরুতে বিভক্ত। একটি আওয়ামী মেরু আর অন্যটি বিএনপি কিংবা আওয়ামীবিরোধী মেরু।

একটি সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বর্তমানে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এরই মধ্যে লক্ষ করেছি যে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী নির্বাচন সামনে রেখে দুই বড় দলকে ইতিবাচক করে তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপরতা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে যে উভয় দলই (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণে বিভিন্ন সাংগঠনিক ও দলীয় কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সিভিল সমাজসহ বিশিষ্টজনরা নির্বাচনমুখী আলোচনায় ব্যস্ত। কারণ সবাই চায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

কিন্তু বিএনপির যে রাজনৈতিক মনোভাব আমরা লক্ষ করছি তাতে নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা না হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সহিংসতার মাত্রা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি এবং প্রত্যক্ষ সহিংস কার্যক্রমের পরিমাণগত পরিবর্তন সন্দেহাতীতভাবে ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেশের রাজনীতিতে জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বৃদ্ধিরও আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আমরা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারি যে বাংলাদেশকে যেকোনোভাবেই অনিরাপদ প্রমাণ করতে মরিয়া রয়েছে একটি কুচক্রী মহল। ফলে রাজনৈতিক টানাপড়েনের সুযোগ নিয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে উঠবে—এটি খুব স্বাভাবিক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের অন্যতম নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা থাকলেও আমাদের দেশের কিছু রাজনৈতিক দল নিরাপত্তার শঙ্কা হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে প্রতিনিয়ত সরকারকে বিপাকে ফেলার টার্গেট নিয়ে থাকে ওই সব রাজনৈতিক সংগঠন। এতে যদি সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্নও হয় তাতে তাদের মাথাব্যথা থাকে না। এখানে ক্ষমতায় যাওয়ার ঘৃণ্য প্রতিযোগিতাই অধিকভাবে লক্ষ করা যায়।

কাজেই সব শেষে এ কথা বলেই শেষ করতে চাই যে দেশে কোনো অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক সেটি দেশবাসীর কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কিংবা নির্বাচনে রেফারি কে হবে তার চেয়ে বড় কথা হলো—সময়মতো সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে ক্ষমতাসীন দল এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক মনোভাব পোষণের ভিত্তিতে নমনীয় অবস্থান তৈরি করা। নির্বাচন বানচাল করার কোনো অপতৎপরতা কিংবা সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এটা মানবে না।

লেখক: ড. সুলতান মাহমুদ রানা – অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ