রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

বহুল প্রত্যাশিত ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট সহায়তায় সম্মত বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদক:
আপডেট : সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১৮

দীর্ঘদিন ধরে দেনদরবারের পর অবশেষে মিলছে বহুল প্রত্যাশিত বিশ্বব্যাংকের বাজেট সহায়তা। আগামী তিন অর্থবছরে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক।
২০১৮-১৯ অর্থবছরসহ ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা করে দেয়া হবে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শিগগিরই বিশ্বব্যাংকের মিশন বাংলাদেশ সফরে আসছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি বাজেট সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে সর্বশেষ চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। ১৫ মার্চ বিশ্বব্যাংক থেকে জানানো হয়, বাজেট সহায়তা (ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট) হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ২০ মার্চ ইআরডি থেকে বিষয়টি জানিয়েও দেয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) উইন্ডো থেকে এ সহায়তা দেয়া হবে। এতে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে এবং ৬ বছরের রেয়াতকালসহ ৩৮ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
বাজেট সহায়তা সরকারের জন্য এত কাঙ্ক্ষিত কেন- জানতে চাইলে ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম রোববার যুগান্তরকে বলেন, বাজেট সহায়তা হচ্ছে এমন একটি সহায়তা, যেটি নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের বিপরীতে দেয়া হয় না।
এ সহায়তার অর্থ সরাসরি সরকারের ট্রেজারিতে জমা হয়। তারপর সেখান থেকে সরকার প্রয়োজন মতো গুরুত্ব বুঝে যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ করতে পারে। তবে এ ঋণেও বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত মেনেই অর্থ ব্যয় করতে হয়।
অন্যদিকে প্রচলিত সাধারণ ঋণ নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য দেয়া হয়। সেই টাকা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা থাকে। ইআরডির ফাবা উইংয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বাজেট সহায়তা সরকার স্বাধীনভাবে ব্যয় করতে পারে। এ ঋণের অর্থ ছাড়ও হয় দ্রুত। জটিলতা কম। তাই সরকারের কাছে বাজেট সহায়তা সাধারণ সহায়তার চেয়ে আকর্ষণীয়।
ইআরডি জানায়, এর আগে সর্বশেষ ২০০৮-৯ অর্থবছরের বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাজেট সহায়তা দিয়েছে সরকারকে। সেসময় এ সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
তারও আগে ২০০৩ সালে আরেকবার বাজেট সহায়তা পাওয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান মাহমুদা বেগম।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোট কত বাজেট সহায়তা পাওয়া গেছে, এরকম কোনো হিসাব এ মুহূর্তে মনে নেই। তবে বিশ্বব্যাংক ছাড়াও বিভিন্ন সময় বেশ কিছু সংস্থা বাজেট সহায়তা দেয় সরকারকে। কিন্তু তার পরিমাণ খুব কম।
সূত্র জানায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের পর আর কোনো বাজেট সহায়তা দেয়নি বিশ্বব্যাংক। পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতুর অর্থায়নকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয় সরকারের।
ফলে সংস্থাটির কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে পরবর্তী কয়েক বছরে তেমন আগ্রহ দেখায়নি সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান পরিবর্তন করে ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পেতে ব্যাপক আগ্রহ দেখানো হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির বেশকিছু শর্ত মেনে কর্মকর্তা পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনাও হয়। ওই বছরের ১০-১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের ব্যাংক ফান্ড সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার দেয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সম্মতিও জানায় বিশ্বব্যাংক। তবে এজন্য বেশকিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও আর্থিক খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব ছিল।
সে অর্থবছরে বাজেট সহায়তা আর মেলেনি। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক এবং সংস্থাটির দক্ষিণ এশীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের বাংলাদেশ সফরের সময়ও বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়। এমনকি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের সময়ও বিভিন্ন আলোচনায় বাজেট সহায়তার বিষয়টি উঠে আসে।
এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে কিছুটা সহজ শর্তে অর্থাৎ বাজেট সহায়তার মতো করে ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু সেগুলোকে কর্মসূচি সহায়তা বলা হলেও বাজেট সহায়তা বলা হয়নি। এবারই অফিসিয়ালি বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক।


এ বিভাগের আরও সংবাদ