বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:১৫ অপরাহ্ন

বিএনপির তৃণমূল অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতাদের মূল নেতৃত্বে দেখতে চায়

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৮

বিশেষ প্রতিবেদন: খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার প্রাক্কালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার পর কিছু গুঞ্জনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তি পরিস্থিতি থেকে এখন বিএনপির সকলেই অনুভব করছেন যে সিনিয়র নেতাদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করাই যথার্থ হত। সেক্ষেত্রে বিএনপির সমর্থক ও অন্যান্য মহলে গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করলে ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান ও মির্জা আব্বাস প্রমুখ নেতা নিঃসন্দেহে শীর্ষে অবস্থান করা উচিত। তবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ফখরুলকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাইছেন দলের নেতাকর্মীরা।

যেকোন রাজনৈতিক দলের প্রধান দেশের বাইরে গেলে বা কারাগারে থাকলে দেশে অবস্থানরত সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে দেখা গেল লন্ডন পলাতক তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। এটি শুধু নিয়ম বহির্ভূতই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্ণীতিবাজ হিসেবে পরিচিত রুক্ষ মেজাজী তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় দলের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এছাড়া এর মাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পক্ষান্তরে অবিশ্বাস ও অমর্যাদা করা হয়েছে। সকলেই আশা করেছিল মির্জা ফখরুলই দলের নেতৃত্বের হাল ধরবেন। খালেদা জিয়ারও এতে আপত্তি ছিল না বলে একটি সূত্রে জানা যায়। কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু বিএনপি নেতা, তারেক রহমানের রাজনৈতিক অপরিপক্কতার সুযোগ নিয়ে এতে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বিএনপিতে হাল ধরার মত নেতাদের মধ্যে ফখরুল ছাড়াও মাহবুবুর রহমান, মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, মেজর আখতারুজ্জামান প্রমুখ সিনিয়র নেতাদের দলে গ্রহণযোগ্যতা আছে। অন্যদিকে রুহুল কবীর রিজভী বা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মত জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলেও তারেক রহমানকে প্রভাবিত করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। গাজীপুর ও খুলনার আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে রিজভী বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সিনিয়র নেতাদের দৃঢ়তার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণে সম্মতি দিতে বাধ্য হয় তারেক রহমান।

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রিজভী মিথ্যাচার করেছিল কিন্তু মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়ার সুস্থতার তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন জাতিকে। যার ফলে ফখরুলের প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের আস্থা আরো বেড়ে গেছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য অযথা আন্দোলন করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেয়ে, চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয় করে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, যা সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করে গণতন্ত্রের পথকে যেভাবে সুগম করছেন তা তারেক রহমানের পক্ষে কখনোই সম্ভব হত না। শীর্ষ নেতাদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় না এলেও সংসদে আসার পথ সুগম হবে। আবার ঐক্যমত্যের ধারণায় কয়েকটি মন্ত্রণালয় দেয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন চলছে।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিশ্লেষকদের অভিমত, বিএনপিতে তারেক রহমানের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ ও সিনিয়র নেতাদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ও গতি ফিরে আসবে এবং তারা অভিজ্ঞতার আলোকে দলকে পরিচালনার সুযোগও পাবেন।


আরও সংবাদ