শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ মুজিববর্ষে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা হাসি ফিরেছে পাট চাষিদের মুখে

করোনা সংকটে দেশের মানুষের পাশে প্রবাসীরা

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০

সংকটে কাজ হারানো মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে প্রবাসীদের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানা গেছে।

করোনা মহামারিতে আর্থিক সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীরা তহবিল গঠন করছেন। টেক্সাসভিত্তিক বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ শাফকাত রাব্বী তাদের একজন। ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় রাব্বি দর্শকদের পরিস্থিতি অনুধাবনে সহযোগিতার দুটি ছবি প্রকাশ করেছেন। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, টেক্সাসে তার বাড়ির দরজার সামনে দুই সপ্তাহ চলার মতো খাবার ও পণ্য মজুদ করা আছে। আরেকটি ছবিতে জীর্ণ বাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চাল ও ডাল ছাড়া কিছুই নেই।

রাব্বী বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে অনেক মানুষের এটাই প্রতিদিনের খাবার। একেবারে দরিদ্র মানুষেরা খুব বেশি খায় না কিন্তু নানারকম খাবার খাওয়ার বিলাসিতাও তাদের নেই। আমরা, সুবিধাপ্রাপ্তরা এই সংকটের সময় তাদের সহযোগিতা করতে পারি।
মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২ জন এবং আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের।
আল জাজিরাকে রাব্বী বলেন, গণহারে খাবার বিতরণের চেয়ে আমি একটু দীর্ঘমেয়াদি কিছু করার চেষ্টা করছি। করোনার বন্ধের কারণে জীবিকা হারিয়েছেন এমন ১০০ পরিবারকে আমি তিন মাস খাবার দেব।

তিনি জানান, তার প্রথম লক্ষ্য ছিল ১০ হাজার ডলার সংগ্রহ করা, যা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সংগৃহীত হয়েছে। যারা দান করেছেন তাদের বেশিরভাগই তার অপরিচিত।

রাব্বী বলেন, মানুষের স্বার্থহীন সাড়া দেওয়াটা মুগ্ধ হওয়ার মতো।

ঢাকাভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রিসোর্স কোঅর্ডিনেশন নেটওয়ার্কের (আরসিএন) সঙ্গে কাজ করছেন এই শিক্ষাবিদ। আরসিএনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাহিয়া রহমান বলেন, দরিদ্র মানুষদের কাছে পৌঁছানোর মতো স্বেচ্ছাসেবী তাদের রয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের কাছ থেকে আমরা অনেক তহবিল পাচ্ছি। ফেসবুকে বাঁচারলড়াই নামে হ্যাশট্যাগ চালু হয়েছে। এই হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সহযোগিতায় একত্রিত হচ্ছেন।

আরসিএন’র স্বেচ্ছাসেবক শরণ রহমান জানান, প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল ও ডাল কিনে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের অন্তত এক মাসের খাবার দিচ্ছি যাতে করে তা একটু স্থায়ী হয়। এছাড়া এর ফলে তাদের এই সংকটের সময়ে অন্য কারও কাছে সহযোগিতার জন্য যেতে হবে না।

আনওয়ার আলী নামের এক দিনমজুর জানান, চাল ও ডাল পেয়ে তাদের জীবন বেঁচেছে। তার কথায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনও আয় নেই। এখন এগুলো দিয়ে অন্তত সন্তানদের খাওয়াতে পারব।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনভিত্তিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাজনীন সুলতানা বাংলাদেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেছেন, দেশে একটি গার্মেন্ট কারখানার সঙ্গে ইতোমধ্যে তিনি যোগাযোগ করেছেন যারা মাত্র ৪ ডলারে পিপিই সরবরাহ করবে।

নাজনিন সুলতানা বলেন, আমি ১৫ হাজার ডলার সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। চিকিৎসকদের মধ্যে পিপিই বিতরণের জন্য আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কয়েকটি এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করব।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি আইনজীবী রেজোয়ানা মোসলেমও অর্থ সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, সিডনিতে যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন তাদের জন্য আমি অর্থ সংগ্রহ করছি। এসব শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ পড়াশোনা ও থাকার ব্যয় বহনের জন্য পার্ট টাইম চাকরি করতেন। কিন্তু করোনার বিস্তারে তারা কাজ করতে পারছে না। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট রয়েছে। তাদের সহযোগিতার জন্য আমি কাজ করছি।

রেজোয়ানা বলেন, করোনার সংক্রমণের প্রভাব আমাদের সবার জীবনে পড়েছে। কিন্তু যারা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি তারা যদি সংকটে পড়া মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি তাহলে সবাই একসঙ্গে এই কঠিন পরিস্থিতি পাড়ি দিতে পারব।


আরও সংবাদ