শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

ত্রাণ আত্মসাতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ নেওয়ায় পৌর মেয়রকে আ.লীগ থেকে অব্যাহতি

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০

ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার প্রশাসনের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তাকে মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকায় পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা দলের সব ধরনের পদ থেকে আব্দুল বাতেনকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন টেলিফোনে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও সম্পাদককে জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক আব্দুল বাতেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২২৯ বস্তা সরকারি ত্রাণের চালসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার (৬০)। এ ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনা মুখে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ‘আব্দুল বাতেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিভিন্ন বিতর্কিত কাজ করে আসছিলেন। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অবৈধ নৌবন্দর পরিচালনা, জামাত ও বিএনপির লোকজনকে প্রশ্রয় দেওয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। আব্দুল বাতেনের কারণে দল বার বার বিব্রত হয়েছে। সর্বশেষ ত্রাণের চাল চুরি করে গ্রেফতার হওয়া চেয়ারম্যানের পক্ষে তদবির করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’

এদিকে, কোরবান আলীকে মুক্ত করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন স্থানীয় (পাবনা-২) সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ফিরোজ কবীর। মঙ্গলবারই কোরবান আলীর জামিনের জন্য নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন তিনি। বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে তিনি সাজানো ঘটনায় কোরবান আলীকে ফাঁসানো হয়েছে উল্লেখ করেন। আহমেদ ফিরোজ কবীর বলেন, ‘ঢালারচর একটি সন্ত্রাস ও চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা। নিরাপত্তার স্বার্থে চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার চালের বস্তা ইউনিয়ন পরিষদে না রেখে নিজ গুদামে মজুত করছিলেন। তার আত্মসাতের কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। কোনও একটি মহল তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

তবে র‌্যাব-১২ পাবনা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার ওই চাল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন বলেই জানানো হয়েছে। র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কমান্ডার আমিনুল কবীর তরফদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার র‌্যাব জানতে পারে বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার ভিজিডি ত্রাণের চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে না রেখে গভীর রাতে রূপপুর ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ঘরে মজুত করছেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে র‌্যাব হাতেনাতে ওই চাল উদ্ধার করে এবং চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে আটক করে। রাতে আমিনপুর থানায় মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে তাকে পাঠানো হয়।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ‘ত্রাণের চাল কোনওভাবেই ব্যক্তিগত গুদামে রাখার সুযোগ নেই। কোরবান আলী সরদার ইউনিয়নের সীমানার বাইরে বেআইনিভাবে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। সেখানে ত্রাণের চাল মজুত করার বিষয়েও তিনি প্রশাসনকে অবহিত করেননি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, ‘করোনা দুর্যোগের এই সময়ে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোমতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ত্রাণের চাল আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’ স্থানীয় সংসদ সদস্যের অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান তার ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।


আরও সংবাদ