রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

দেশের ভয়াবহ সঙ্কটকালে মিথ্যাচার, গুজব ও প্রতিহিংসার রাজনীতি!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

আবদুল্লাহ হারুন জুয়েল: করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় সারাবিশ্ব যখন বৃত্তবন্দি, তখন উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারি, রাজনৈতিক নেতাকর্মি, বিভিন্ন সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য ত্রাণ এবং সুলভ মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি সকল শ্রেণীর মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা নজিরবিহীন ও বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচায়ক।

দুটি শ্রেণীর কবলে দেশবাসী:
একটি শ্রেণীর অসহযোগিতা এবং আরেকটি শ্রেণী কর্তৃক সঙ্কটকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লাভের অপরাজনীতি ও অযৌক্তিক বিরোধিতা স্পষ্টত দৃশ্যমান, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।
একদিকে দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী অসচেতন। তাদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অনেকে আবার ধর্মীয় ইস্যুর সন্ধানও করছেন।
অন্যদিকে তৎপর রয়েছে কট্টর আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী চক্র। মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে তারা বেছে নিয়েছে করোনা মহামারীর সময়টিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও মিথ্যাচার ছাড়াও শুধুমাত্র বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতায় সক্রিয় তারা।
জনসাধারণকে সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সচেষ্ট রয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এর বেশি আর কতটুকু সম্ভব জানি না! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি যেভাবে অপরাজনীতি ও মিথ্যাচার করছে, তার বিপরীতে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি।

বিশ্বের মহাদুর্যোগে দুর্নীতি ও অনিয়ম:
দুর্নীতির কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা বা ভূখন্ড নেই। ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের দারিদ্রসীমার নীচে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য ত্রাণের আর্থিক মূল্য – জন প্রতি মাসিক ৭ ডলার এবং এতেও দুর্নীতি রোধই মুখ্য বিবেচ্য। ফরেন পলিসি তাদের পোর্টালে করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় দুর্নীতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছে। খোদ যুক্তরাষ্টকেই ত্রাণ ও অনুদান নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পরামর্শ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

ত্রাণ বিতরণ এখনো শুরু হয় নি:
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, সরকার এখনো ত্রাণ বিতরণ শুরু করে নি। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ দেয়ার ঘোষণা করেছেন মাত্র।
ভিজিএফ ও টিসিবির সুলভ মূল্যের পণ্য বিতরণ হয়েছে। তাই ত্রাণের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে সঠিক তথ্যের অভাবে। তবে তার মানে এই নয় যে সংঘটিত অনিয়ম উপেক্ষা করতে হবে।
জামালপুর, বরিশাল ও মাগুরায় চাল-আলু ছিনতাই হয়েছে! কুষ্টিয়ার খোকসার ওসমানপুর ইউনিয়নে চাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহে মেয়রকে মারধর করে ত্রাণের টাকা ছিনতাই হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ত্রাণ আত্মসাতের বিরুদ্ধে সরকার হার্ড লাইনে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ জন চেয়ারম্যান এবং ১৮ জন মেম্বারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের পক্ষ নেয়ায় এক মেয়রকে বরখাস্ত ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দেশে স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় ৬১ হাজারের বেশি জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। এরা সকলেই মানুষ, কেউ ফেরেস্তা নন। গুটিকয়েক জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা/কর্মচারি বা নেতার জন্য গোটা স্থানীয় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচিন কিনা ভেবে দেখা উচিত। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অনিয়মে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান রয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার পরও যারা সাধুবাদ জানানোর পরিবর্তে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদেরকে ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই।

অপপ্রচারকারীদের কালো ইতিহাস:
বলতে দ্বিধা নেই যে, বিএনপি জামায়াতের একটি অংশ বর্তমানে গুজব, মিথ্যাচার ও অসন্তোষ সৃষ্টিতে সচেষ্ট রয়েছে। অথচ তাদের অতীত কিন্তু বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ। কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি:-

  • ১. সিলেটের সাবেক সাংসদ বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরীর বাড়ি ও পুকুর থেকে ত্রাণের পৌনে ৩০০ বান ঢেউটিন ও বিপুল পরিমাণ জীবন রক্ষাকারী সয়াপ্রোটিন বিস্কুট উদ্ধার করা হয়েছিল।
  • ২. খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপির সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালুর সিরামিক কারখানা থেকে ‘সরকারি ত্রাণসামগ্রী, বিক্রয়ের জন্য নহে’ লেখা মনোগ্রাম সংবলিত টিন উদ্ধার হয়েছিল।
  • ৩. বিএনপি নেতা সাবেক টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ত্রাণ ও ত্রাণের টিন আত্মসাতের মামলা হয়েছিল।
  • বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে টিসিবি ছিল অকার্যকর, ত্রাণের নামে নিম্নমানের চাল ক্রয়, এমপি হেলালের গম কেলেঙ্কারি, খুলনায় জামায়াত নেতার ত্রাণের টিন আত্মসাৎ ইত্যাদি শত শত উদাহরণ দেয়া যায়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনকালের সঙ্গে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে, সে সময় ত্রাণ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল সাংসদ ও শীর্ষ নেতারা। কিন্তু বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাদের অবস্থান ও পদমর্যাদা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেয়র, মেম্বার বা স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সীমিত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা মোটেই কাম্য নয়। বর্তমান পৃথিবীর মানুষ তাদের জীবদ্দশায় এমন সঙ্কট অতিবাহিত করেন নি। বিশ্বের অর্থনীতি কোন দিকে মোড় নিবে, কবে করোনা ভাইরাসের অভিশাপ থেকে বিশ্ববাসী মুক্ত হবে তা অনিশ্চিত! এমন পরিস্থিতিতে আরও বেশি মানবিক হয়ে মনুষ্যত্বের পরিচয় না দিলে, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের দীর্ঘশ্বাস অভিশাপ হয়ে ফিরে আসবে।


আরও সংবাদ