বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

করোনা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামাত নিয়ন্ত্রিত নিউজ পোর্টাল!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। করোনা নিয়ে পাল্লা দিয়ে ছড়াচ্ছে গুজবও। প্রচার করা হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য।এইসব বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিএনপি-জামাত সুপরিকল্পিতভাবে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে এধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।

গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির অনলাইন এক্টিভিস্ট ও খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস শামসুল আলম তার ফেইসবুক আইডি থেকে গুজব ছড়াচ্ছে যে ,সকল ফোন কল, হোয়াটসঅ্যাপ কল মনিটর ও রেকর্ড করবে সরকার এবং ফেসবুক, টুইটার, সেশ্যাল মিডিয়াও ফোরাম মনিটর করবে।
সরকারকে বিব্রত ও জনগণের মাঝে অস্থিতিশীল পরিবেশে সৃষ্টি করার জন্য এইসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এইসব গুজবের কোন ভিত্তি নেই।

আমরা অধিক অনুসন্ধানে দেখতে পায় যে ,তিনি একটি পুরানো ভারতীয় ভুয়া খবর ব্যবহার করে গুজব ছড়াচ্ছেন।সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, পুরো বিষয়টি গুজব। সরকারের পক্ষ থেকে এসব গুজব ও গুজব রটনাকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশি কিছু প্রোপাগান্ডা ধরনের নিউজ পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলও দেখা যাচ্ছে, যেমন: https://bartabahok.net, https://netra.news/, http://akhonsamoy.com/ https://analysisbd,com, সংস্কার টিভি, ডেইলি ব=ক্যাম্পাস সহ আরও বেশ কিছু নিউজ পোর্টাল এসব গুজব ছড়াচ্ছে। তাছাড়া বিএনপি -জামাত টাকার বিনিময়ে কয়েকটি বিদেশী পত্রিকা ব্যবহার করে গুজব ছাড়ছে।

এর পাশাপাশি কিছু ইউটিউব চ্যানেল থেকেও ক্রমাগত মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

গত ২৮ মার্চ, “এখন সময়” এবং ৩০ মার্চ “নেত্র নিউজ” নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল তাদের ওয়েব সাইটে “বাংলাদেশে মারা যেতে পারে ২০ লাখ মানুষ!” শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশ করে। যেখানে তারা জাতিসংঘের নামে ফেক নথির রেফারেন্স দিয়ে করোনা নিয়ে বানোয়াট রকমের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

সেখানে বলা আছে, “জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া একটি আন্তঃসংস্থা নথি মোতাবেক, করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রশমন ও অবদমনে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে “৫ লাখ থেকে ২০ লাখ” মানুষের মৃত্যু হতে পারে। “জাতীয় প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা” (সিপিআরপি ভি১) শীর্ষক এই নথিতে এই সংখ্যাকে “ভয়াবহ” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের এই নথিটি দেওয়া হয়।”

অথচ অধিকতর অনুসন্ধানে জানা গেছে জাতিসংঘের তরফ থেকে এসব কোন ধরনের নথীই ফাঁস হয়নি।

শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, ‘মুসলমানদের জন্য করোনাভাইরাস কোনো আতঙ্কের কারণ নয় বরং কাফিরদের প্রতি চরম আজাব-গজব’ এই শিরোনামে রাজধানীতে বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট।এই চক্রটি বিভ্রান্তিকর তথ্য লিফলেট আকারে প্রকাশ করছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ‘রাজারবাগী হুজুর’ নামের এক ব্যক্তির প্ররোচনায় চক্রটি এমন প্রচারণায় শামিল হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চক্রটি ৩২টি পিকআপ ভ্যানে করে ঢাকা শহরে এই লিফলেট বিতরণ করছে।

গত শনিবার রাতে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল ও মৌচাক মার্কেটের সামনে থেকে এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়াও ২০-২৫ জনের একটি দল ২৪ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ১০০টির বেশি অ্যাকাউন্ট ও ফেসবুক পেজ নজরদারিতে আছে। এগুলোর সঙ্গে জড়িতদের প্রযুক্তিগতভাবে শনাক্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি গুজব রটানোর সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মুছে ফেলা হয়েছে আপত্তিকর ২০টি কনটেন্ট (পোস্ট)।

মূলত সরকার বিরোধী অর্থ্যাৎ বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশ যেকোনো দুর্যোগের সময়ই এমন গুজব প্রচার করে আসছে। আগে যারা গুজব ছড়িয়েছিল, তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে। আইনশৃংখলা বাহিনী এই ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আছে বলেও জানা যায়।

আসলে এতেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হ যে এইসব গুজব কারা ছড়াচ্ছে ,কেন ছড়াচ্ছে। এই চক্রটি সবসময় চায় সুযোগ নিতে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। তাই বলে কি, এই করোনাভাইরাস নামক মহামারীর সময়ও!


আরও সংবাদ