বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

ধর্মের নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে জামাতের বি-টিম খেলাফত মজলিশ

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

করোনা সতর্কতাকে উপেক্ষা করে কতিপয় নামধারী আলেম মসজিদ খোলার রাখা নিয়ে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে খেলাফত মজলিশের নেতা হাফেজ জুবায়ের আহম্মদ আনসারী করোনা ভাইরাসের সতর্কতা উপেক্ষা করে ফেসবুকে তার বাবা ও শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা যুবায়ের আহমদ আনসারী এর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জঙ্গিবাদ এবং আল-কায়েদা ও তালেবানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন প্রদান করার পাশাপাশি তাদের পথ অনুসরণের জন্য আহবান জানানো কথিত ইসলামী একটি দলের নাম খেলাফত মজলিশ। এটি মূলত খারেজি ও জামাতি ডকট্রিনে পরিচালিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বলেই অনুমিত হয়, আর এর প্রশাল সংশ্লিষ্ট নেতাদের সন্ত্রাসীসুলভ ও পশুর মতো ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে হুঙ্কার প্রদান। এ সংগঠনটির অতীতের কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত করা প্রয়োজন।

খেলাফত মজলিশের নেতা এবং লন্ডনে এক জামাত কর্মির ১১ বছরের সন্তানকে বলৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত মুফতি সদর উদ্দিন একজন আলেম নামধারি জালেম এবং বিশ্বের শীর্ষ আলেমদের ফতোয়া মোতাবেক সে কাফের ও খারেজি তথা জাহান্নামের কুকুর। যুদ্ধাপরাধীদের এই দোসর নিজে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও তাদের সম্পদ দখলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকলেও, লন্ডনে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্স করে হুবহু প্রিয়া সাহার বর্ণিত অভিযোগ উত্থাপন করে। তবে এক্ষেত্রে হিন্দু-বৌদ্ধ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত তার নবী মওদুদীর অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে নীরব ছিল।

এই কুলাঙ্গার জাহিলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর অন্যতম হচ্ছে:
১. যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দাবি করে ট্রাইব্যুনাল ও দেশ সম্পর্কে দ্রোহিতামূলক মন্তব্য করে।
২. এক আলোচনা সভায় লাজলজ্জার মাথা খেয়ে অথবা নিজ বংশের ধারা ও শিক্ষা মোতাবেক শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় কটূক্তি করে ও প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দান করে।
৩. সদরের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সফরকালে দূতাবাসে হামলা, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা ও নাশকতায় অর্থ জোগানের অভিযোগও রয়েছে।

এই ছদর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা। তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও কর্মকাণ্ডের পরেও খেলাফত মজলিশ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয় নি, এমন কি দলের পক্ষ থেকে নূণ্যতম মন্তব্য করা হয় নি।

খেলাফত মজলিশের আরেক কথিত আলেমের নাম মামুনুল হক ওরফে দামড়া মামুন যে তার স্বীয় পিতার স্বাক্ষরিত ফতোয়া মোতাবেক জামাত সংশ্লিষ্টতার জন্য কাফের হয়ে যেতে পারে বলে অনেকের অভিমত। সাবেক শিবির সভাপতি জব্বারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও জামাতের নারী সংগঠন ছাত্রী সংস্থার নেত্রীকে বিয়ে করার কারণে আরো বেশি যুক্ত ও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে জামাতের ওপর। দামড়া মামুনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা, ওয়াজের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে উৎসাহিত করা, ক্যাডার বাহিনী প্রস্তুত ও পেশীশক্তির ওপর নির্ভর করে সিনিয়ন আলেমদের কারো সঙ্গে বেয়াদবি করে, কাউকে হুমকি দিয়ে দলে একচ্চত্র প্রভাব সৃষ্ট করেছে। মওদুদীবাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ওলামায়ে দেওবন্দের নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে তার নিজেকে দেওবন্দের অনুসারী বলার কোনো অধিকার নেই। আমরা জানি যে, জামায়াতের সাড়ে তিন লাখ টাকা পেয়ে ২০১৩ সালের ৫ মে সরকার উৎখাত করার ঘোষণা দিয়ে সবার আগেই পালিয়ে গিয়েছিল মামুন। এ সংগঠনের পক্ষ থেকে, অবিরাম উস্তানি দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া যে ভাষায় চিৎকার করে সে বক্তব্য দেয় তা স্থানীয় কোরো সন্ত্রাসী নেতার সমতূল্য।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর মৃত্যু সংবাদ ও তার জানাজার তথ্য হাফেজ জুবায়ের আহম্মদ আনসারী জানান শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায়। মৃত্যু সংবাদ ও জানাজার তথ্য জানিয়ে দুটি পোস্ট দেওয়া হয়।
পরে সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ওই একই আইডি থেকে আরেকটি পোস্টে বলা হয়, ’সকাল ১০ ঘটিকায় জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা মাদরাসায় আমার বাবা আল্লামা যুবায়ের আহমদ আনসারী( রহ) হুজুর এর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।’
দলের একটি সূত্রের মতে, দলীয় নেতাকর্মি তাদের অধীস্থ মাদ্রাসার ছাত্রদের জানাজায় অংশ নেয়ার অলিখিত নির্দেশ ছিল।
এদিকে জোবায়ের আনসারীর জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য সরাইল উপজেলার ছয়টি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। গ্রামের কেউ যাতে বের হতে না পারে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


আরও সংবাদ