মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
৫০০ গৃহকর্মী ও ৮১ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৭ মে – শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস যে যেখানে আছে সেখানেই ঈদ : ‘নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরের দেয়ালগুলো যেভাবে রঙিন হলো সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনায় গ্রেফতার ২ : নেপথ্যে হেফাজত অনিয়মের বিরুদ্ধে সাবধান করলেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আল্টিমেটামের পরেই হেফাজতের তাণ্ডব সারদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শ্রমিক, ইমাম, ভ্যানচলক : আশ্রয়হীদের জন্য সরকারি ঘর উগ্রতার দায়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট বিচ্ছেদের আগেই সম্পত্তি ভাগাভাগির চুক্তি !

পাকিস্থানের মাদ্রাসায় পড়াকালীন সময়ে বাবুনগরীকে ব্রেইনওয়াশ করা হয়

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

জুনায়েদ বাবুনগরী, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে। বর্তমানে হেফাজতের নামে যে মৌলবাদীদের তাণ্ডব হচ্ছে, তার অন্যতম হোতা হেফাজতের আমীর। শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর বাবুনগরী রীতিমতো হেফাজতের কর্তৃত্ব দখল করেন এবং তখন থেকেই তিনি হেফাজতকে একটি মৌলবাদী ধারায় পরিচালিত করার চেষ্টা করছেন। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন, বাবুনগরী কে এবং কেন তিনি এরকম উগ্রবাদী চিন্তাধারা পোষণ করেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জুনায়েদ বাবুনগরী একটা সময় পাকিস্থানের জামিয়া উলুমুল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং সেই পড়াশোনাটাই তার জীবন এবং রাজনৈতিক চিন্তাকে বদলে দিয়েছে।

বাবুনগরীর জন্ম চট্টগ্রামে ১৯৫৩ সালে এবং প্রথমেই বাবুনগরী আল-জামিয়াতুল আলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। এই মাদ্রাসাটি ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত ছিল।

বাংলাদেশের যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল তাদের মধ্যে এই মাদ্রাসাটিকে চিহ্নিত করা যায়। এই মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করে ২০ বছর বয়সে ১৯৭৩ সালে বাবুনগরী চলে যান পাকিস্থানের করাচিতে।

 

পাকিস্থানের প্রধান লক্ষ্য ৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করা। ১৬ ডিসেম্বরের সেই পরাজয় তাদের জন্য ইতিহাসের সেরা অপমান হিসেবে পাকিস্থান ঘোষণা করেছিল। পাকিস্থান তখন যে কোন প্রকারে বাংলাদেশকে বিরোধিতা করা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং অর্জনকে ব্যর্থ করাই ছিল পাকিস্থানের সমস্ত তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আর সেই সময়ে জামিয়া উলুমুল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতে যান জুনায়েদ বাবুনগরী। এখানেই পাকিস্থান প্রীতি এবং বাংলাদেশ বিরোধিতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীতা বাবুনগরীর মগজে প্রবেশ করেছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই জামিয়া উলুমুল মাদ্রাসার একটি আলাদা ইতিহাস রয়েছে। এই মাদ্রাসাটি জঙ্গিবাদের লালনকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই মাদ্রাসা থেকে প্রচুর আল কায়েদা এবং তালেবান বেরিয়েছে বলে পাকিস্থানের পররাষ্ট্র দপ্তরের রিপোর্ট থেকেই জানা যায়।

এই মাদ্রাসায় জুনায়েদ বাবুনগরী বাংলাদেশ বিরোধীতাই শুধু রপ্ত করেননি, জঙ্গিবাদ লালন তালেবানি কায়দায় কীভাবে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা ব্যবস্থাপনাকে দমন করা যায়, সে ব্যাপারেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

এই মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে বাবুনগরী আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং তারপর তিনি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজত গঠিত হলে সেখানে তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিভিন্ন মহল মনে করেন, পাকিস্থানের সেই প্রশিক্ষণেই হেফাজতে ইসলাম গঠনের ক্ষেত্রে জুনায়েদ বাবুনগরীকে উদ্বুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামায়াতসহ বিভিন্ন মৌলবাদীদের সঙ্গে বাবুনগরীর সবসময় যোগাযোগ ছিলো।

 

বাবুনগরী যতটা না শিক্ষক বা আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তার চেয়ে বেশি একটি রাজনৈতিক চিন্তাধারার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। হেফাজতকে মৌলবাদী ধারায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাবুনগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বাবুনগরী প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১৩ সালের ৫ মে। হেফাজত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই এই কর্মসূচী ঘোষণার পরপরই ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জড়ো করা হয়।

এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে যারা উদ্যোক্তা ছিলেন তাদের মধ্যে বাবুনগরী, এটা স্পষ্ট হয় আল্লামা শফীর পুত্র আনাস মাদানীর একটি ফোনালাপ প্রকাশ হওয়ার পর।

২০১৩ সালের ৫ মে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঢাকায় ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তারা বায়তুল মোকাররমের দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়, বিপুল পরিমাণ কোরআন শরীফ এবং বহু ধর্মীয় গ্রন্থ সে সময় পুড়ে যায়। যা আড়াল করতে নালায় ফেলে দেয়া হয় সে সময় এবং পরবর্তীতে উদ্ধারও হয়। সে সময় বহু অনেক গাড়ি, ব্যাংকসহ বিভিন্ন অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

 

মূলত জুনায়েদ বাবুনগরীর উস্কানিতেই মাদ্রাসা ছাত্ররা ঢাকা শহরে তাণ্ডব চালায় ৫ মে। অথচ ঢাকা শহরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল হেফাজতের। এবারও তা-ই ঘটেছে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের কথা বলে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধোঁকা দিয়ে সারাদেশে চালিয়েছে তাণ্ডব। যার নেপথ্যে বাবুনগরী এবং মামুনুল হকের জঙ্গিবাদি মানসিকতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।


আরও সংবাদ