শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
মসজিদের দানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মামুনুল অনুসারী হেফাজতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১ হেফাজতভক্ত সাম্প্রদায়িক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে ছাত্রলীগ : পাওয়া মাত্রই বহিষ্কার মুজিবনগর দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘সোনার বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে’ প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বিএনপি কেন পালন করে না মুজিবনগর দিবস? মামুনুল কাণ্ডে টালমাটাল হেফাজত যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার মামুনুল কিংবদন্তী কবরীর জীবনাবসান চট্টগ্রামের ৩০০ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিবিরের স্টাইলে কৃষক লীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিল ‘হেফাজত’ করোনা রোগীদের শয্যা প্রাপ্তিতে ছাত্রলীগের মানবিক টিম

ইসলামের নামে আসলে কার ‘হেফাজত’ করছে তারা?

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২১

এক সপ্তাহ হয়ে গেলো হেফাজতের তাণ্ডবের। এখন পর্যন্ত বেশকিছু মামলা হয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং বাবুনগরী-মামুনুলের মতো উসকানিদাতারা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখনও বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং দায় পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি রাজনৈতিক দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে প্রকারন্তে এই ঘটনাকে জায়েজ করার এক প্রকাশ্য প্রচেষ্টায় লিপ্ত তারা।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে সরকার যতটা দৃঢ় এবং সেই দলগুলো কোনো কর্মসূচি দিলে কঠোরভাবে সেই কর্মসূচির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কিন্তু হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকার ততটাই নমনীয় কেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময় সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো হেফাজতের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ। কেউই হেফাজতকে দূরে রাখতে চায় না। প্রকাশ্য অথবা গোপনে একটা সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং যারা এতিম-দরিদ্র এবং শিক্ষকদের নির্দেশে সবকিছু করতে প্রস্তুত।

এরা নিজেদের চিন্তা চেতনা খুব একটা কাজে লাগায় না। তাদের ওস্তাদরা যে নির্দেশনা দেয়, তা-ই পালন করে নিজেদের বুদ্ধি বিবেক না খাটিয়ে, পরিণতির কথা না ভেবে। আর এ কারণে দুর্বল পরিকাঠামোর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে সুসংহত জনবলের হেফাজতে ইসলাম একটি পদাতিক বাহিনী হিসেবে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই বাস্তবতায় সরকার যেমন হঠাৎ করে হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যেতে পারছে না, তেমনি বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো হেফাজতের ব্যাপারে এক ধরনের নীরব পক্ষপাত এবং সহানুভূতি দেখাচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হেফাজতে ইসলাম বহাল তবিয়তে বেশ হেফাজতেই রয়েছে।

আওয়ামী লীগ ২০১৩ সালে হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গিয়েছিলো। সে সময় হেফাজত ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলো। কর্মসূচির নামে পল্টন, বায়তুল মোকাররম এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিলো। তারপর সরকার সফলভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। সে সময় হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার মামলা হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে সবই ধামাচাপা পড়ে যায়, সরকারের সাথে তাদের সুসম্পর্কের নিদর্শন দেখা যায়।

সেই সখ্যতা আহমদ শফী জীবিত অবস্থায় ছিলো। তার মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী এসে সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এমনকি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও ধৃষ্ঠতা দেখায় তারা।

তবে কারো কারো মতে, কোনো আদর্শিক কারণে নয়, জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আশাতেই এই গেম খেলছেন। বাবুনগরী নেতৃত্বে আসার পর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে প্রথম সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। আর সেই চ্যালেঞ্জে হেফাজতই জয়ী হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। কারণ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কার্য ইস্যু থেকে নিজেদেরকে দৃশ্যত গুটিয়ে নিয়েছে।

এরপর নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে হেফাজত আবার চ্যালেঞ্জ জানায় এবং সেই চ্যলেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় হেফাজত। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, ম্যুরাল, মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা, গ্রন্থাগার, ভূমি অফিস, শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ধ্বং’স করে দেয়ার পরেও সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেয়নি।

যদিও সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-নেতা হেফাজতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, কিন্তু দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা হেফাজতের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, হেফাজতের প্রতি কি সরকার অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলছে না?

১৪ দলের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষছে। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্লাটফর্ম ১৪ দলের পক্ষ থেকে হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়।

অন্যদিকে হেফাজতের কার্যক্রমে বিএনপি চাপা আনন্দে উদ্বেল। বিএনপি হেফাজতের কাঁধে চড়ে সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে। তাই হেফাজতকে ‘হেফাজতে’ রাখার জন্য সমান্তরাল কর্মসূচিও ঘোষণা করে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হেফাজত নিয়ে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য দেখা যায় না।

এক সময় বামদলগুলো হেফাজতের ব্যাপারে কঠোর থাকলেও এবার হেফাজতের ব্যাপারে আশ্চর্য নীরবতা লক্ষ্যণীয়। একটি বাম দল তো হেফাজতের দাবির সঙ্গে সহমর্মিতাও পোষণ করেছে। বামদের এই দিকভ্রমে প্রগতিশীল চেতনার মানুষ হতবাক!

সকল রাজনৈতিক দলই হেফাজতকে আদর আপ্যায়ন এবং লালন পালন করছে। হেফাজত এখন রাজনীতির খেলায় মূল্যবান গুটিতে পরিণত হয়েছে। সকলেই হেফাজতকে ‘হেফাজতে’ রাখার জন্যই চেষ্টা করছে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


আরও সংবাদ