শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
মসজিদের দানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মামুনুল অনুসারী হেফাজতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১ হেফাজতভক্ত সাম্প্রদায়িক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে ছাত্রলীগ : পাওয়া মাত্রই বহিষ্কার মুজিবনগর দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘সোনার বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে’ প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বিএনপি কেন পালন করে না মুজিবনগর দিবস? মামুনুল কাণ্ডে টালমাটাল হেফাজত যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার মামুনুল কিংবদন্তী কবরীর জীবনাবসান চট্টগ্রামের ৩০০ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিবিরের স্টাইলে কৃষক লীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিল ‘হেফাজত’ করোনা রোগীদের শয্যা প্রাপ্তিতে ছাত্রলীগের মানবিক টিম

করোনার ২য় ঢেউ সামাল দিতে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বিশ্বব্যাপী মারাত্মক আকার ধারণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমাদের এখানে আবার দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। এই দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এক সপ্তাহ লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মানুষকে যাতে সুরক্ষা দিতে পারি সেই ব্যবস্থাপনার ফাইলে কিছুক্ষণ আগে সই করে এখানে এসেছি। এখন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। জানি সবার একটু কষ্ট হবে। মানুষের একটু সমস্যা হবে। তারপরও বলবো, জীবনটা বড়। জীবনটা আগে। জীবন বাঁচানোটাই সবার করণীয়।

রোববার (৪ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।

করোনা সংক্রমণ প্রশ্নে তিনি বলেন, গত বছরের মার্চে করোনা শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আমরা এটিতে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হই। আজ আবার দেখা যাচ্ছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এই দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

দ্বিতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এবারের ভাইরাসটা কতটুকু ক্ষতি করলো তা চট করে বোঝা যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে খারাপ অবস্থা হয়ে যায়। এজন্য সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানাচ্ছি। ২৯ মার্চ থেকে হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে গেল। এরপর থেকে বেড়েই চলছে। কখনো কখনো কমছে। সে কারণে আমরা এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কাজেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিয়েসাদিসহ এ ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে এলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। শপিংমলগুলো অনলাইনে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। তারা সেখানে ভিড় বাড়াতে পারবে না। মূলত শপিংমল বন্ধ থাকবে। পণ্য অনলাইনে কেনাবেচা ও লোক মারফত পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা তারা করতে পারবে। ১১ এপ্রিল নির্বাচন ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। সব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এক সপ্তাহের জন্য সব কিছু লকডাউন ঘোষণা দিয়েছি। সেটা মানলে অন্তত কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করার পর মানুষ যেন ডেসপারেট হয়ে গেছে। তারা মনে করছে, কিছুই হবে না। সবাই যেন অবাধে চলাফেরা করে দিয়েছে। এ অবাধে চলাফেরা বন্ধ করতে হবে। এর আগে দেখেছি, বয়স্করা সংক্রমিত হয়। কিন্তু এবার দেখছি, তরুণ এমনকি শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। তাদেরও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে যেন একটু সুরক্ষিত থাকেন। চিকিৎসা, টিকা, ভ্যাকসিন সব ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এক দফা টিকা আমরা দিয়েছি। দ্বিতীয় ডোজ আমরা শুরু করবো। সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুনভাবে টিকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো। প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। দূরত্ব বজায় রাখেতে হবে। কোথাও বের হলে ঘরে ফিরে গরম পানির ভাপ নিতে হবে। গার্গেল করবেন। এটা খুবই উপকার হয়। কারণ এই ভাইরাসটা নাকের ভেতরে সাইনাসের ওখানে বাসা বাঁধে। নাকে ভাপ নিলে এবং গার্গেল করলে পরে এটা দুর্বল হয়ে যায়। এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষাটা সবাই মেনে চলবেন। সেটাই আমরা আশা করি। করোনা থেকে সবাই ভালো ও সুস্থ থাকেন সেই কামনা করি।


আরও সংবাদ