শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
মসজিদের দানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মামুনুল অনুসারী হেফাজতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১ হেফাজতভক্ত সাম্প্রদায়িক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে ছাত্রলীগ : পাওয়া মাত্রই বহিষ্কার মুজিবনগর দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘সোনার বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে’ প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বিএনপি কেন পালন করে না মুজিবনগর দিবস? মামুনুল কাণ্ডে টালমাটাল হেফাজত যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার মামুনুল কিংবদন্তী কবরীর জীবনাবসান চট্টগ্রামের ৩০০ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিবিরের স্টাইলে কৃষক লীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিল ‘হেফাজত’ করোনা রোগীদের শয্যা প্রাপ্তিতে ছাত্রলীগের মানবিক টিম

‘উনি (মামুনুল) আমার মায়ের রুমে ঢুকে গিয়ে একটা কুপ্রস্তাব দেয়’

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
আপডেট : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

শনিবার (৩ এপ্রিল) সোনারগাঁও রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক জান্নাত আরা ঝর্ণা নামের যে সঙ্গী নিয়ে অবকাশযাপনের জন্য গিয়েছিলেন, তার বড় ছেলে আব্দুর রহমানের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সোমবার (৫ এপ্রিল) ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলার চেষ্টা করেছেন, তার বাবা-মা’র দাম্পত্য জীবনে হেফাজত নেতা মামুনুল হক কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছেন। কীভাবে একটা সুখী পরিবারের মধ্যে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর আগে, রোববার (৪ এপ্রিল) আব্দুর রহমান এবং তার মা জান্নাত আরা ঝর্ণার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়।

সোমবার (৫ এপ্রিল) ভাইরাল হওয়া ভিডিও বার্তায় আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি তো অলরেডি বড় হয়ে গেছি, অনেক কিছু শিখছি, জানছি, ম্যাচুউরিটির একটা ভাব আইছে। আমি কিছুটা সহ্য করে নিতে পারি, কিন্তু আমার তো একটা ছোট ভাই আছে, তের-চৌদ্দ বছর বয়স। কেবল উঠতি বয়স। এই সময়ে মানুষের কতো কথা শোনা লাগতেছে। সমাজের সামনে আইসা মুখ দেখাইতে পারতেছি না।’

‘আমার ছোট ভাইটা কাল রাতে যখন এই ঘটনটা ঘটলো, ও কোনোদিন আমি দেখি নাই রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জাইগা রইছে। কাল দেখি ওর চোখে কোনো ঘুমই নাই। ও বিষয়টা নিয়ে টোটালি মেন্টালি শকড হইছে। ও বাসা থেকে বের হয়ে গেছিল। বাসায় থাকলে কি উল্টা-পাল্টা করব আমি নিজেও জানি না, এইটা বইলা বের হয়ে গেছে’— বলেন আব্দুর রহমান।

তিনি বলে, ‘আরও বলতে হয়, এটা আমি বলব যে, আমার বাবার কর্মের ফল। আমার বাবা মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। পাগলের মতো ভালোবাসে। ওই লোকটা, কিছুদিন আগে- মোল্লারহাটে একটা মাহফিল ছিল। সেখানে পুলিশ তাকে করতে দেবে না। সে একটা জায়গায় লুকায়া ছিল। আমার বাবা সেটা দেখে আইসা কিভাবে যে কানছে। তার আগেই বিষয়টা আমি জানছি যে, আমার মায়ের সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল। আমি তখন হাসতে ছিলাম যে, এই লোকটা যার জন্য অঝোর ধারায় কানতেছে আর ওই লোকটা (মাওলানা মামুনুল হক) এই লোকটার (বাবা শহীদুল ইসলাম) সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতেছে।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘তারপরে যখন ওনাকে জেলে নিল, মাওলানা মামুনুল হককে জেলে নিল, তখন আমার বাবা থানার ওসি কামরুজ্জামানকে বলে যে, আমাকে রেখে ওনাকে ছেড়ে দেন। কতটা ভালোবাসলে একটা মানুষকে এই কথা বলতে পারে। আর সেই লোকটা এভাবে গাদ্দারি করল।’

তিনি বলেন, ‘আরও আগের ঘটনা যখন ডিভোর্স হয়নি, আমি তখন অনেক ছোট। আমার ছোট ভাই আরও অনেক ছোট, দুগ্ধশিশু ছিল। তখন আমার বাবা বাসায় ছিলেন না। তখন আমি ছিলাম। আমি ঘুমায়া ছিলাম নাকি বাইরে ছিলাম। আমার মা নাকি আমার ছোট ভাইকে দুগ্ধ পান করাচ্ছিল, তখন উনি আমার মায়ের রুমে ঢুকে গিয়ে একটা কুপ্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমার মা সেটা প্রত্যাখান করেছিল, না এটা কোনোদিনই সম্ভব না। আপনি তো ঠকাচ্ছেন, আপনার কাছের বন্ধুকে, মানুষটাকে। সে তখন ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার তখনই মনে কামভাব ঢুকে গেছে। সে লোভ সামলাইতে পারতেছিল না। সে একটা সুযোগে ছিল, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে সে এইটা বুঝতে পারে নাই।’

আব্দুর রহমান বলন, ‘যখনই সুযোগ পাইছে এনাদের মধ্যে ডিসট্যান্স বাড়াইয়া দিছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তো ঝগড়া হবেই। সে তখনই নক করছে। তখন দুই জনের মধ্যে আরও ডিসট্যান্স বাড়াইয়া দিছে। এইভাবে করে সে একটা পরিবারের খুশি, ভালোবাসা, একটা পরিবারের মধ্যে যে মিলমিশ সম্পর্ক পুরোপুরি সে ধ্বংস করে দিছে। আরও যে এভাবে কত মানুষের, কত পরিবারের ভালোবাসা যে ধ্বংস করে দিছে এর কোনো ঠিক নাই।’

আব্দুর রহমান আরও বলে, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করব, এর যেন সঠিক বিচার হয়। আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস কইরেন না। কারণ সবারই আড়ালে আরেকটা চেহারা থাকে। এই লোকটা আলেম নামধারী মুখোশধারী একটা জানোয়ার। তার মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব নেই। সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কাকে কীভাবে দুর্বল করা যায়। আমার আর কিছু বলার ভাষা নাই।’


আরও সংবাদ