মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
৫০০ গৃহকর্মী ও ৮১ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৭ মে – শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস যে যেখানে আছে সেখানেই ঈদ : ‘নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরের দেয়ালগুলো যেভাবে রঙিন হলো সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনায় গ্রেফতার ২ : নেপথ্যে হেফাজত অনিয়মের বিরুদ্ধে সাবধান করলেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আল্টিমেটামের পরেই হেফাজতের তাণ্ডব সারদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শ্রমিক, ইমাম, ভ্যানচলক : আশ্রয়হীদের জন্য সরকারি ঘর উগ্রতার দায়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট বিচ্ছেদের আগেই সম্পত্তি ভাগাভাগির চুক্তি !

স্ত্রীর কাছে সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করার বিপজ্জনক ফতোয়া

মোঃ জাকির হোসেন
আপডেট : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১

কোভিড-১৯ পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করার পর যে শব্দসমূহ বেশি উচ্চারিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘সীমিত পরিসরে’। উদাহরণস্বরুপ, সীমিত পরিসরে চলাফেরা, সীমিত পরিসরে দোকানপাট খোলা, সীমিত পরিসরে কেনাকাটা করা ইত্যাদি। বিতর্কিত হেফাজত নেতা মামুনুল হক সীমিত পরিসরে শব্দ ব্যবহারের নতুন ক্ষেত্রের সন্ধান দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে, স্ত্রীকে খুশি করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কোনও সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।’ কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্ত্রীর খুশির জন্য সত্য গোপন করা যাবে তা অবশ্য তিন খোলাসা করে বলেননি। ফলে সত্য গোপনের একটা ব্ল্যাংক চেক দেওয়া হয়ে গেলো স্বামীদের। মামুনুল হকের কথার ব্যাখ্যা করে কোনও স্বামী যদি সীমিত পরিসরে পরকীয়া, সীমিত পরিসরে স্ত্রীর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে স্ত্রীকে খুশি করতে সত্য গোপন করে তার দায় কে নেবে?

স্ত্রীকে যদি খুশি রাখতে হয় তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবো। এমন কাজ কেন করবো যার ফলে স্ত্রীকে সন্তুষ্ট রাখতে সত্য গোপন করতে হবে। সত্য গোপন করতে গিয়ে অসংখ্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। মামুনুল হক আপনার রিসোর্টের ঘটনা দিয়েই ব্যাখ্যা করা যাক। আপনি সত্য গোপন করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রিসোর্টে আপনার ‘নারী সঙ্গী’ জান্নাত আরাকে আমিনা তৈয়্যেবা বানালেন। আবার স্ত্রীর কাছে সত্য গোপন করতে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিলেন। আপনার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রীকে জাফর শহীদুলের স্ত্রী উল্লেখ করলেন। এটি তো আরও ভয়ংকর বিষয় হলো। আরেকজনের স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টের কক্ষে অবস্থান করেছেন। এজন্যই মিথ্যাকে সব পাপের উৎস বলা হয়। একটা মিথ্যা ডেকে আনে আরেকটি মিথ্যা। এভাবে একজন মানুষ জড়িয়ে যায় মিথ্যার ফাঁদে। একটি মিথ্যা থেকে শত শত পাপের সূত্রপাত হয়। মিথ্যা চর্চা সমাজে নানামুখী নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।

 

আল্লাহ বলেন, “এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত যারা মিথ্যাবাদী।” (সুরা আল ইমরান: ৬১) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “এবং তোমরা মিথ্যা কথা পরিহার করো।” (সুরা হজ: ৩০) রাসুল (সা.) বলেন, ‘মিথ্যা পাপাচারের দিকে পথ দেখায়। আর পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকলে আল্লাহর কাছে মিথ্যুক হিসেবে তার নাম লেখা হয়।’ (বুখারি, ৫৬২৯) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকদের নিদর্শন তিনটি: কথা বলার সময় মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং আমানতের খেয়ানত করা।’ (বুখারি, ৩৩; মুসলিম, ৫৯) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ‘মুমিন কি কাপুরুষ হতে পারে? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করা হয়েছে, মুমিন কি কৃপণ হতে পারে। তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করা হয়েছে, মুমিন কি মিথ্যাবাদী হতে পারে? তিনি উত্তর দিলেন, না।’ (মুয়াত্তা মালিক, ২/৯৯০) অর্থাৎ মুমিনের বিভিন্ন চারিত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে, তবু সে মিথ্যা বলতে পারে না।

রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনায় উদ্ভূত বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মামুনুল হক সম্ভবত রাসুল (সা.)-এর হাদিসের ভিন্ন ব্যাখ্যা করে বলেছেন স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করা যেতে পারে। ইসলামে নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ও মৌলিক স্বার্থে মিথ্যা বলার তথা বাড়িয়ে বলার কিংবা কৌশল অবলম্বনের অবকাশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামে মিথ্যা বলার অনুমতি রয়েছে যেসব কারণে, এক. যুদ্ধে মিথ্যা বলা বৈধ; দুই. দুই পক্ষের মাঝে সমঝোতা করার জন্য মিথ্যা বলা বৈধ; তিন. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা ও মিল তৈরির করার জন্যও মিথ্যা বলা বৈধ। আসমা বিনতে ইয়াজিদ বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ তিন জায়গা ব্যতীত মিথ্যা বলা বৈধ নয়। স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য মিথ্যা বলা, যুদ্ধে মিথ্যা বলা এবং দু’জনের মাঝে সমঝোতা করার জন্য মিথ্যা বলা বৈধ। (তিরমিজি, ১৯৩৯; সহিহ আল-জামে, ৭৭২৩) হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘এ হাদিস দ্বারা (বিশেষ প্রয়োজনে) মিথ্যা বলার অবকাশ রয়েছে ঠিক, তবে তা কৌশলে সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।’ আর ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারির তাবারি (রহ.) বলেন, “যুদ্ধের ময়দানে মিথ্যা বৈধ হওয়ার অর্থ হলো ‘কৌশল’ অবলম্বন করা বৈধ। কেননা প্রকৃত মিথ্যা বৈধ হয় না। (আবুল ফজল জাইনুদ্দিন আবদুর রহিম ইরাকি, তরহুত-তাসরিব ফি শরহিত-তাকরিব, ৭/২১৫) উম্মে কুলসুম (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি দুই জনের মাঝে সমঝোতা করার জন্য ভালো কথার আদান-প্রদানকালে মিথ্যা বলে- সে মিথ্যুক নয়। (বুখারি, ২৫৪৬; মুসলিম, ২৬০৫)। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মিথ্যা বলার সীমা বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অন্তরে যে মহব্বত আছে তার চেয়ে বেশি প্রকাশ করা যাবে এবং এমন কথা বলবে যা দ্বারা উভয়ের হৃদ্যতা, অন্তরঙ্গতা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায় এবং স্থায়ী হয়। এ থেকে অকল্যাণ নয় বরং কল্যাণের সূচনা হয়। (মুসলিম, ৬৭৯৯; সুনানে আবু দাউদ, ৪৯২৩)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে স্ত্রীকে খুশি করতে তার গুণের ও রূপের বর্ণনা বাড়িয়ে বলা যাবে, তার রান্না সুস্বাদু না হলেও বাড়িয়ে প্রশংসা করা যাবে। তবে অন্য কোনও বিষয়ে মিথ্যা বলা যাবে না। মিথ্যা বললে আস্থা ভঙ্গ হবে, বিশ্বাস নষ্ট হবে। আর এভাবে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হবে। সীমিত পরিসরে স্ত্রীর কাছে সত্য গোপন করতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার পরিসর সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

 

লজ্জাজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে কি মিথ্যা বলা যাবে? উত্তর, অবশ্যই না। কেননা, মিথ্যা বলার সুযোগ নিয়েই মানুষ অনেক অপরাধ করার সাহস পায়। শরীয়তের একটি মূলনীতি রয়েছে, ‘সত্য মুক্তি দেয় আর মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে।’ কোনও লজ্জাজনক কাজ বা ভূমিকা প্রকাশ না পাওয়ার জন্যেও মিথ্যা বলা অপরাধ। এ ধরনের মিথ্যা কথার জন্যও আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে প্রকাশ করা জরুরি নয় এমন বিব্রতকর প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার বা দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে নিজেকে রক্ষা করার ক্ষেত্র বিশেষে জায়েজ রয়েছে। এ বিষয়গুলো জানার জন্য শরিয়তের বিশদ জ্ঞান থাকতে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য লজ্জাজনক কাজেও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ লজ্জাজনক কাজ বা অপরাধ সংঘটিত না করুক, এ জন্যই তো মিথ্যা বলার দ্বার রুদ্ধ করা হয়েছে। (সূত্র: জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামি ফিকহ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ)। মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকতে ইসলাম দৃঢ়ভাবে সতর্ক করেছে। ইসলামে মিথ্যার সামান্যতম আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ নেই। কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, মিথ্যা বলা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও গর্হিত। মিথ্যাবাদীর পরিণাম দুনিয়া ও আখিরাতে খুবই নিন্দনীয়। মুসলিম মনীষীরা বলেছেন, সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর ওপর মিথ্যারোপ করা। এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। কেউ কেউ এ জাতীয় মিথ্যুককে কাফের পর্যন্ত বলেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর তোমাদের জিহ্বা দ্বারা বানানো মিথ্যার ওপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।’ (সুরা নাহল: ১১৬)। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা আমার ওপর মিথ্যা বলবে না, যে আমার ওপর মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে।’ (বুখারি, ১০৬) ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে যে রাসুল (সা.)-এর ওপর মিথ্যা বলবে সে যেন নিজ স্থায়ী ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নেয়।’ (তারিকুল হিজরাতাইন, ১৬৯)

মামুনুল হক কেবল প্রথম স্ত্রীর কাছেই সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করেননি। বরং, তার মানবিক বিয়ের গল্পের আড়ালে ব্যাপক সত্য গোপন করেছেন। গত আড়াই বছর ধরে স্ত্রীকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন? তার মানবিক বিয়ের স্ত্রী কেন পার্লারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন? মামুনুল দাবি করেছেন তিনি একাধিকবার জান্নাত আরা ও শহিদুলের দাম্পত্য বিবাদ মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, “আর তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশঙ্কা করলে তোমরা স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত কর; তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।” (সুরা নিসা: ৩৫)। মামুনুল হক শহিদুল বা জান্নাত আরা কোন পরিবারেরই সদস্য নন। তাহলে তিনি কীভাবে এ দাম্পত্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে অংশগ্রহণ করলেন? জান্নাত আরার পরিবারের কোনও সদস্যই বা এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে অংশ নিয়েছেন? তিনি বারবার বলেছেন কলেমা পড়ে বিয়ে করেছেন। বিয়েতে কলেমা পড়া ছাড়াও সাক্ষীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কারা ছিলেন বিয়ের সাক্ষী? বিয়েতে কনের অভিভাবকের সম্মতি বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও অভিভাবকের সম্মতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। জান্নাত আরার অভিভাবক জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিয়েতে সম্পৃক্ত করা হলো না কেন? মামুনুল হক দাবি করেছেন জান্নাত আরা অসহায় হয়ে তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। জান্নাত আরার পিতা-মাতা জীবিত থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদের কাছে কিংবা অন্য কোনও আত্মীয়ের কাছে সাহায্য না চেয়ে অনাত্মীয় বেগানা পুরুষ মামুনুলের কাছে কেন সাহায্য চাইলেন? জান্নাত আরার বড় সন্তান দাবি করেছেন আপনার কারণেই জান্নাত আরার সংসার ভেঙেছে। এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে দু’জন সন্তানের কাছ থেকে মাকে কেড়ে নিয়েছেন, মায়ের স্নেহ থেকে তাদের বঞ্চিত করেছেন।

 

দুই দশক ধরে সুখে-দুঃখে সংসার করা স্বামীকে তার স্ত্রীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছেন। বিয়ে গোপন করে রাখার ফলে এবং রিসোর্টে জান্নাত আরার নাম আমিনা তৈয়্যেবা উল্লেখ করায় আপনার ও জান্নাত আরার সম্পর্ক নিয়ে নানা সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জান্নাত আরার দুই সন্তানের জন্য কী ভয়াবহ মানসিক দহন-যন্ত্রণা ও সামাজিকভাবে কী দুর্বিষহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা অনুধাবন করেন? এরপরও এই বিয়েকে মানবিক বিয়ে বলবেন? স্ত্রীর কাছে সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করায় আপনার ফতোয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হয়ে উঠেছে।

মানুষ সাবধান বাণী উচ্চারণ করছে, ‘হে স্ত্রীগণ! তোমরা তোমাদের স্বামীকে বিশ্বাস করো না, তারা সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করে থাকে।’ এটি বিপজ্জনক ফতোয়া। মিথ্যা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। চারিত্রিক স্খলনের কারণে অনেকে মিথ্যায় জড়িয়ে যায়। মনুষ্যত্ববোধ লোপ পেলেও অনেকে মিথ্যার বেসাতি তৈরি করে। কিন্তু সুস্থ ও সঠিক মন-মস্তিষ্ক কোনোক্রমেই মিথ্যা সমর্থন দিতে পারে না। মধ্যযুগের চীনা সমরনায়ক ওয়ান ইয়াং-মিন বলেছেন, ‘পাহাড়ে শত্রুর লেখকপ্রাণ সংহার কঠিন কিছু নয়, বরং কঠিন হচ্ছে হৃদয়ে যে শত্রু বাসা বেঁধে আছে, তাকে বধ করা।’

 

লেখক: মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


আরও সংবাদ