মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
৫০০ গৃহকর্মী ও ৮১ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৭ মে – শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস যে যেখানে আছে সেখানেই ঈদ : ‘নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরের দেয়ালগুলো যেভাবে রঙিন হলো সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনায় গ্রেফতার ২ : নেপথ্যে হেফাজত অনিয়মের বিরুদ্ধে সাবধান করলেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আল্টিমেটামের পরেই হেফাজতের তাণ্ডব সারদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শ্রমিক, ইমাম, ভ্যানচলক : আশ্রয়হীদের জন্য সরকারি ঘর উগ্রতার দায়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট বিচ্ছেদের আগেই সম্পত্তি ভাগাভাগির চুক্তি !

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঝর্ণার বড় ছেলের জিডি

সুভাষ হিকমত
আপডেট : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

মা জান্নাত আর ঝর্ণার সন্ধান আর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দিয়ে আলোচিত তরুণ আবদুর রহমান।

৩ এপ্রিল মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ডের পর সামনে আসা এই তরুণ শনিবার রাতে ঢাকার পল্টন থানায় এই জিডি করেন বলে জানিয়েছেন থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) অসিত কুমার বিশ্বাস।

আবদুর রহমান ঝর্ণা ও হাফেজ শহীদুল ইসলাম দম্পতির বড় ছেলে। শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মামুনুল ঝর্ণার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে। মামুনুল দাবি করেছেন, তিনি ঝর্ণাকে বিয়ে করেছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জিডিতে নিজের পাশাপাশি মায়ের জীবনের নিরাপত্তাও চেয়েছেন আবদুর রহমান। বলেছেন, ৩ এপ্রিলের পর থেকে মায়ের খোঁজ না পাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন।

জিডিতে আবদুর রহমান লেখেন, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। যোগাযোগ করতে না পেরে ৮ এপ্রিল তার মায়ের ঢাকার বাসায় আসেন তিনি।

 

রাজধানীর নর্থ সার্কুলার রোডে একটি বাসায় মাসে ছয় হাজার টাকা চুক্তিতে সাবলেট থাকতেন ঝর্ণা। ওই ফ্ল্যাটের প্রকৃত ভাড়াটে তার ছেলেকে জানান, ঝর্ণা ৩ এপ্রিল বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।

মায়ের বাসায় ঢুকে সেখানে তিনটি ডায়েরি পান আবদুর রহমান। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই ডায়েরিগুলোতে মামুনুল হকের সঙ্গে সম্পর্কের বিস্তারিত লিখেছেন ঝর্ণা।

 

বেসরকারি টেলিভিশন ইনডিপেনডেন্ট ও ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডায়েরিতে ঝর্ণা তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা করুণ কাহিনি তুলে ধরে মামুনুলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন। কথা দিয়েও তাকে বিয়ে না করার আক্ষেপের কারণে নিজের ওপর ঘৃণা করার কথাও লিখেছেন।

পল্টন থানা থেকে জানানো হয়েছে, আবদুর রহমানের জিডিতে তার মায়ের তিনটি ডায়েরির নিরাপত্তাও চাওয়া হয়েছে।

এই তরুণ লেখেন, ডায়েরিগুলো নিয়ে তিনি সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন লোক তাকে অনুসরণ করে। এই পরিস্থিতিতে আবদুর রহমান নিজের তার মায়ের জীবন এবং ডায়েরিগুলো নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাই তিনি থানায় আসেন।

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার মেয়ে ঝর্ণা এখন সারা দেশে তুমুল আলোচিত এক নাম। ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে তাকে নিয়ে ঘুরতে যান হেফাজত নেতা মামুনুল হক।

স্থানীয় লোকজনের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা মামুনুল বলেন, তিনি দুই বছর আগে বিয়ে করেছেন ঝর্ণাকে।

তবে তার এই দাবি সেদিনই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

 

স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে মামুনুল ঝর্ণাকে আমিনা তাইয়্যেবা বলে পরিচয় দেন। দাবি করেন, তার বাড়ি খুলনায়, শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম।

তবে পরে ঝর্ণা জানান তার বাবার নাম অলিয়র, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

আমিনা তাইয়্যেবা প্রকৃতপক্ষে মামুনুলের চার সন্তানের জননী স্ত্রীর নাম, যিনি রিসোর্ট-কাণ্ডের পর সন্তানদের নিয়ে মামুনুলের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

 

সেই রাতে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর রিসোর্টে হামলা করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেন হেফাজতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। রাতেই তিনি ঢাকায় ফেরেন।

সারা দেশে তোলপাড়ের মধ্যে মামুনুল চার ভাইকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, সেই নারী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রী। পারিবারিকভাবে তারা বিয়ে করেছেন।

এরপর ফেসবুকে ফাঁস হওয়া বেশ কিছু ফোনালাপ হেফাজত নেতার বিয়ের দাবির সত্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

 

এর একটিতে বোঝা যায় মামুনুল তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেই নারী তার পরিচিত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার কারণে চাপে পড়ে তাকে স্ত্রী পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরে আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যা মামুনুলের সঙ্গে তার রিসোর্টের সঙ্গীনির মধ্যকার বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে সেই নারী জানান, তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার মায়ের একটি বন্ধ মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আর অন্য একজন যখন তাকে কোথায় বিয়ে হয়েছে জিজ্ঞেস করেছে, তখন তিনি বলেছেন, এটা জানেন না। মামুনুলের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

 

আরও একটি কথোপকথনে বোঝা যায় মামুনুলের বোন কথা বলেছেন হেফাজত নেতার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি তাকে বুঝিয়েছেন, কেউ যদি তাকে ফোন করে, তাহলে তিনি যেন বলেন, তিনি বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার শাশুড়ি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

 

ওই ঘটনার পর মামুনুল সমর্থকরা এসব ফোনালাপের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও মামুনুল দুই দিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে স্বীকার করে নেন এগুলো তার ও তার পরিবারের কথোপকথন। এগুলো ফাঁস করে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ হয়েছে।

এরই মধ্যে ঝর্ণার বড় ছেলে আবদুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি তার মায়ের সঙ্গে বাবার সংসার ভাঙার জন্য মামুনুলকে দায়ী করেন।

এই কিশোর মামুনুলের বিচার চেয়ে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করব এর যেন সঠিক বিচার হয়, আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না।… এই লোকটা আলেম নামধারী একটা মুখোশধারী একটা জানোয়ার। এর মধ্যে কোনো মানুষত্ব নাই। সুযোগের সব সময় অপেক্ষায় থাকে, কাকে কীভাবে দুর্বল করা যায়। আমার আর কিছু বলার মতো ভাষা নাই।’


আরও সংবাদ