মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
৫০০ গৃহকর্মী ও ৮১ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৭ মে – শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস যে যেখানে আছে সেখানেই ঈদ : ‘নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরের দেয়ালগুলো যেভাবে রঙিন হলো সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনায় গ্রেফতার ২ : নেপথ্যে হেফাজত অনিয়মের বিরুদ্ধে সাবধান করলেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আল্টিমেটামের পরেই হেফাজতের তাণ্ডব সারদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শ্রমিক, ইমাম, ভ্যানচলক : আশ্রয়হীদের জন্য সরকারি ঘর উগ্রতার দায়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট বিচ্ছেদের আগেই সম্পত্তি ভাগাভাগির চুক্তি !

হাত কেটে আনার বিনিময়ে ২ লাখ টাকার ঘোষণা হেফাজতপন্থী ওয়ার্ড কাউন্সিলরের

নাজিম আজাদ
আপডেট : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

হেফাজত ইস্যুতে এক যুবকের হাত কেটে আনার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা পুরষ্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন খোদ ঢাকার এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড ডেমরা এলাকার কাউন্সিলর মো. ইবরাহীম। তিনি চরমোনাই পীরের বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের ডেমরা থানা সহ-সভাপতি। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এই ঘোষণা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন কি না জানতে চাইলে ইবরাহীম বলেন, ‘বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে। জনপ্রতিনিধি হয়ে আমি একাজ করতে পারি না।’

88

জানা গেছে, মোদিবিরোধী আন্দোলনের জের ধরে গত ২৬ মার্চ রাজধানী ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। ঢাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ের একটি ছবি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ছবিতে হেফাজতের এক যুবককে দাড়ি ধরে পেটাতে দেখা যায়। ওই ছবিটি সেসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়। তবে ছবিতে থাকা মার খাওয়া যুবক ও মারধরকারী যুবক কারও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ছবিটি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে মারধরকারী ওই যুবকের হাত কেটে আনার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. ইবরাহীম। তিনি ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে লেখেন, ‘এই ছবিটা দেখে আমার শরীর থরথর করে কাঁপছে আমি ঘুমাতে পারছি না, জানিনা প্রশাসন এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করেছেন কিনা? যদি না করে থাকে তাহলে আমি স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে ঘোষণা করছি এই কুলাঙ্গারের এই হাতটি আমার লাগবে, যদি কেউ তার এই হাতটি কর্তন করে এনে দিতে পারে তাহলে তাকে আমি দু’লক্ষ টাকা পুরষ্কারের ঘোষণা করছি এবং তার সকল প্রকারের দায়-দায়িত্বও আমি গ্রহণ করছি।’

জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ ফেসবুকে এই পোস্ট দেওয়ার পর সেখানে অনেকেই এসে এর পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য করতে থাকেন। অনেকেই ছবির ওই তরুণকে পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ তাকে কদমতলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বলেও মন্তব্য করেন। এছাড়া মন্তব্যকারীদের অনেকেই সেই তরুণের পরিচয় প্রকাশ করে তার জিহ্বা কেটে আনার হুমকি দেন। আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার হাত কেটে আনার বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়ার ঘোষণা করেন।

 

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. ইবরাহীমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আইডি ঘেঁটে রাষ্ট্রবিরোধী অনেক বক্তব্যও পাওয়া গেছে। সর্বশেষ রবিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিনি বর্তমান রাজনীতি নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানেও তিনি ‘মানব রচিত মনগড়া এই জাহেলি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে আল্লাহ প্রদত্ত (ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক রাষ্ট্রব্যবস্থা) রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন’ আনার কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তারা কাউন্সিলর হাজী মো. ইবরাহীমকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি প্রকাশ্যে কারও হাত কেটে আনার জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করতে পারেন না। তার এই ঘোষণার কারণে ছবিতে থাকা যুবকের ওপর যদি সত্যিই কেউ হামলা চালায় তবে এই দায় কাউন্সিলর ইবরাহীমকেই নিতে হবে। আমরা তাকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।


আরও সংবাদ