মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
৫০০ গৃহকর্মী ও ৮১ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৭ মে – শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস যে যেখানে আছে সেখানেই ঈদ : ‘নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরের দেয়ালগুলো যেভাবে রঙিন হলো সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনায় গ্রেফতার ২ : নেপথ্যে হেফাজত অনিয়মের বিরুদ্ধে সাবধান করলেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আল্টিমেটামের পরেই হেফাজতের তাণ্ডব সারদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শ্রমিক, ইমাম, ভ্যানচলক : আশ্রয়হীদের জন্য সরকারি ঘর উগ্রতার দায়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট বিচ্ছেদের আগেই সম্পত্তি ভাগাভাগির চুক্তি !

সাদা জামা এবং মাওলানার আড়ালের মুখোশ

হায়দার মোহাম্মদ জিতু
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

‘সাদা সাদা জামা পরলেই আর বড় মাওলানা হলেই মানুষ হয় না, মুখোশধারীও হয়’। গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়লাব এই উক্তি একজন নারীর অসহায়ত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। যেখানে ইসলামিক সমাজ ব্যবস্থার মুখোশে হেফাজত নেতা মামুনুল হক নিজের জারিজুরি এবং মাওলানা বেশে ঝর্না নামের একজন নারীকে দিনের পর দিন ভোগের পাত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

প্রাথমিকভাবে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জানান দিলেও জনগণের চাপে একে একে বেরিয়ে আসে ইসলামিক লেবাসের আড়ালে মামুনুলের ভোগ-বিলাসিতার কাণ্ডকারখানা। শুধু তাই নয় রাষ্ট্র সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে অবুঝ-এতিম শিশুদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক উন্মাদনায় নামিয়ে তিনি যে আমোদ ফুর্তিতে ব্যস্ত সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।

পাশাপাশি শৈশব-কৈশোরে সিনেমায় দেখা আকাশ বাতাশ সাক্ষী রেখে বিয়ে করার মতো শুধু কালেমা পড়ে যে বিয়ের গল্প সাজানো হয়েছিল তাও যে মিথ্যা সেটাও ওই নারীর ডায়েরি, সন্তান এবং মামুনুলের পরিবারের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে। কাজেই এ হিসেবে ওই নারীর সাথে তার এতদিনের সম্পর্ক যে অবৈধ এবং প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা ছিল, তাও স্পষ্ট। ইসলামিক তরিকায় যা বড় মহাপাপ।

তাছাড়া স্বামী থাকাকালীন সময়েই যে মামুনুলের লোভের দৃষ্টি ওই নারীর দিকে পড়েছিল এবং তিনিই যে ওই নারীর বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ সেটাও ফুটে উঠেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো, দেশ এবং জাতি সম্পর্কে ভুল বুঝিয়ে অবুঝ ছেলেদের রাষ্ট্রীয় আইনের বিরুদ্ধে মাতিয়ে তিনি গেছেন রিসোর্ট অবকাশে! যদিও ‘কাম বাসনা’র সমুদ্রে এর আগেও তিনি বহুবার অবৈধ অবকাশ করেছেন।

এমন নিচ চরিত্র সম্পন্ন মানুষ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় নিক্ষিপের কথা বলেছেন! অথচ বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭’ই মার্চের ভাষণেও বলেছেন, জনগণের রক্তের উপর দিয়ে শেখ মুজিব আর.টি.সিতে যোগ দান করতে পারেন না। বঙ্গবন্ধু আজন্মই জনগণের। সেই বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে এক ভাস্কর্য দিয়ে এরা বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে নিজেদের কৃতকর্মের ফাঁদে আজ নিজেরাই পুটলি হাতে ফুটপাতে।

অথচ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর জাতির পিতা এবং ভাস্কর্য নিয়ে এদের কোনও বাতচিত নেই। আর এর কারণ অন্তরের কায়েদ-ই আযম বাইরের বঙ্গবন্ধু মেনে নিতে না পারা। তবে এই চরিত্রহীনদের গুটি কয়েক ভাবলে ভুল হবে। কারণ এখন লড়াইটা চলছে উদার অসাম্প্রদায়িক দেশীয় আদর্শের বিরুদ্ধে ৭১ এর পরাজিত পাকিস্তানি উত্তরসূরীদের। কাজেই এক্ষেত্রে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন সকলের ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা জরুরি।

 

৭১’এ স্বাধীনতা বিরোধিতাকারীরা এই বায়তুল মোকাররম থেকে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিকামী মানুষদের ইসলামের দুশমন প্রকাশ করে পদযাত্রা করেছিল। ওই সময়ের পরাজয়ের কারণে তারা আজ আরও পরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ। তাছাড়া এখনকার বাংলাদেশ বিশ্ব শক্তির অংশ হয়ে উঠছে। কাজেই একে পকেটে ঢোকানোর জন্যে মৌলবাদ এবং সাংস্কৃতিক শূন্যতাই মহাওষুধ। যার উদাহরণ বাঙালির ঐতিহ্যের বইমেলাকে অনিরাপদ এবং নিরুৎসাহিত করার জন্যে মুক্তমনা ব্লগার, লেখকদের হামলা এবং হত্যার ঘটনা। মৌলবাদী বিরোধিতার লেখক হুমায়ুন আজাদকে এই বইমেলা প্রাঙ্গণেই প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত এবং হত্যা করা হয়েছিল।

তবে এক্ষেত্রে দুর্ভাগ্য যে ৭১ এর চেয়ে এখনকার সংস্কৃতিচর্চাকারী শ্রেণি অনেক রক্ষণশীল। জাগতিক চাহিদার ফাঁদে সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধকে তারা চায়ের চুমুকে রেখেছে। এক্ষেত্রে তরুণরাই একক ভরসা। কারণ তারাই এখন মোট জনসংখ্যার অনেক বড় একটা অংশ। এটা মৌলবাদীরাও জানে। তারা দেখেছে ৭১’এ এই বাংলার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলেরাই শত্রু আসায় অস্ত্র হাতে রুখে দিয়েছিল।

কাজেই তাদের লক্ষ্য এখন তরুণ-তরুণী এবং পরিবারহীন সন্তানরা। যাদের দুর্বলতা এবং অসহায়ত্বকে পুঁজি করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার প্লট নির্মাণের ষড়যন্ত্র সাজানো। এক্ষেত্রে বাঙালির ঐতিহ্য ও চির তরুণ ‘পরিবার প্রথাকে’ গুরুত্ব আরোপ করলেই বহুলাংশে ওরা ব্যর্থ হবে। সেক্ষেত্রে সন্তানদের এবং প্রতিবেশী এতিম শিশুদের খবরাখবর রাখলেই যথেষ্ট। আর দখলদারদের হাত থেকে মাঠ, খোলা জায়গা উদ্ধার করে শরীরচর্চা, সুকুমারবৃত্তির ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি ধর্মচর্চার নামে কেউ যেন ইসলাম ও কোরআন-হাদিসকে ভুল ব্যাখ্যা দিতে না পারে সেজন্যে ধর্ম কেন্দ্রিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের কঠোর থেকে কঠোরতর হওয়া জরুরি। কারণ ইসলাম ধর্ম কোনও কল্পিত কাহিনি নয় যে কেউ একে মনগড়া রুপায়ন এবং বিকৃত ভঙ্গিতে সওদা করবে।

 

লেখক: হায়দার মোহাম্মদ জিতু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।


আরও সংবাদ