1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

নিষেধাজ্ঞা শেষ: ইলিশ ধরতে প্রস্তুত দুই লাখ জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩

ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে রবিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শুরু হবে ইলিশ শিকার। দুই মাস বন্ধ থাকার পর মাছঘাটগুলাতে বেড়েছে জেলেদের কর্মব্যস্ততা। মাছ ধরতে নৌকা ও জাল নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোলার প্রায় দুই লক্ষাধিক জেলে। রাত ১২টা বাজলেই নদীতে নেমে পড়বেন মাছ শিকারে। নদীতে শিকার করা মাছ বিক্রি করে ধারদেনা পরিশোধের আশা জেলেদের। তাই দীর্ঘ দুই মাস নীরব থাকা মাছঘাটগুলোও পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলে, আড়তদার ও পাইকারদের পদচারণে।

রবিবার সকাল থেকে ভোলা সদর উপজেলার জোড় খাল মাছঘাট, ভাংতির খাল, ইলিশা, তুলাতলী, ভোলার খাল, নাছির মাঝিসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে মাছ শিকারের জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এত দিন ঘাটে বেঁধে রাখা নৌকাগুলো মেরামত করছেন জেলেরা। আবার কেউ কেউ জাল বোনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি ঘাটেই নদীতে নামার জন্য জেলেদের প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে আড়তদাররাও তাদের আড়তগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘ দুই মাস বেকার সময় কাটিয়ে নতুন উদ্যমে ইলিশ শিকার ও বিক্রিতে মেতে উঠবেন তাঁরা। মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় আহরণ করা সেই মাছ বিক্রি করে সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী জেলেরা।

সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের জেলে মো. খোকন মাঝি জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে জেলে পেশায় আছেন। দুই মাসের অভিযানে ৩০ হাজার টাকার মতো ঋণ করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ শিকার করে এ ঋণ পরিশোধ করবেন।

সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝের চরের জেলে মো. জহির মাঝি জানান, দুই মাস সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ও তাঁর নৌকার আট জেলে নদীতে মাছ শিকারে যাননি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ, তাই তিনি নৌকা মেরামত করছেন। রবিবার রাত ১২টা বাজলেই নদীতে মাছ শিকারে যাবেন তারা।

একই এলাকার জেলে হিরন মাঝি, রতন মাঝি ও শামিম মাঝি জানান, এত দিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল, তাই তারা নদীতে যাননি। রবিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় তারা নৌকা ও জাল মেরামত করে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার ধনিয়া এলাকার সাদু মাঝি জানান, সরকার অভিযান দেওয়ায় তারা নদীতে নামেননি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু জেলে প্রভাবশালী লোকদের ছত্রচ্ছায়ায় নদীতে মাছ শিকার করেছেন। আবার অভিযান শেষে এই চক্রটিই বিভিন্ন অবৈধ বেড় জাল, পাই জাল, বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছের রেণু ধ্বংস করে। এদের এ অবৈধ জাল বন্ধ না করা হলে অভিযানে কোনো লাভ হবে না।

ধনিয়া তুলাতুলী মাছঘাটের আড়তদার মো. ইউনুছ ব্যাপারী জানান, এত দিন অভিযান থাকায় মাছের আড়ত বন্ধ ছিল। অভিযান উঠে যাওয়ায় জেলেরা নদীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর তাঁরাও মাছ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করছেন কাঙ্ক্ষিত মাছ পেলে গত দুই মাসের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ জানান, রবিবার মধ্যরাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে আর বাধা নেই। জেলেরা উৎসবের আমেজে নদীতে মাছ ধরবেন। এ বছর অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে দাবি করে এ কর্মকর্তা জানান, গত অক্টোবর মাসে যে মা-ইলিশ বাচ্চা দিয়েছে, সেগুলোকে রক্ষা করতেই মূলত এ অভিযান। এ রেণু রক্ষায় নদীতে থেকে অবৈধ জাল অপসারণে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। আর এতে অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে। তাই ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।

তিনি আরো জানান, গত দুই মাসে ভোলার সাত উপজেলায় ৪০৩টি অভিযান পরিচালনা করে ৩৬২ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। ৪৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০৩ জন জেলেকে ছয় লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আটককৃত বাকিরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল।


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ