1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

ছাত্র রাজনীতি, বুয়েট ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪

বুয়েটের সাম্প্রতিক ঘটনা সমূহ প্রত্যক্ষ করে আমার মানসপটে ভেসে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দুঃসহ স্মৃতি। আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) আর্থিক সহযোযিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার সন্নিকটে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে (বর্তমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং আমি ছিলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ১৯৯০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলাম।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আশির দশকে যেখানে ছাত্র ভর্তির নুন্যতম যোগ্যতা ছিল ৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ অন্তত একটিতে প্রথম বিভাগ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনই করা যেত নাা। সে সময় বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও ভর্তির নুন্যতম যোগ্যতা ছিল ৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ এসএসসি এবং এইচএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগ থাকলেই বুয়েট কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সুযোগ ছিল কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি অথবা এইচএসসি’র যে কোন একটিতে প্রথম বিভাগ ছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনই করা যেতো না। সুতরাং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন দেশের সেরা ছাত্ররাই শুধু ভর্তির সুযোগ পেতো।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ভর্তি ফরমের সাথে আরেকটি ফরমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করব না মর্মে আমাদের কাছে থেকে একটি অঙ্গীকারনামা নেওয়া হতো। সে ফরমে ছাত্রদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরকেও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হতো। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রী ভর্তি করা হতো না। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের কিছু অদ্ভুত কালাকানুন দেখে আমরা অবাক হয়েছিলাম। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ রাখার নামে প্রকারন্তে ধর্মান্ধ, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে তাদের অপরাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে। রাজনীতি বন্ধের নামে জামাত-শিবিরকে মসজিদকেন্দ্রিক রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ, ছাত্রী ও অমুসলিমদের ভর্তি নিষিদ্ধ, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ, বিশেষ বিশেষ দিবসে ছাত্রদের পায়জামা পাঞ্জাবি পরিধান বাধ্যতামুলকসহ প্রভৃতি নিয়ম চালু করেছিলো। এসবই করা হয়েছিল ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য । আমরা ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এসব কালাকানুন বাতিল করতে বাধ্য করেছিলাম। কর্তৃপক্ষের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলাম। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ডিপার্টমেন্ট চালু, ছাত্রী ও অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যবস্থা করতে বাধ্য করেছিলাম। অবশ্য এজন্য আমাদের চরম মুল্য দিতে হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ডজন ডজন মিথ্যা মামলায় চরম হয়রানি ও কারাভোগ করতে হয়েছিল। শুধু তাই নয় অন্তত তিনবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মুক্ত জ্ঞান চর্চার অন্যতম বিদ্যাপিঠে পরিণত হয়েছে।

বুয়েটের সাম্প্রতিক ঘটনা সমূহ দেখে আজ থেকে প্রায় চার দশক আগের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলবাদীদের সেই অপতৎপরতার কথা মনে পড়ছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সেই কুটকৌশলের সাথে আজকের বুয়েট কতৃপক্ষের অনেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বুয়েট বাংলাদেশের মেধাবীদের চারণভূমি। মহান মুক্তিযুদ্ধে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এদেশের ছাত্র আন্দোলনের স্বর্ণোজ্জল ইতিহাস রয়েছে। এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই বর্তমান ছাত্র রাজনীতি তার জৌলুশ হারিয়েছে। ছাত্রনেতাদের কিছু নেতিবাচক কর্মকান্ড ছাত্ররাজনীতিকে কালিমালিপ্ত করেছে। এখন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক ছাত্রনেতাদের সম্পৃক্ত করে ছাত্ররাজনীতিকে গৌরবোজ্জ্বল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে মুক্ত জ্ঞানচর্চার সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। তবে এটাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে ছাত্ররাজনীতির নামে বুয়েটে আর যেন কোন মায়ের কোল খালি না হয়। ছাত্ররাজনীতি যেন ছাত্রদের কল্যাণে, দেশের কল্যাণে হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই হতে পারে অনন্য মডেল।

লেখক: অধ্যক্ষ ড. শাহজাহান আলম সাজু, সাবেক সংসদ সদস্য ও শিক্ষাবিদ 


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ