1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটিতে নতুন বিভাগ

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত এক যুগে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা খরচ করেছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি নগরবাসীর। এখনো এক-দেড় ঘণ্টার মাঝারি বৃষ্টিতেই পানিতে থইথই করে ঢাকার অলিগলি। ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে এ দায়িত্ব ছেড়েছে ঢাকা ওয়াসা। এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন বিভাগ খুলছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। জনবল চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। যাচাইয়ের পর এ প্রস্তাবনার অনুমোদন দেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের হাতে ছিল। এরপর পৌরসভা এ দায়িত্ব পালন করত। ১৯৮৮ সালে এই দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে ঢাকা মহানগরীর প্রধান ড্রেন লাইনগুলো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল ঢাকা ওয়াসার। আর শাখা লাইনগুলোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। ওই সময় রাজধানীর মোট ড্রেনেজ লাইনের মধ্যে ৩৮৫ কিলোমিটার ঢাকা ওয়াসার অধীনে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে ছিল। এর বাইরে ৭৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ২৬টি খাল ও ১০ কিলোমিটার বক্স-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ছিল ঢাকা ওয়াসার। তবে জলাবদ্ধতার জন্য এক সংস্থা অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে আসছিল। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ওয়াসার দায়িত্বে থাকা সব নালা ও খাল দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১টি খালের বর্জ্য পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল উদ্ধার, খালের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সবুজায়নসহ যাবতীয় কাজের দায়িত্ব পায়। ওয়াসার পাম্পিং স্টেশন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কও সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের জুনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫টি স্লুইসগেট ডিএসসিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‘ঢাকা/নারায়ণগঞ্জ/ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৪টি খাল সেনাবাহিনীর মাধ্যমে খনন করে দক্ষিণ সিটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াসার খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তাদের জনবল ও সক্ষমতা না থাকায় জলাবদ্ধতা কাটেনি। গত বছরও মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। মিরপুরে বৃষ্টির পানিতে বৈদ্যুতিক তার পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। ২০১১ সালে স্থানীয় বিল-২০১১ অনুযায়ী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালে দুই সিটি করপোরেশনে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করা হয়। এতে বাড়ে ওয়ার্ডের সংখ্যা। আগের ৩৬টির সঙ্গে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় ডিএনসিসির ওয়ার্ড হয় ৫৪টি। একইভাবে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় ডিএসসিসিতে মোট ওয়ার্ড দাঁড়ায় ৭৫। দুই সিটির আয়তন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবা প্রদানেও চ্যালেঞ্জ বাড়ে।

সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছরের ১৪ জুলাই ডিএসসিসি ‘জলাবদ্ধতা নিরসন শাখা’ নামে নতুন একটি বিভাগে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে মোট ১১৪ পদ এবং বাজার, বিপণিবিতান নির্মাণ ও সংস্কার শাখার রাজস্ব খাতে ১৪টিসহ মোট ১২৮ পদের একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবনার দুটি বিভাগে পদের কাজের বিবরণসহ বিধি উল্লেখ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ জানায়। পরবর্তী সময়ে ডিএসসিসি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চেকলিস্ট অনুযায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন শাখায় ১১৪টি পদ এবং বাজার, বিপণিবিতান নির্মাণ ও সংস্কার শাখার রাজস্ব খাতে ১৪টি নতুন পদ সৃষ্টি করে প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছে। আর ডিএনসিসি ‘ড্রেনেজ সার্কেল’ নামে একটি বিভাগে ২৬৫ ও সিটি স্যানিটেশন সেলে ৬৯ পদ তৈরির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠায় গত অক্টোবরে। এরপর গত ১৪ মার্চ ডিএনসিসি ড্রেনেজ সার্কেলে ১৯৬ এবং সিটি স্যানিটেশন সেলে ৬৬ পদ তৈরির সংশোধিত প্রস্তাব পাঠায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।

ডিএনসিসির প্রস্তাবিত ড্রেনেজ সার্কেল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফারুক হাসান মো. আল মাসুদ বলেন, ডিএনসিসির জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ সার্কেল ও সিটি স্যানিটেশন সেল নামে নতুন দুটি বিভাগ খোলা হচ্ছে। বিভাগ দুটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চেকলিস্ট অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে সংশোধনী দেওয়ার পর তা সংশোধন করে আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ডিএসসিসি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোর জনবল দিয়ে সম্ভব হচ্ছে না। নগরবাসীর সেবা নিশ্চিতে জলাবদ্ধতা নিরসন শাখা সৃষ্টি করে প্রয়োজনীয় আরও জনবল অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোতে সংস্থানকৃত জনবল দিয়ে বাজার, বিপণিবিতান নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা জলাবদ্ধতা নিরসন আর বাজার, বিপণীবিতান নির্মাণ ও সংস্কার শাখার রাজস্ব খাতে পদ সৃষ্টি করতে একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছি। তারা এতে কিছু সংশোধনী দিয়েছে, আমরা সেসব সংশোধনী চিহ্নিত করে আবার মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠাব।

 


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ