1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

বিশ্ব রাজনীতি ও অস্ত্র কারবারি

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ আমেরিকা যেন স্বপ্নের গন্তব্য, সভ্যতার তীর্থভূমি। স্বপ্নের এই আমেরিকাই বাংলাদেশের আবির হোসেনের পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে এক দুঃস্বপ্নের নাম। গত বছর ডিসেম্বরে টেক্সাস শহরে নিজ কর্মক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন আবির। যে ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।

আবির শুধু একা নন, মার্কিন মুল্লুকে দিনে ৩২৭ জন বুলেট-সন্ত্রাসের শিকার হন, যার মধ্যে গড়ে ১১৭ জন মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সংস্থা ব্রাডির পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।

আমেরিকান যে অস্ত্র গাজায় এক অসহায় ফিলিস্তিনির জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিচ্ছে, সেই অস্ত্রের কারণেই খোদ আমেরিকানরাও প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন বুলেট-সন্ত্রাসের। বলতে দ্বিধা নেই, সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। যাদের হাতে সভ্যতার ঝাণ্ডা, তাদের মধ্যেই কেউবা অস্ত্রের ব্যাপারী, আবার কেউ খদ্দের।

বিশ্ব ইতিহাসে যাদের হাতে বুলেট ছিল তারা অসহায়দের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে আজ অবধি নিজেদের মনগড়া সভ্যতার গল্প শুনাচ্ছে সেই ঔপনিবেশিক যুগ থেকে।

হোক সেটা কলম্বাস বা ভাস্কো দ্য গামার মতো নাবিকের মুখোশপরা খুনী কিংবা ব্যবসার নামে আসা সাদা চামড়ার ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ বা পর্তুগিজ বণিক; সবার উদ্দেশ্য ছিল একটাই — বন্দুকের নলে ক্ষমতার ঝাণ্ডা লাগিয়ে সভ্যতার মুখরোচক বাণী নিজেদের মর্জিমতো ছড়িয়ে দেয়া।

অস্ত্রের বাজারের বাঘা বাঘা ব্যাপারী
প্রতিবছর বৈশ্বিক অস্ত্র বাজার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সুইডেনের প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)। প্রতিষ্ঠানটির সবশেষ হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, বিশ্বে অস্ত্র রফতানিতে বরাবরের মতো শীর্ষ দেশের তালিকায় প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নাম।

বর্তমানে বিশ্বের ৬৬টি দেশ অস্ত্র রফতানি করে। ২০১৯-’২৩ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিশ্বে অস্ত্র রফতানিতে শীর্ষ পাঁচ দেশ হচ্ছে — যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি।

বিশ্বের ৭৫ শতাংশ অস্ত্রের বাজার এ পাঁচ দেশের হাতে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, আফ্রিকায় জাতিগত সংঘাত, লাতিন দেশগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম — এসব কিছুর পেছনে রয়েছে বিশাল এ অস্ত্র বাজারব্যবস্থার নিগূঢ় স্বার্থ।

জঙ্গিবাদের জন্য মুসলমানদের, গৃহযুদ্ধের জন্য আফ্রিকাকে কিংবা আগ্রাসনের জন্য রাশিয়াকে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো একপাক্ষিক দায় দিয়ে আসলেও, বিগত সব হিসাবনিকাশ বলছে ভিন্ন কথা। ২০১৪-১৮ সালের সঙ্গে ২০১৯-২৩ সালের তুলনা করে দেখা যায়, মধ্যবর্তী এ সময়ে চীন কিংবা রাশিয়ার অস্ত্র রফতানি কমে আসলেও, হু হু করে বেড়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের।

যেকোনো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপকে দেখা যায় সবার আগে। মাত্র ৫ বছরের মধ্যে তাদের অস্ত্র রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ৬২ শতাংশ। এসআইপিআরআই পরিসংখ্যান দেখে বুঝতে বাকি থাকে না, বিগত বছরগুলোতে এত এত যুদ্ধ-বিগ্রহের লাভের গুড় আসলে কাদের পেটে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায় বারুদের গন্ধ
ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি বিশ্বে যে পরিমাণে অস্ত্র রফতানি করে, যুক্তরাষ্ট্র একা তার চেয়ে বেশি অস্ত্র বিক্রি করে থাকে। বিশ্বের ১০৭টি দেশে অস্ত্র রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র, যার বৈশ্বিক হিস্যা ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে ফ্রান্স আর রাশিয়ার হিস্যা ১১ শতাংশ করে এবং চীন ৫.৮ ও জার্মানি ৫.৬ শতাংশ অস্ত্র রফতানির ভাগিদার।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাজার সবচেয়ে বেশি টিকে আছে মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে। ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ অস্ত্রের বাজার ছিল মধ্যপ্রাচ্য। ২০১৯-২৩ সালে সেটি কমে ৩৪ শতাংশে নামলেও, এখনও মধ্যপ্রাচ্য আমেরিকান অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বাজার।

মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র খরিদ করে। সৌদি আরব একাই আমেরিকার এই হিস্যার ১৫ শতাংশ অস্ত্রের খরিদ্দার। এরপর যথাক্রমে নাম উঠে এসেছে কাতার, কুয়েত ও ইসরাইলের। অস্ত্রের ক্রেতাদের দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়, ইয়েমেনে সৌদির যুদ্ধ কিংবা ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসনে আসল ফায়দা কার ঝুলিতে যোগ হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের বাজারের সবচেয়ে বড় টার্গেট ওশেনিয়া আর এশিয়ার বাজার। এই বাজারে যুক্তরাষ্ট্র রফতানির ৩১ শতাংশ অস্ত্র বিক্রি করে। এশিয়া জাপান ও ওশেনিয়ায় অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কিনে থাকে।

এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি লাভের বাজার দক্ষিণ কোরিয়া। মূলত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার অস্থিরতার ফায়দা লুটতেই দেশটির কাছে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৪-১৮ এর অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে ২০১৯-২৩ সালের তুলনা করলে দেখা যায়, পাঁচ বছরের ব্যবধানে ইউরোপের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ২০০ শতাংশ। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের ভয় দেখিয়ে ইউরোপের বাজারকে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাতে পেরেছে দেশটি। শুধু রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের বাজার থেকে শুরু করে ঝুঁকিতে থাকা ইউরোপের বাকি দেশগুলোতে বিগত বছরে দেদারসে অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাফালের গতিতে ফ্রান্সের ভরসা
যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ত্র ব্যবসায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দেশটির নাম ফ্রান্স। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবসা বহুমুখী অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে, সেখানে ফ্রান্স এক রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রি করেই বিশ্বে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে ফ্রান্সের এত চাহিদা মূলত এই যুদ্ধ বিমানকে ঘিরে।

বিশ্বের ৬৪ দেশে ফ্রান্স অস্ত্র বিক্রি করলেও, শুধু ভারতেই দেশটি রফতানির ২৯ শতাংশ অস্ত্র বেচাবিক্রি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের মতোই ফ্রান্সের অস্ত্র ব্যবসা এশিয়া ও এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক।

ইউরোপে ফ্রান্স বহুদিন ধরে বাজার সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা করলেও গ্রিসের বাইরে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ইউরোপের ফরাসি অস্ত্র বাজারে ৫৩ শতাংশের খরিদ্দার গ্রিস একা। মূলত রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য গ্রিস ফ্রান্স ছাড়া আর কারও ওপরে ভরসা করতে পারে না।

বিশ্বে ফ্রান্সের রাফাল যুদ্ধবিমানের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে। ২০১৪-১৮ সালে যেখানে ফ্রান্স মাত্র ২৩টি যুদ্ধবিমান বিক্রি করেছিল, সেখানে ২০১৯-২৩ সালে এ বিক্রির পরিমাণ বেড়ে ৯৪ হয়েছে।

এসআইপিআরআই এর তথ্যমতে, ফ্রান্সের হাতে বর্তমানে প্রায় ২০০ রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির অর্ডার রয়েছে। রাফাল যুদ্ধবিমানের তালিকা ইউরোপের থেকে এশিয়ায় বেশি। বিশেষ করে ভারতের পর এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সবচেয়ে বেশি রাফাল বিক্রি করে ফ্রান্স।

ফরাসিদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ইউরোপের বাজারে আমেরিকাকে টেক্কা দেয়া। ইউরোপে গড়ে ১০টি দেশের মধ্যে ৮টি দেশ রাফাল না কিনে, আমেরিকান এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ বিমান কিনে থাকে।

গ্রিসের বাইরে ক্রোয়েশিয়াতে কিছুটা বাজার সম্প্রসারণ করতে পারলেও ফ্রান্সের লক্ষ্য সমগ্র ইউরোপ। তবে ইউরোপের বাজার শুধু যে রাফাল দিয়ে রাজত্ব করা যাবে না সেটা বুঝতে পেরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্দের বাজারেও টিকে আছে রাশিয়া
ফ্রান্সের মতো রাশিয়ার অস্ত্রের বাজারেও ভারত একটি ভরসার নাম। ভারতকে কেন্দ্র করেই রাশিয়া এশিয়ার বাজারে টিকে আছে বলে ধারণা করা হয়। এশিয়ার পরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারেও রাশিয়ার অস্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা প্রশংসনীয়।

তবে ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকে রাশিয়ার অস্ত্র রফতানিতে এক রকমের ধস নেমেছে। ২০১৪-১৮ সালে যে পরিমাণে অস্ত্র রফতানি করেছে রাশিয়া, ২০১৯-২৩ এ সেই রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৩ শতাংশ কম। শুধু ২০২২ সালে রাশিয়া যে পরিমাণ অস্ত্র রফতানি করেছে তার তুলনায় ২০২৩ সালে রফতানির পরিমাণ ৫২ শতাংশ কমে গেছে।

এসআইপিআরআই এর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে রাশিয়া বিশ্বের ৩১টি দেশে অস্ত্র রফতানি করত যা ২০২২ সালে কমে ১৪ তে নেমে এসেছে। ২০২৩ সালে রাশিয়ার অস্ত্র রফতানি কমে বর্তমানে ১২টি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

যেসব দেশে বর্তমানে রাশিয়া অস্ত্র বিক্রি করছে সেখানেও বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বিগত পাঁচ বছরে ভার‌তে রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রি কমেছে ৩৪ শতাংশ, চীনে ৩৯ শতাংশ এবং মিশরে ৫৪ শতাংশ।

এর বাইরে আলজেরিয়া ও ভিয়েতনামেও রাশিয়ার অস্ত্র রফতানি এক রকমের তলানিতে এসে ঠেকেছে। অস্ত্র বিক্রি কমার পরও এখন পর্যন্ত আফ্রিকার দেশগুলোতে ২৪ শতাংশ অস্ত্রের জোগানদাতা রাশিয়া। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা ১৬ শতাংশ, চীনের ১৩ শতাংশ ও ফ্রান্সের ১০ শতাংশ।

চীনের ভরসা পাকিস্তান, ইউরোপের মধ্যপ্রাচ্য
এশিয়ার দেশ চীনের অস্ত্র বাজারের বড় অংশ এশিয়া ও ওশেনিয়াকেন্দ্রিক। শুধু এশিয়ার দেশ পাকিস্তানেই চীন নিজেদের ৬১ শতাংশ অস্ত্র বিক্রি করে থাকে। চীন রফতানির মোট ৮৫ শতাংশ অস্ত্র এশিয়া ও ওশেনিয়ায় বিক্রির পাশাপাশি আফ্রিকাতেও প্রায় ১০ শতাংশ অস্ত্র বিক্রি করে থাকে।

অন্যদিকে ইউরোপের দেশ জার্মানি ও ইতালির অস্ত্রের বাজার অনেকটা টিকে আছে মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে। জার্মানি নিজ রফতানির ৩৯ শতাংশ অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করে। একইভাবে ইতালির ৭১ শতাংশ অস্ত্রও সম্পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারকেন্দ্রিক। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া দুটি দেশের ইউরোপের বাজারেও ভালো অঙ্কের হিস্যা আছে।

অস্থিরতার বাতাসেই এশিয়ার বাজার দখল
অস্ত্রের খরিদ্দার হিসাবে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বারবার উঠে এসেছে ভারত ও পাকিস্তানের নাম। মূলত দেশ দুটির মধ্যকার অস্থিরতাই ভারত-পাকিস্তানকে অস্ত্র বিক্রেতাদের তীর্থভূমিতে পরিণত করেছে। এতদিন ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভর করলেও, রাশিয়া অস্ত্র রফতানি কমিয়ে দেয়ায় এবার ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের ভরসা এখন পর্যন্ত চীন। দেশটি ৮২ শতাংশ অস্ত্র শুধু চীনের কাছ থেকেই কিনে থাকে। বর্তমানে অস্ত্রের খরিদ্দার হিসাবে বিশ্ববাজারে ভারতের হিস্যা ৯ দশমিক ৮ শতাংশ ও পাকিস্তানের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

ভারত-পাকিস্তানের বাজার রাশিয়া ও চীন ধরলেও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার যুক্তরাষ্ট্র একা কুক্ষিগত করে রেখেছে। চীন আর উত্তর কোরিয়ার ভয়ে নিজেদের অস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দেশ দুটি। জাপান মোট অস্ত্রের ৯৭ ভাগ ও দক্ষিণ কোরিয়া ৭২ ভাগ শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রয় করে।

বিগত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের কাছে ২৯টি ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩৪টি যুদ্ধজাহাজ বিক্রি করেছে। এছাড়া ২০২৩ সালে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ৪০০টি উচ্চমাত্রার মিসাইল ক্রয় করেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমন সব অস্ত্র কিনছে যা দূরের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম।

চীনের ভয় দেখিয়ে অস্ত্র বিক্রির যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় বাজার তাইওয়ান। দেশটির ৯৯ শতাংশ অস্ত্রের জোগানদাতা যুক্তরাষ্ট্র। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে ৬৬টি যুদ্ধজাহাজ, ১০৮টি ট্যাংক ও ৪৬০টি জাহাজ ধ্বংসকারী মিসাইল সরবরাহ করবে। জাহাজ ধ্বংসকারী মিসাইল ক্রয়ের ব্যপকতা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, সমুদ্রপথে চীনের বিরুদ্ধে টেক্কা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহই এখন তাইওয়ানের প্রধান ভরসা।

ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপারীদের পোয়াবারো
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ২০২২-২৩ সালে ইউরোপের দেশগুলোতে অস্ত্র আমদানি হয়েছে আকাশচুম্বী, যার সিংহভাগ লাভ গেছে যুক্তরাষ্ট্রের পকেটে। বিগত পাঁচ বছরে ইউরোপে অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৯৪ শতাংশ।

বিক্রিত অস্ত্রের ২৩ শতাংশ ইউক্রেন একাই কিনেছে। ইউক্রেন যে পরিমাণে অস্ত্র কিনেছে, তাতে করে ২০২৩ সালে ইউরোপের সর্বোচ্চ অস্ত্র আমদানিকারক দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিশ্ব আমদানির বাজারেও দেশটি নাম এখন চতুর্থ অবস্থানে।

মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আফ্রিকা, ইউরোপ কিংবা এশিয়া; যুদ্ধ যেখানেই চলুক দিন শেষে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মুখে শেষ হাসিটা লেগেই আছে। বাঘা বাঘা অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রায় লেগে আছে রক্তের দাগ, দামী দামী স্থাপনায় বারুদের গন্ধ।

যুদ্ধ আর যুদ্ধভাবাপন্ন অবস্থাকে উসকে দিয়ে সভ্যতার বুলি আওড়ানো এসব দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডের সিংহভাগ জুড়ে আছে অস্ত্র ব্যবসা। এদের লোভ বিশ্বকে পরিণত করেছে অস্ত্রের দোকানে, যেখানে ব্যাপারী আর খরিদদারের দামাদামিতে সবচেয়ে তুচ্ছ মানুষের জীবন।


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ

নির্বাচিত