রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড ও নির্বাচনে অযোগ্যতা নির্ধারিত হচ্ছে ! প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা বিবেচনাধীন!

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আপিলের প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগ আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দাখিলকৃত দলীলপত্রে সন্দেহাতীতভাবে দুর্ণীতি প্রমাণিত হওয়ায় উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দ্রুততার সাথে গৃহীত আইনী পদক্ষেপের কারণে হিতে বিপরীত হয়েছে নাকি তারেক রহমানের নির্দেশে আইনজীবীরা এমন করেছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পাঁচ বছরের সাজা থেকে রক্ষা পেতে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইবেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকা অবস্থায় ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিলের শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার সাজা বহাল থাকলে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হবেন তিনি।

বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আপিল বিভাগের ওই নির্দেশ খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত শঙ্কার সম্মুখীন করেছে। এ দায় বিএনপির আইনজীবীরা এড়াতে পারবেন না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী একজন আইনজীবী বলেন, সমস্ত বিষয়টি তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তিনিই প্রতিটি পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, তারেক রহমান নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, তাই বিএনপি খালেদা-কেন্দ্রিকই রয়ে গেছে। কিন্তু উভয়ই যদি অযোগ্য হন তাহলে আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ সহজতর হবে। এছাড়া খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে তারেকের নেতৃত্বে কোনো অংশীদার থাকবে না।

লন্ডনের এক সাংবাদিক জানান, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন পাওয়া যাবে- মূলত এমন চিন্তাভাবনা থেকেই আইনজীবীদের নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিতে খালেদাকে কারাগারে প্রেরণের মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও জন সমর্থনে ঘাটতিকেই নির্দেশ করছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে তারেকের দ্বন্দ্ব বহু বছরের। আমান উল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান দুদু ও হাবীবুন্নবী সোহেলসহ মাঝারি পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের একটি গ্রুপও তারেকের নেতৃত্ব মানতে নারাজ। এ কারণেই বিএনপির শাসনামলে নাসিরউদ্দিন পিন্টু ও ইলিয়াস আলীকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। এছাড়া মোসাদ্দেক আলী ফালু সমর্থিত বিএনপির একটি শক্তিশালী ধারাকে কোণঠাসা করে রেখেছে তারেকপন্থীরা। ফখরুল ও মওদুদ আহমেদসহ বিএনপির একটি পক্ষ সরকারের সাথে সমঝোতা করে চলার পক্ষপাতি। অন্যদিকে মোসাদ্দেক আলী ফালু খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার শর্তে মুক্তির সমঝোতা করতে চাচ্ছেন তিনি। এদিকে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সরকারের সাথে সমঝোতা করে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার নামে লন্ডন প্রেরণের পক্ষপাতি। এক্ষেত্রে খালেদা ও তারেক লন্ডন থেকেই দলের নেতৃত্ব দিবেন এমন পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তারেক রহমান সমর্থক বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখাই শ্রেয় বলে বিবেচনা করছেন। তবে বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্রের মতে, খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাইবেন।
খালেদা জিয়া ক্ষমা চাইবেন নাকি সরকারের সাথে সমঝোতা করে চিকিৎসার নামে দেশত্যাগ করবেন নাকি কারাগারেই থাকবেন – এটি দেখতে হয়তো আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টকে খালেদা জিয়ার পক্ষে করা আপিল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল বহাল রাখার পাশাপাশি ওই নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এরই মধ্যে হাইকোর্টে আপিলের ওপর শুনানির প্রস্তুতি নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আপিল বিভাগের রায়ের কপি পাওয়ার পরপরই দ্রুত ওই শুনানির জন্য উদ্যোগ নেবে তারা।


আরও সংবাদ