1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

বিপন্ন মানবতা – ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান কোথায়!

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ৮ মে, ২০২৪

একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরছে ফিলিস্তিনে। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে ফিলিস্তিনের ধূসর জমি। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে লাশের মিছিল। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া ফিলিস্তিনে প্রবাহমান নদীর মতো এ রক্তঝরা অব্যহত রয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। গত বছরের ৭ মে থেকে ইসরাইলি সেনাদের আগ্রাসন বর্বরতার সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

ইসরায়েলের নির্বিচার বোমা হামলায় কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের চালানো বর্বর এই আগ্রাসনে গাজায় অন্তত ৩৪ হাজার ৭৮৯ এবং পশ্চিম তীরে ৪৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ফিলিস্তিনিদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজায় ৭৮ হাজার ২০৪ জন এবং পশ্চিম তীরে ৪৯৫০ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজের সংখ্যা ১০ সহস্রাধিক। এছাড়া ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। গাজায় গ্রেফতারকৃত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। বর্বরোচিত এই হামলায় হত্যা করা হয়েছে বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ১৪১ জন সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মি, ৪৯১ জন স্বাস্থ্যকর্মি, কর্তব্যরত ৬৭ জন সিভিল ডিফেন্স স্টাফ এবং ২৫৪ জন স্বেচ্ছাসেবী/উন্নয়নকর্মি। ১৭ হাজারের বেশি শিশু হারিয়েছে তাদের পিতা-মাতাকে।

গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলায় ফিলিস্তিনের হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। নজিরবিহীন এ হামলায় ১৮টি হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে, বন্ধ হয়েছে ১৮টি হাসপাতাল। মাত্র ২০ শতাংশ জাতীয় এবং ইউএনআরডব্লিউএ এর ৩৩ শতাংস স্বাস্থ্যকেন্দ্র কোনরকমে ঝুঁকির মুখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে ৭ লক্ষ ১২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যায় ভুগছেন। ১০ লাখ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সহায়তা প্রয়োজন। শিশুদের ৪০ শতাংশের বেশি অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে।

ফিলিস্তিনের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ৬ লাখ ২৫ হাজার কিশোর-তরুণ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। ৮০ শতাংশ স্কুল ভবন প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে যার ৬০ শতাংশ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৪২৫ শিক্ষার্থী এবং ৩ শতাধিক শিক্ষক ও স্কুল স্টাফ।

ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছে। ভুগছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ৮ লাখ ৫৪ হাজার ফিলিস্তিনি দুর্ভিক্ষের মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছেন। ২ লাখ ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনির জরুরীভাবে নিরাপদ খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। কার্যত গাজা উপত্যকার ২৩ লাখ মানুষ অপর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক পশু জবাই করে শিশুদের খাদ্য জোগাতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। নিত্যদিনের খাদ্য সংস্থান করতে কুড়িয়ে পাওয়া, পচন ধরা ভুট্টার দানা, পশুখাদ্য, এমনকি গাছের পাতা খেয়ে ক্ষুধা দমিয়ে রাখছে গাজার উদ্বাস্তুরা।

ফিলিস্তিনের ৮৩ শতাংশ ভূগর্ভস্থ কূপের পানি পানের অযোগ্য। তাদের পানির অন্যতম উৎস ইসরাইল হয়ে আসা পাইপলাইন যার মাত্র ৭২ শতাংশ কার্যকর রয়েছে। ২ লাখ ৭০ হাজার বর্জ্যের ফলে সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সুপেয় পানির অভাবে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ৬০ শতাংশ আবাসিক ভবন এবং ৮০ শতাংশ বাণিজ্যিক ভবন প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে তিনটি গীর্জা ও ২৪৩টি মসজিদ। ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় ১৫৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১৬৫টি ইউএনআরডব্লিওএ স্থাপনা ও ১৩০টি এমব্যুলেন্স ধ্বংস হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে বাস্তুচ্যুত ১৭ লাখ ফিলিস্তিনি। আইডিপি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রতিজনের জন্য থাকার স্থানের আয়তন ১ স্কয়ার মিটার। ৪১ শতাংশ আশ্রয়কেন্দ্রে ভেন্টিলেশনের অভাব রয়েছে। ৫৭ শতাংশ আশ্রয়কেন্দ্র বৃষ্টির কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর ২ লাখ ফিলিস্তিনি চাকরি হারিয়েছে। ১০০টি প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ইসলাইলে কর্মরত ১৮ হাজার ৫শ ফিলিস্তিনিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩ হাজার ৬শ ৬১ জন কর্মী।

অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ কোনও ধরনের আশ্রয় ছাড়াই বসবাস করছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম ত্রাণবাহী ট্রাক এই অঞ্চলে প্রবেশ করছে। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের রায়কেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি, ওষুধ ও খাবার ফুরিয়ে গেছে। পদদলিত মানবতা দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন বিশ্ব মোড়লরা। অথচ তারাই বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবতার ছবক দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো আন্তরিক হলে অনেক আগেই এ সমস্যায় সমাধান হয়ে যেতো। আরব বিশ্ব কিংবা ওআইসি’রও এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত। ওআইসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আল আকসার মর্যাদা ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য। আরব লীগ ও ওআইসি দৃঢ়ভাবে ফিলিস্তিনিদের পাশে হয়তো ফিলিস্তিন সংকট একটি গতি পেত। শক্তিধর দেশগুলো শান্তি, স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে কিনা, তার প্রমাণ দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা আশা করি, যুদ্ধ বন্ধে এবং দীর্ঘকালীন এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিশ্বের নেতৃবৃন্দ কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

সূত্রঃ বিশ্ব ব্যাংক, OCHA, আলজাজিরা, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ

নির্বাচিত