1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

ধর্মীয় রাজনীতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
সোমবার, ১৩ মে, ২০২৪

আমার অনেক বন্ধু আছেন কেউ আমাকে পছন্দ করেন আবার করেন না। আমি মাঝে মাঝে টুকটাক স্ট্যাটাস দেই। এর উপর অনেকে কটাক্ষ করেন ট্রল করেন আবার অনেকে ব্যঙ্গ করেন। তাই ভাবছি আমার অবস্থান তাদের কাছে পরিষ্কার করার দরকার। তাতে যদি কেউআমাকে অপছন্দ করেন তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। আমি ভিন্নমতে বিশ্বাস করি। আলোচনা বিশ্বাস করি। তবে হ্যাঁ তা হতে হবে গঠনমূলক এবং যৌক্তিক।

এবার আমার অবস্থানটা পরিষ্কার করি। আমি মুসলমান আমি বাঙালি বাঙালি সংস্কৃতি আমার রক্তের শিরায় উপশিরায় প্রবাহিত। আমি বিশ্বাস করি মহান আল্লাহতালা এক এবং তার কোন অংশীদার নাই। আমি আরো বিশ্বাস করি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাদের প্রিয় নবী আমরা তার উম্মত এবং কোরআন আমাদের সংবিধান। আমি কোন পীর কোন ধর্ম ব্যবসায়ী এবং ধর্মের নামে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করুক আমি তাদের কঠোর বিরোধী।

যেমনি করে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মের নামে আমাদের স্বাধীনতা বিরোধীতা করেছিল যেমন রাজাকার, আল বদর, আলশামস, পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আমাদের ৩০ লক্ষ লোককে হত্যা করেছিল এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছিল। আমি তাদের ঘৃণা করি এবং বিরোধিতা করি।

আমি বাঙালি জাতির ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং যার নেতৃত্বে আমরা মহান স্বাধীনতা লাভ করেছি সেই ব্যক্তিত্ব আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ লালন করে এবং তার স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করি। আমি বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রামকে বিশ্বাস করি। ভাষা আন্দোলন ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ৫৮ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ৬৬ সালের ছয় দফা ৬৯ এর গণ আন্দোলন ৭০ সালের নির্বাচন এবং ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমি বিশ্বাস করি।

পাশাপাশি স্বাধীনতা বিরোধী জামাত ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এর হত্যাকাণ্ডের কুশিলবসহ যারা এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে তাদেরকে আমি ঘৃণা করি। আমি আরো ঘৃণা করি ৭৫ সালের তেশরা নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে তাদেরকে। আমি আরো ঘৃণা করি জিয়াউর রহমানকে কারণ তিনি সেনা ছাউনি থেকে বের হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এই নয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হতে ৮৯ সালের যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে তাকে সংবিধানে বৈধতা দেওয়ার জন্য ইনডেমনিটি বিল অনুমোদন করেছে।

আমি জিয়াউর রহমানকে আরো ঘৃণা করি এই কারণে তিনি দালাল আইন তুলে দেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু করেন এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। এক কথায় জিয়াউর রহমান সাহেব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এমনভাবে টুকরো টুকরো করে কাটেন যা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা জোড়া লাগানো কঠিন।

এর ওই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়। এ সময় দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়। এ সময় লুটতরাজ অগ্নিসংযোগ এবং ধর্ষণ এটা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কাজেই জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার রাজত্বকে আমি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করতে চাই।

অনেকে আমাকে ভারতের দালাল বলেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের স্বাধীনতা রক্ত দিয়ে কেনা। তাই আমাদের এই স্বাধীনতার উপর কেউ খবরদারি করুক এটা আমি চাইনা। আমি ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই এবং দেখি। আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই আমাদের পাশে ছিল কিন্তু ভারত প্রত্যক্ষভাবে আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে।

আমাদের ২ কোটি লোককে আশ্রয় দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে সর্বোপরি ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের মিত্র বাহিনী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে।

এই যুদ্ধে ভারতের ১৬ হাজার সেনা নিহত হয়েছে। তাছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজ দেশ ভারতসহ সারা বিশ্বে বাংলাদেশের স্বীকৃতির আদায় করেছে। স্বাধীনতা উত্তর ভারত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন এর জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তাই ভারতের প্রতি আমি কেন মুক্তিযুদ্ধে যারা বিশ্বাস করে তাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। পাশাপাশি আমেরিকার সহ যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাদের আমি চরম বিরোধী।

এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি। কিন্তু যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে আমি ঘৃণা করি। কোন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করে এদেশে লুটতরাজ করুক সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলুক বিদেশে অর্থ পাচার করুক এটা আমি চাইনা এরা দেশের শত্রু।

কিন্তু আমরা দেখছি বর্তমান সরকারের পদলেহন করে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এদেরকে এখনই নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন তাদের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মোটকথা আমি মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বাস করি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নামে কেউ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বিরোধী কার্যকলাপ করুক এটা আমি চাইনা। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ ৪১ সালের উন্নত রাষ্ট্রে আমরা পৌঁছাবো তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আমি ব্যক্তিগতভাবে শক্তিশালী করার পক্ষে।

পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের আলখেল্লা পড়ে পক্ষান্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করতে এ ধরনের বুদ্ধিজীবীদের আমি ঘেন্না করি। ওরা ৭৫ হত্যাকান্ড, একুশে আগস্টের হত্যাকান্ড, সর্বোপরি পর্দার অন্তরালে থেকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করার যে অপচেষ্টা করে ওদেরকে আমি ঘৃণা করি।

আমার এই লেখা যাদের উদ্দেশ্যে সম্ভবত আমার সম্বন্ধে তাদের ধারণা পরিষ্কার হয়েছে। আমি ধামাচাপায় বিশ্বাস করিনা বিশ্বাস করি তাই করি সেভাবেই আমি লিখি। ধন্যবাদ সবাইকে।

লেখক : অধ্যাপক সৈয়দ সাদিক জাহিদুল ইসলাম – সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। সাবেক অধ্যক্ষ সরকারি বিএল কলেজ খুলনা এবং মাদারীপুর সরকারি কলেজ মাদারীপুর।


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ