1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

শেখ হাসিনা ও গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

পঁচাত্তরের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা শরণার্থী হয়ে আশ্রয় পান ভারতে। ছয় বছরের যন্ত্রণাদায়ক নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এ প্রত্যাবর্তন নিছক একজন মানুষ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে একদিকে যেমন তার দুই কন্যাকে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য করা হয়, অন্যদিকে দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার সবকিছুই নির্বাসিত হয়। ফিরে আসে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হওয়া পাকিস্তানি আদর্শের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সামরিক স্বৈরতন্ত্র। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়। সে পথেই ফিরে আসে মুক্তিযুদ্ধের হারানো চেতনা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। কাজেই বাঙালির জাতীয় জীবনে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দিনটি এ দেশের মানুষের মধ্যে এক ভিন্ন রকমের অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল। প্রকৃতিরও এক ভিন্ন প্রকাশ দেখা গিয়েছিল। মেঘমল্লারা যেন কান্নার প্রতীক রূপে বৃষ্টি হয়ে ঝরেছিল। প্রকৃতির অশ্রুপাতের মধ্যেই লাখ লাখ জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার শেখ হাসিনার মনের কোণে লুকিয়ে থাকা স্বজন হারানোর বেদনা হয়তো খানিকটা লাঘব করেছিল। লাখো জনতার মাঝে হয়তো তিনি খুঁজে ফিরেছিলেন পিতার স্নেহের ছায়া, মায়ের ভালোবাসা অথবা ছোট ভাই দেবশিশু শেখ রাসেলের মায়াভরা মুখ। অনেক চেনা মানুষের ভিড়েও হয়তোবা এ দেশকে তার কাছে অনেকটা অচেনা ঠেকেছিল। বাবার রাজনৈতিক জীবনের নিত্যসঙ্গী মানবরূপী দানবরা তো এ বাঙালির জনস্রোতের মধ্যেই মিশে ছিল। কী হিংস্র, ভয়ানক আর নিষ্ঠুর তাদের রূপ—এ ভাবনা হয়তো তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। মানুষের বেশে শয়তানদের নিত্য আসা-যাওয়া যে হত্যার পরিকল্পনার অংশ ছিল, তা সত্যিই অভাবনীয়। সেসব কথা ভেবে হয়তো বা আপন মাতৃভূমিতে নিজেকে কেমন যেন আগুন্তুক মনে হয়েছিল। যেখানে তার অস্তিত্বের উৎস—পিতা ছিল, সব মান-অভিমান, আবদার আর ভালোবাসার আশ্রয়স্থল মা-ভাই সবাই ছিল। ছিল দেবদূত শেখ রাসেল। স্বর্গের আনন্দপূর্ণ এক সাজানো বাগান ছিল। সেই আনন্দ আশ্রম নিমিষেই পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। হিংস্র দানবের দল যে হাতে এ বাড়ির নুন খেয়েছিল সে হাতেই স্বংক্রিয় যুদ্ধাস্ত্রের মাধ্যমে নিরস্ত্র মানুষগুলোকে খতম করেছিল। নারী-শিশু, নববধূ, বৃদ্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী কেউ বাদ যায়নি। স্বাধীনতার ঘোষণার সাক্ষী বত্রিশ নম্বরের বাড়িটিও উর্দিপরা পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যে বাড়িটি তার মায়ের সঞ্চিত অর্থে তিল তিল করে গড়ে উঠেছিল, সেই বাড়িটিতে ঢোকার অধিকার তার নেই। স্বজনদের স্মৃতিকে ধারণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে একটুখানি দোয়া করারও অনুমতি নেই।

তিনি এলেন রিক্তশূন্য হাতে এক বুক হাহাকার সঙ্গী করে। তিনি এসেছিলেন কোনো সহানুভূতির আশায় নয়, নয় কোনো রাজনৈতিক নেতা হওয়ার অভিলাষে, এসেছিলেন স্বৈরতন্ত্রের মূল উৎপাটন করে রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য সহজ করে দিতে দিতে। তিনি এসেছিলেন পিতা-মাতা, ভাইবোন হত্যার প্রতিশোধ নিতে নয়, এসেছিলেন খুনিচক্রের বিচার করে দেশে আইনের শাসন আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে দিতে। তিনি এসেছিলেন শাসন ক্ষমতায় বসার উদগ্র বাসনা নিয়ে নয়, এসেছিলেন ছিনতাই হওয়া ক্ষমতা সাধারণ মানুষের হাতে ফিরিয়ে দিতে। ভোগ বিলাসিতায় জীবন উপভোগ করতেও আসেননি তিনি, এসেছিলেন ‘বাবার মানুষের’ জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে, বাবার রেখে যাওয়া আদর্শের ভিত্তিতে বাঙালির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার পূর্ণতা দিতে। তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘আমার আর হারাবার কিছু নেই। পিতা-মাতা সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের মধ্যেই তাদের ফিরে পেতে চাই। আমি আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’ এভাবেই তিনি কোটি বাঙালির আপনজনে পরিণত হয়েছেন। অথচ কী নির্মমতার শিকারই না তিনি হয়েছিল পরিবারের সবাইকে হারানোর পর। অনেকেই সেদিন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এতিম দুই বোনের ওপর থেকে। সেসব তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন, তবে ভুলে যাননি।

পরিবারের সবাই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে দুই বোনের জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। রাষ্ট্র তাদের আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। খুনিদের রক্ষায় জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। মানবাধিকারের প্রতিভূ রাষ্ট্রসমূহ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবোধক। তারা বরং খুনি চক্রকেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল। ঠিক এমন এক ঘোর অমানিশায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের মতো আবারও পার্শ্ববর্তী বন্ধুরাষ্ট্র এতিম দুই কন্যাকে আশ্রয় দেন—মাতারূপে পাশে দাঁড়ান শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম পরিবর্তন করে সেখানে তাদের থাকতে হয়। সেখানে দুই বোন পরস্পরের ভরসা হিসেবে নিজেদের প্রবোধ দেন। বঙ্গবন্ধু যেমন জেলে বসে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনার রূপরেখা প্রণয়ন করতেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা তেমনি ভারতের প্রবাস জীবনে বসে পিতা হত্যার বিচার, গণতন্ত্রের মুক্তি, রাজনৈতিক কর্মপন্থা এবং দেশের মানুষের জন্য করণীয় বিষয়ে ভাবতেন। যার বাস্তবায়ন এখন করছেন তারা। তাদের মধ্যে নেই কোনো ক্ষমতার মোহ। যদি থাকত তবে এর প্রকাশ নিশ্চয়ই দেখা যেত। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে গান্ধী পরিবারের মতানৈক্য দৃশ্যমান। এরকম অনেক উদারণ পৃথিবীর রাজনৈতিক পরিবারের ইতিহাসে দেখা যায়। কিন্তু শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মধ্যে যে বোঝাপড়া তা সত্যিই বিশ্বের রাজনৈতিক পরিবারের জন্য শিক্ষণীয়। তিনি তার রাজনৈতিক কর্মপন্থায় যে মানবতাবাদী আদর্শ স্থাপন করেছেন, তা বর্তমান বিশ্বে বিরল। তৃতীয় বিশ্বের একজন সরকারপ্রধান একাধারে নিজ দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন, বিপন্ন শরণার্থী রোহিঙ্গাদের কথা ভাবছেন। বিশ্বের যেখানেই মানবতা বিপন্ন সেখানেই শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর সক্রিয়। শুধু ‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে’ তিনি ধরায় আসেননি, তার প্রমাণ তিনি রেখে চলেছেন প্রতিনিয়ত।

শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে একজন নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার গৌরব তিনি অর্জন করেছেন। এসব কিছু সম্ভব হতো না যদি তিনি স্বদেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরতেন। তাকে হত্যার জন্য যতবার আক্রমণ করা হয়েছে, ততবার আর কোনো সরকারপ্রধান আক্রমণের শিকার হননি। তবুও তিনি দমে যানটি একটিবারের জন্য। যত আক্রমণ আর ষড়যন্ত্র হয়েছে, তত তিনি প্রত্যয়ী হয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসের বাঁক তিনি বদলে দিয়েছেন। কীভাবে সম্ভ্রমের সহিত মাথা উঁচু দাঁড়াতে হয়, তা তিনি শিখিয়েছেন। ইতিহাসে যেসব বীরকন্যার জন্ম হয়েছিল, তাদের কাতারে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ইলতুৎমিশের কন্যা সুলতান রাজিয়া বাবার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ক্ষমতায় বসেছিলেন। তিনি দিল্লির মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি বীরকন্যা হিসেবে ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৭ এবং ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। যোগ্য কন্যা হিসেবে বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। স্বাধীন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সুকর্ণর কন্যা মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। জুলফিকার আলি ভুট্টোর কন্যা বেনজির ভুট্টোও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুবার ক্ষমতায় এসেছিলেন। ১৯৮৮ এবং ১৯৯৩ সালে দুবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কিন্তু কোনোবারই তিনি পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। এরকম অনেক উদাহরণ আছে। সেসব ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা অনন্য। বর্তমানে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার গৌরব অর্জন করেন, প্রতিদানে তিনি বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশালী রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি আর তারই সুযোগ্য কন্যা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ইতিহাসের এই মেলবন্ধন বিশ্ব ইতিহাসে বিরল ঘটনা। শেখ হাসিনা দেশের ভেতরে এবং বাইরের অপশক্তির বিরুদ্ধে যুগপৎ সংগ্রাম করে চলেছেন। এমনকি তিনি দলের ভেতর থেকেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সহযোগিতা পাননি। তিনি দলের নেতাদের কাছে যে মাত্রায় রাজনৈতিক নিষ্ঠা, সততা এবং দেশের মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতি আশা করেন, তা তিনি অনেকের কাছেই পাননি। তার চিন্তা আর গতিকে অনুসরণ করার মতো রাজনৈতিক সহকর্মীর অভাব রয়েছে। বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফা ঘোষণা করেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা তার বিরোধিতা করেছিলেন, শেখ হাসিনা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতুর কথা বললে, অর্থনীতিবিদসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প যখন আলোচনায় আসে তখন অনেকে মাথা চুলকেছিলেন। তার ধীশক্তি, নৈতিক বল আর কাজ করার শক্তির বিচারে তিনি অতুলনীয়। এখনো যদি তার দল তার চিন্তা আর আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে পারে, আগামী এক দশকে এ দেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাভে রূপান্তরিত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা। তারা ক্ষমতা থেকে কিংবা দুনিয়া থেকে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, ভাড়াটিয়া খুনি মোতায়েন করে, গুপ্তঘাতক লেলিয়ে দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে তিনি রক্ষা পেয়েছেন প্রতিবারই। এ সবকিছুকে তিনি পরোয়া না করে সামনে এগিয়ে চলেছেন। দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে শক্ত হাতে উন্নয়নের হাল ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক কোনো কোনো গণমাধ্যম তাকে আয়রন লেডি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

শেখ হাসিনার কূটনৈতিক জ্ঞান অবাক করার মতো। তিনি পরস্পরের শত্রু রাষ্ট্রের মধ্যে যেভাবে ব্যালান্সড কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন, তা বিস্ময়কর। সুপার পাওয়ারের অধিকারী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দেশের মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তা বঙ্গবন্ধুর সাহসিকতা আর তার নিজের কূটনৈতিক জ্ঞানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

প্রত্যাবর্তনের দিন সব হারানো এতিম কন্যা শেখ হাসিনা অভাবনীয় মনের জোর আর পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে লাখো জনতাকে সাক্ষী রেখে অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের মুক্তি আর দুঃখী মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংকল্প ঘোষণা করেছিলেন। বাবার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার কঠিন দায়িত্বভার তুলে নিয়েছিলেন নিজের অনভ্যস্ত কাঁধে। তিনি তার কথা রেখেছেন। তিনি তার মানুষের কাছে যথার্থভাবেই গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে খ্যাত হয়েছেন। তিনি এসেছিলেন বলে দীর্ঘ সংগ্রাম আর আন্দোলনের পথ বেয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শাসন চলছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে বাংলাদেশের মানুষ হারানো স্বপ্ন ফিরে পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। এসেছিলাম একটি হারানো স্বপ্ন পুনরুদ্ধার এবং একটি রক্তাক্ত আদর্শের পতাকা তুলে ধরার জন্য।’ তার এ স্বপ্ন ফেরানোর মিশনে হাঁটতে হয়েছে বাংলার প্রতিটি পথ-প্রান্তর। শেখ হাসিনার যাত্রাপথ ফুলের পাপড়ি বিছানো ছিল না। প্রতিনিয়ত বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

তিনি হারানো স্বপ্নকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন। এই স্বপ্ন আর মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত আদর্শের পতাকা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে হবে। আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশে রাষ্ট্রের জন্মের আদর্শিক ভিত্তি এবং তার প্রতিবিপ্লবী শক্তির অব্যাহত ষড়যন্ত্রের ইতিহাস পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য শেখ হাসিনার নির্বাসন এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস খুবই প্রাসঙ্গিক। প্রজন্মকে জানতে দিতে হবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এ দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কীভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। শেখ হাসিনার আগমনে কীভাবে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। পাকিস্তানি আদর্শের স্বৈরতন্ত্র, ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িকতা, হিংসা আর মানবতাবিরোধী শক্তি আর যেন ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য তারা যেন নিজেকে প্রস্তুত করে।

লেখক: অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ; প্রাধ্যক্ষ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ