রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ
পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ “ধর্ষিত” মামুনের স্ক্রিনশপ জালিয়াতি ফাঁস : ইলিয়াস সহ সুশীলদের কটাক্ষ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : বিশ্ব সভায় বাংলা ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব গার্ডিয়ানে প্রকাশিত শেখ হাসিনার নিবন্ধ: ‘আ থার্ড অফ মাই কান্ট্রি ওয়াজ জাস্ট আন্ডারওয়াটার। দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট অ্যাক্ট অন ক্লাইমেট’ হেফাজতের কর্তৃত্ব যাচ্ছে দেওবন্দের কাফের ঘোষিত জামায়াতের কব্জায় ! অনলাইনে মিলছে টিসিবির পেঁয়াজ আজ টিউলিপ সিদ্দিকের জন্মদিন বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন ফ্রন্টিয়ার, ইমার্জিং ও ডেভেলপড মার্কেট রিটার্নে সবার ওপরে বাংলাদেশ

করোনায় পুলিশ সদস্যদের জন্য যত উদ্যোগ

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

নিজেদের সুরক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও করোনা আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে পুলিশ সদস্য মারা গেছেন ৩৪ জন। অথচ বিগত বছরগুলোতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের লড়াইয়েও এই সময়ের মধ্যে এত পুলিশ সদস্য মারা যাননি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৯৮ জন পুলিশ সদস্য। প্রতিদিনই শত শত পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একইসঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মনোবল অটুট রাখতে তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও পুলিশকেই মাঠে থেকে কাজ করতে হচ্ছে। এই করোনা সংকটে যখন পাশে কেউ থাকে না, তখন পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। স্বজনরা রাস্তায় ফেলে গেছেন, পুলিশ সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। করোনায় মৃত্যুর পর লাশ দাফনের কাজটিও করতে হচ্ছে পুলিশকে। এ কারণে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সবার আগে পুলিশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে ফ্রন্ট লাইন করোনাযোদ্ধা হিসেবে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের দেখাশোনার জন্য একটি ‘বিশেষ টিম’ গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর। তারা করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করছে।

রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল ছাড়াও রাজধানী ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা করা হচ্ছে। হাসপাতাল ও ভবন ভাড়া করা হয়েছে। ফলে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

করোনায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পরপরই আইজিপির বিশেষ সহায়তা তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয় কিছু খাদ্যসামগ্রী। তাছাড়া কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলে সরকার থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পুলিশ পরিবার সহায়তা তহবিল থেকে পাবেন ৫ লাখ টাকা। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিপত্রের বেতন স্কেল অনুযায়ী ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন তারা। গত ২৩ এপ্রিল (২০২০) এই পরিপত্র জারি করা হয়; যা সব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। এছাড়া আছে ইন্স্যুরেন্স সুবিধা।

এরই মধ্যে করোনায় মারা যাওয়া ১৪ পুলিশ সদস্যের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দিয়েছে ওয়াল্টন গ্রুপ।

করোনায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যরা সরকারি চাকরিবিধি ও বেতন স্কেল অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধাই পাবেন। পাশাপাশি পুলিশ সদর দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংগঠন থেকেও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এআইজি মো. সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে দেওয়া সুবিধাগুলো ছাড়াও আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী আরও কিছু পদক্ষেপ তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নেওয়া হয়েছে।’

গত ১৪ জুন চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধিদল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা চিকিৎসক এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চীনা বিশেষজ্ঞ দল করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের (সিপিএইচ) ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা প্রটোকলের প্রশংসা করেছেন বলে জানান সোহেল রানা।

তিনি বলেন, ‘আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা ও সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য সর্বোত্তম সেবা ও শুশ্রূষা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করাসহ সব পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। এতে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুস্থতার হার একদিকে যেমন দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে নতুন করে সংক্রমণের সংখ্যা।

করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া ছাড়াও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গ্লাভস, মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতির ওপরও বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি-বিষয়ক সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ আয়োজন করছে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।। ফলে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশসহ অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমছে।


আরও সংবাদ