বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

করোনা মোকাবিলার সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সেনাপ্রধানের ধন্যবাদ

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা সৈনিক এবং এই যুদ্ধে আমরা সর্বোতভাবে নিয়োজিত থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিবেদন করছি। দেশের এই ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীকে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর সব সদস্যের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সেনাবাহিনীর সব পদবীর সদস্যদের উদ্দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ কথা বলেন। তার এ বক্তব্য একযোগে দেশের সব সেনানিবাসে সরাসরি প্রচারিত হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চলমান নির্দেশনা অনুসরণ করে দরবারের আয়োজন করা হয়।

সেনাবাহিনী প্রধান বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সশদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি ভাষা আন্দোলন ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তথা সব পদবীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রসংশা করেন সেনাপ্রধান। একইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জনগণের সাহায্যে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’-এর আলোকে একটি সক্ষম সেনাবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন দিকনির্দেশনা ও নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্যও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সেনাবাহিনী প্রধান জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ড, যেমন— এন-৮ অস কন্ট্রোলড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে সেনাবাহিনীকে সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সব সেনাসদস্যকে নিষ্ঠার সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোবল অটুট রাখার লক্ষ্যে গৃহীত সময়োপযোগী কল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো সবাইকে অবহিত করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসমূহ উপস্থাপন করেন। তিনি সেনাসদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধান, জীবন বীমা সুবিধা চালু করা, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য কল্যানমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

‘কঠোর প্রশিক্ষণই একজন সৈনিকের প্রকৃত কল্যাণ’— এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ ও কার্যকর প্রশিক্ষণ দিতে সেনাবাহিনী প্রধান সবাইকে নির্দেশনা দেন।

শৃঙ্খলা সেনাবাহিনীর প্রাণ এবং আনুগত্য সেনাবাহিনীর চালিকাশক্তি— এই চেতনাকে ধারণ করে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করা এবং কোনো ধরনের গুজবে প্ররোচিত না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখনই দেশে কোনো ভালো কাজ হয়, তখনি স্বার্থান্বেষী মহল সেই কৃতিত্বকে মলিন করার অপচেষ্টা করে আসছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী করোনাযুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যখন ভালো কাজ করছে, তখন ওই কুচক্রী মহল সম্প্রতি সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। সুশৃংখল সেনাবাহিনীকে অতীতের আগের মতোই এ ধরনের অপচেষ্টার বিরূদ্ধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সবশেষে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।


আরও সংবাদ