শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১১:৪০ অপরাহ্ন

কথা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী, কথা রেখেছেন কৃষিমন্ত্রী

ইবার্তা ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

‘কথা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী, কথা রেখেছেন কৃষিমন্ত্রী। সরকার, কৃষি মন্ত্রণালয় ও ডাক বিভাগের সহযোগিতায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর আম চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। করোনার কারণে আমচাষিদের মধ্যে যে আতংক ছিল তা কেটে গিয়ে অনেকের মুখে হাসি ফুটেছে। শুধু রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা নয়, পরিবহন সুবিধার কারণে সারাদেশের আম ও লিচু চাষিরা এবার ভালো দাম পেয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তাদের পদক্ষেপের কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

কথাগুলো বলেন, রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, দুই টাকা কেজিতে আম ঢাকায় যাচ্ছে, ডাকবিভাগ বিনা পয়সায় কৃষকের আম ঢাকায় পৌঁছে দিচ্ছে। শনিবার পর্যন্ত (২৭ জুন) দুই লাখ ১০ হাজার কেজি আম শুধু ট্রেন পরিবহন করেছে। এছাড়া ডাকবিভাগও অনেক আম পরিবহন করেছে। এরকম সুবিধা অতীতে কখনও রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী পায়নি। সরকার, কৃষি মন্ত্রণালয়, রেল মন্ত্রণালয় এবং ডাকবিভাগ আম পরিবহন এবং বিক্রির বিষয়ে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, কুরিয়ার সার্ভিস মালিকরা সরকারের কথা রাখেনি। কৃষিমন্ত্রী মিটিং করে তাদের অনুরোধ করেছিলেন এবার আম পরিবহনে ছাড় দিতে। সারাদেশেই যেন কম চার্জে আম পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থা কুরিয়ার সার্ভিসের মালিকদের করতে হবে। কিন্তু তারা কথা রাখেননি। আগের মতোই গলাকাটা দামে তারা আম পরিবহন করেছেন। কুরিয়ার সার্ভিস পরিবহন কস্ট কমালে চাষিরা আরও বেশি আম বিক্রি করতে পারতো।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি, বাগান মালিক ও আড়ৎদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা প্রতিরোধে লকডাউন, আম দেরিতে পরিপক্ক হওয়া, রমজান ও ঈদের জন্য ক্রেতা সমাগম কম থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার প্রথম এক মাসে আমের বেচাকেনা কম হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে আমের বড় ধরনের ক্ষতিও হয়েছে। এরপরও থেমে নেই রাজশাহী অঞ্চলের আমের বাজার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর আমের ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। করোনার কারণে হাটে ক্রেতা উপস্থিতি কম হলেও অনলাইনে আমের অর্ডার বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহীর বৃহত্তম আমের হাট বানেশ্বরে জুনের শুরুতে গোপালভোগ আম মণপ্রতি বিক্রি হয় ১৯০০-২২০০ টাকা। সেই গোপালভোগ জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে মণপ্রতি ২৬০০-২৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে এখন আর বড় চালান পাওয়া যাচ্ছে না, আম শেষ হয়ে গেছে প্রায়। বানেশ্বরে প্রতি মণ হিমসাগর ২৫০০-৩২০০ টাকা, ল্যাংড়া ১৮০০-২২০০, লক্ষণ ভোগ ৮০০-১১০০, গুটি ৭০০-১৬০০, রাণি পছন্দ ২০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শালবাগান আমবাজারে হিমসাগর ২৮০০, ল্যাংড়া ২২০০, রাণিপছন্দ ২০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে প্রতিদিনই বাজারে বিভিন্ন প্রকার আমের দাম ওঠা নামা করে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি ও বাগান মালিক হাসান আল সাদী পলাশ জাগো নিউজকে বলেন, এবার বিশ্বজুড়েই অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। প্রথমে আমরা খুব আতংকে ছিলাম। পরে সরকার, কৃষি মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে ও ডাকবিভাগের উদ্যোগে বলা চলে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। লকডাউনের শুরুতে দুধ, মুরগি, তরমুজ, বাঙ্গি ও শাকসবজি পরিবহনের অভাবে যে অবস্থা হয়েছে সে অবস্থা থাকলে এবার রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিদের দুঃখের সীমা থাকতো না।

তিনি বলেন, যদিও এবার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। কারণ এই আম মুকুল থেকে শুরু করে বড় হওয়া পর্যন্ত অতি শীত, শীলা বৃষ্টি, ঝড়, সুপার সাইক্লোন আম্ফান বয়ে গেছে। তাতে যতটুকু আছে সে টুকুই যে ভালো দামে বিক্রি করতে পারছি সেটাই মঙ্গল। নড়াইল, চুয়াডাঙ্গার আমচাষিরা তো এবার ব্যপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড়ৎদার বাহরাম আলী জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবার যে রকম ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর থেকে প্রচুর পার্টি আসতো এবার সেই পার্টি নেই। অনেকে উত্তরবঙ্গে গাড়ি নিয়ে বেড়াতে এলে আম নিয়ে যেত। এভাবে হাজার হাজার মণ আম বিক্রি করতে পারতেন কিন্তু এবার সে সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ না থাকলে যে আম ছিল তা পচে যেত। ট্রেন, ডাকবিভাগ, বাস ও কুরিয়ারে পরিবহনের কারণে লাখ লাখ কেজি আম শহরে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনার বছর হিসেবে আমের ব্যবসা ভালো হচ্ছে। আগের মতো পার্টি আসছে না। স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে যে ব্যবসা হতো তা হচ্ছে না। তবে কিছু যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে এ আমের সিজনে। অনলাইনে তারা অর্ডার নিয়ে আমাদের কাছ থেকে আম কিনে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। ফলে আমরা আড়ৎদার, বাগান মালিক, চাষি ও অনলাইন ব্যবসায়ী সবাই লাভবান হচ্ছি।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজশাহী অঞ্চলের ৮১ হাজার ১৬ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৫০২ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রাজশাহী জেলায় ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৭ মেট্রিক টন, নওগাঁয় ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে ২৯ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন, নাটোরে পাঁচ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে ৭৭ হাজার ৩০৫ মেট্রিক টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।


আরও সংবাদ