শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

পিরিয়ড ভাবনায় প্রতিবন্ধী নারীরা

ইবার্তা সম্পাদনা পর্ষদ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১

নানা বয়সী ও পেশায় জড়িত প্রতিবন্ধী নারীরা নিজের পিরিয়ডের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপট কথা বলেছেন।

আগে থেকে কোনো ধারণা না থাকায় প্রথম পিরিয়ডে একেবারে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন জন্ম থেকে চোখে দেখতে না পাওয়া রেহানা আক্তার। ঢাকায় স্কুলে ভর্তি হতে আসার দিন হঠাৎ পিরিয়ড শুরু হয় তার।

সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে এখন ৩০ বছর বয়সী রেহানা বলেন, “আমাকে বিদায় দিয়ে মা কাপড় ধুতে গিয়ে বুঝতে পারেন আমার পিরিয়ড হয়েছে।

“এরপর মা ছুটে আসেন এবং বাবাকে বলে আবার বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। যাত্রা শুরু করে আবার ফিরে আসতে হল দেখে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”

বয়ঃসন্ধিকালে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ‘তেমন কোনো মানসিক সাপোর্ট মেলেনি’ জানিয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু এটা হওয়া খুব প্রয়োজন। পিরিয়ড সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকলে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

“বাবা-মা বা স্কুলের টিচাররাও যদি এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে তাহলে বিষয়টা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়। যেহেতু আমরা দেখতে পাই না, তাই আমাদের নিজে থেকে জানার সুযোগ অনেকটাই কম। আমাদের সময় প্রযুক্তিও অতটা অ্যাডভান্স ছিল না। তাই পড়ার বইয়ের বাইরে এ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের সুযোগ ছিল না।”

 

রেহানা আক্তার কর্মরত আছেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভলপমেন্ট করপোরেশনে।

কর্মক্ষেত্রে মাসের বিশেষ দিনগুলোর জন্য সুব্যবস্থা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার তা মনে হয় না। ওয়াশরুমে প্যাড ফেলার মত বাস্কেটও পাওয়া যায় না। তাছাড়া পরিষ্কার বাথরুমও থাকে না অনেক জায়গায়, এট খুবই হতাশাজনক।”

তবে পিরিয়ডের দিনগুলোতে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজের সচেতনতা থেকেই সময় মত স্যানিটারি প্যাড বদল করেন রেহানা।

পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড নারীর পিরিয়ড নিয়ে সচেতনতায় জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আগে থেকে না জানার কারণে অনেকেই এতে ঘাবড়ে যায়, যেমনটা আমার ক্ষেত্রে হয়েছিল। যারা চোখে দেখতে পায় তারা হয়ত বড়দেরটা দেখে বা অন্যদের কাছ থেকে জেনে একটা মানসিক প্রস্তুতি রাখতে পারে, কিন্তু আমরা যারা দেখতে পাই না, আমাদের এই সম্পর্কে কোনো ধারণাই থাকে না।

“ফলে মনের উপর চাপ বেশি পড়ে; আর লজ্জাবোধও কাজ করে। স্কুলগুলো যদি এখানে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে তাহলে কিশোর বয়সের মানসিক চাপ সামলানো কিছুটা সহজ হয়।”

 

পিরিয়ড নিয়ে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা হল চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয় কি?

ইডেন মহিলা কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করা রেহানা বলেন, “পিরিয়ড নিয়ে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তার দেখানো নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। চাইলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয়ে ওঠে না খুব একটা।

“কারণ সেখানে যাওয়ার জন্য সঙ্গে কাউকে নেওয়া বা ডাক্তার পর্যন্ত পৌঁছানোর আগের যে কাউন্টার বা সিরিয়ালের ঝামেলা এইসব কিছু পোহানোর ভয়েই গুটিয়ে থাকা হয়।”

ক্ষীণদৃষ্টির আইরিন আঁখি অবশ্য জানালেন পিরিয়ড নিয়ে ‘তেমন কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি’ তার।

পিরিয়ড নিয়ে বয়ঃসন্ধিকালে ধারণা পেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “হঠাৎ একদিন স্কুলে থাকা অবস্থায় আমার পিরিয়ড শুরু হয়। পরে বাসায় ফিরে আম্মুকে সব জানাই আর তিনি তখন সব বুঝিয়ে দেন কীভাবে কী করতে হবে।

“তখন থেকেই তারিখ খেয়াল রাখার কথা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয়গুলো মেনে চলি।“

ব্রেইলে লেখাপড়া রপ্ত করা ২১ বছর বয়সী আইরিন আঁখি নারী স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক বই-পুস্তিকা পড়েছেন।

তিনি বলেন, “নারী স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা রকমের পড়া থেকে আমি অনেক কিছুই জেনেছি; কীভাবে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়, কীভাবে মাসের এই বিশেষ দিনগুলো নিরাপদে কাটানো যায় ইত্যাদি।”

পিরিয়ড নিয়ে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলে কি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়?

আইরিন আঁখি বলেন, “পিরিয়ড বেলার শুরুর দিকে পেট বা স্তন ব্যথা খুব একটা দেখা দেয়নি। তবে বড় হওয়ার পরে ইদানিং হালকা পেট ও স্তনে ব্যথা হয়।

“এই বিষয়ে মা ও বন্ধুদের সঙ্গে আমি খোলামেলা কথা বলতে পারি এবং প্রয়োজন হলে মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী করা উচিৎ জানতে চাইলে আইরিন আঁখি বলেন, “ওয়াশরুমে হাই কমোড থাকা, বাস্কেট থাকা… এমন ব্যবস্থা থাকলে তা যথেষ্ট।”

নয় মাস বয়সে পোলিও আক্রান্ত হন সালমা মাহবুব। ফলে পরে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। ঘরেই পড়াশুনা করতে হয়েছে। আর স্কুলে না যাওয়ার কারণে বন্ধু-সহপাঠি ছিল না বলে পিরিয়ড হওয়ার আগে এ নিয়ে একেবারে জানা ছিল না তার।

তবে প্রথমবার পিরিয়ড হওয়ার পর তার মা এ নিয়ে তাকে বিস্তারিত জানান ও শিখিয়ে দেন।

কারও সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরা করতে না পারা সালমা মাহবুব পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর সেসময়ের কথা মনে করে বলেন, “ওই সময় পিরিয়ডের দিনগুলোকে কেয়ামতের মতো মনে হত।

“এমনিতেই মায়ের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা এমনকি বাথরুমেও যেতে পারতাম না। এর উপর আবার পিরিয়ডের সময় মায়ের সাহায্য নেওয়া… সব মিলিয়ে নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগত। মানসিক চাপ সৃষ্টি করত।”

 

তবে শারীরিক প্রতিবন্ধী সালমা মাহবুবের জীবন বদলে দিয়েছে তার কাস্টোমাইজড হুইলচেয়ার।

তিনি বলেন, “সিআরপি থেকে নিজের মতো কাস্টোমাইজ করে হুইলচেয়ার বানিয়ে নেই। এরপর থেকে নিজেই বাথরুমের কাজ বা যে কোনো জায়গায় চলাফেরা করতে পারি।

“যে আমি একা নড়াচড়া করতে পারতাম না সেই আমিই দেশের বাইরে থেকেও ঘুরে এসেছি কেবল এই হুইলচেয়ারের জোরে।”

কাস্টমাইজড হুইলচেয়ারে শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী তার মাসিক ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক সহজে সারতে পারলেও এ ধরনের হুইলচেয়ার দেশে বেশ খরচের হয়ে দাঁড়ায় বলে জানালেন সালমা মাহবুব।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের হুইলচেয়ার কেনাই বেশ ব্যয় সাপেক্ষ; তার উপর এটা কাস্টমাইজ করা আরও বেশি খরচের, যা অধিকাংশের পক্ষেই সম্ভব হয় না।

“বাইরে থেকে হুইলচেয়ার আনা হয় বলে ট্যাক্সের হার অনেক বেশি তাই দামও বেশি। অথচ এটাকে যদি শুল্ক মুক্ত করা যেত তাহলে অনেক গরিব ঘরের মানুষ হুইলচেয়ার ব্যবহার করে অনেকটাই পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে পারত। এছাড়া সুবিধা মতো চেয়ার পাওয়া যায় না… আবার পাওয়া গেলেও সঠিক মাপের বিষয়ও মাথায় রাখতে হয়। সাধারণ মানুষের আর পোলিও আক্রান্ত মানুষের আকারে যথেষ্ট পার্থক্য থাকায় একই মাপের হুইলচেয়ার ব্যবহার করা বেশ কষ্টকর।”

সালমা মাহবুব মনে করেন, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য স্যানিটারি প্যাডের নকশা নিয়ে বিশেষ গবেষণা হওয়া জরুরি।

 

সচেতনতায় জোর

শারীরিক প্রতিবন্ধী সালমা মাহবুব ২০০৯ সাল থেকে কর্মরত রয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) প্রতিষ্ঠানে। বি-স্ক্যানের সাধারণ সেক্রেটারি পদে থাকা এই নারী এখন কাজ করছেন প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে।

প্রতিবন্ধী নারীর মাসিক ব্যবস্থাপনায় পরিবারের ভূমিকা রাখায় গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি যে, পরিবার এই বিষয়ে আগে থেকে তাদের কিছু জানায় না। যদিও এখন এই প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে এবং আমরা একে সাধুবাদ জানাই।

“আগে থেকে জানলে ওরা ঘাবড়ে যাবে না এবং সাবধান ও সচেতন থাকবে। তাছাড়া মানসিক চাপ কমাতেও অনেকটা সহায়ক হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েরা নিজেরাই কিছুক্ষণ পর পর প্যাড পরিবর্তন করে, যাতে করে ওভার ফ্লো থেকে সুরক্ষিত থাকে। তবে তাদের মাঝে অনেক সময় দুঃশ্চিন্তাও দেখা যায়… দাগ লেগে গেল কি না, বার বার টয়লেটে গিয়ে চেক করা ইত্যাদি।”

বি-স্ক্যানের ফেইসবুক পাতা থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন,  “আমরা ওদেরকে এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন করি, প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা দেই এবং সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন থাকতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পর্কে অবগত করি।

“এখানে সবাই খোলামেলাভাবে কথা বলে। আর কারো বিশেষ প্রয়োজন হলে তারা আমাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ ও ফোনকলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকেন। আমরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি।”

সবাই সচেতন হলে পিরিয়ডের দিনগুলো নিয়ে প্রতিবন্ধী নারীর ‘হীনমন্যতা’ কমে যাবে এবং তারাও খোলামেলা কথা বলতে পারবে বলেই মনে করছেন সালমা মাহবুব।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছেন স্পর্শ ফাউন্ডেশন ও স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা নাজিয়া জেবীন।

 

দৃষ্টিহীনদের ‘দৃষ্টিজয়ী’ হিসেবে দেখেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দৃষ্টিজয়ীরা স্বভাবে অনেকটা শান্ত থাকে। খুব একটা মন খুলে সবার সঙ্গে কথা বলতে পারে না। তাই তাদের জানাশোনা বা এই বিষয়ে জ্ঞান অনেকটাই কম থাকে।

“আমরা তাদেরকে কাউন্সেলিং করি ও মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করি। তাদেরকে বোঝানো হয় যে, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়, এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই।”

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারীর পিরিয়ড দিনের পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থতা নিয়ে ‘কিশোর-কিশোরিদের স্বাস্থ্য তথ্য’, ‘মেয়েদের সাদাস্রাব ও তার পরিচর্যা’ এবং ‘ব্রেস্ট ক্যানসার ও তার যত্ন’ নামে ব্রেইলে বই প্রকাশ করেছে স্পর্শ ফাউন্ডেশন ও স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা।

দৃষ্টিহীন নারীদের পিরিয়ডের দিনগুলোতে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন থাকতে স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করা, সঠিক উপায়ে তা পরা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর বদল করা জরুরি হলেও খরচের দিকটি অনেক পরিবারের জন্য কষ্টকর হয়ে যায় বলে জানালেন নাজিয়া জেবীন।

তিনি বলেন,  “অনেকেই অসচ্ছল পরিবার থেকে আসে, যাদের পক্ষে প্রতিমাসে প্যাড ব্যবহারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টকর। প্যাডের বিভিন্ন রকমের প্রতিষ্ঠান আছে… এরা যদি কোনো ভাবে বিনামূল্যে প্যাড সরবারহের ব্যবস্থা রাখতো…।”

স্যানিটারি প্যাড বানানোর প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দিকটি ভেবে দেখে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

মিরপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন ইন্ট্রিগ্রেটেড স্কুলে আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে শ’খানেক দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী রয়েছে।

 

তাদের পিরিয়ড স্বাস্থ্য নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক লেয়া অন্তরা বাড়ই বলেন, “এখানে ছোট থেকে কিশোরী সব বয়সের মেয়েরাই আসে।

“যারা ছোট থেকে এখানে আছে তাদেরকে আমরা পিরিয়ড সম্পর্কে সচেতন করে থাকি ও মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। এছাড়াও বড় ক্লাসের যারা আছে তারাও নিজেদের পাশাপাশি জুনিয়রদের সহায়তা করে।”

তিনি বলেন, “এই স্কুলে শিক্ষকরা নারীস্বাস্থ্য, পিরিয়ড ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

“হোস্টেলে দৃষ্টিহীন মেয়েদের দেখাশোনা করার জন্য আয়া ও ক্লিনার রয়েছে, যারা তাদের সার্বিক খেয়াল রাখে। যখন তখন পিরিয়ডের জিনিসপত্র দরকার হলে বা অন্য কোনো সমস্যা হলে তা দেখে থাকেন। আর ক্লিনাররা সব সময় ওয়াশরুম পরিষ্কার করার দায়িত্ব পালন করে।”

সচেতন করার কারণে এই স্কুলের মেয়েরা পিরিয়ডের দিনে সময়মত পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলে বলেও জানান লেয়া অন্তরা বাড়ই।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত এমনকি বেখেয়ালের কারণে কাপড়ে দাগ লেগে যাওয়ার মতো ঘটনাও তাদের মাঝে হতে দেখিনি।

“এই মেয়েরা অনেক সচেতন থাকে। নিজেরাই নির্দিষ্ট সময় পর পর প্যাড পরিবর্তন করে, সাবান দিয়ে হাত ধোয় ও গোসল করে ঠিক মত।“

পরিবারে দৃষ্টিহীন কন্যাসন্তান থাকলে তাদের স্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পরামর্শ দিয়ে লেয়া অন্তরা বাড়ই বলেন, তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।

“মেয়েশিশুদের বেলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে আগে থেকেই বয়ঃসন্ধি সম্পর্কে কথা বলতে হবে।”


এ বিভাগের আরও সংবাদ