শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

জুলাই থেকে বন্ধ হবে সকল অবৈধ মোবাইল

অশোক আখন্দ
আপডেট : বুধবার, ২ জুন, ২০২১

অনিবন্ধিত ও নকল মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেশে এই প্রথম ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সিস্টেম ব্যবহার করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে বাংলাদেশ টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন অথবা নকল আইএমইআই নম্বর আছে এমন মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত করতে পারবে।

বিটিআরসি ইতোমধ্যে বৈধ ফোনগুলোর একটি ডাটাবেস প্রস্তুত করেছে এবং আশা করছে আগামী ৯ জুনের মধ্যে এনইআরআইআর-এর ইনস্টলেশন কাজ সম্পন্ন হবে। তবে অবৈধ মোবাইল শনাক্তের প্রক্রিয়া ১ জুলাই থেকে শুরু হবে।

 

বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদুল আলম জানান, “বাংলাদেশ জুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি হ্যান্ডসেট ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করেছে বা বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। জুলাইয়ের আগে গ্রাহকরা যে সমস্ত অননুমোদিত হ্যান্ডসেট ব্যবহার শুরু করেছেন, তাদের এনআইআরআইপি নিবন্ধন কার্যক্রমের অনুমোদনের আওতায় আনা হবে। ”

এনআইইআর নিবন্ধন প্রোগ্রামটি অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যবহারকে সীমাবদ্ধ রেখে অনুমোদিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের আমদানিকারকদের পথ প্রশস্ত করবে যা ক্লোনিং ও চুরি রোধ এবং রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান, “এই প্রক্রিয়াটি শুরু করার আগে, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে বিষয়টি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা। জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশে প্রচারণা পরিচালনা শুরু করব।”

যে কেউ এসএমএস প্রেরণের মাধ্যমে ডাটাবেস ব্যবহার করে আমদানি করা হ্যান্ডসেটগুলোর বৈধতা পরীক্ষা করতে পারবে। এনইআইআর পদ্ধতি ১৫ দিনের অস্থায়ী সময়ের জন্য কাজ করবে এবং এর ট্রায়াল রান জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

 

এই নতুন প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করবে?

যখনই কোনও সিম কার্ড হ্যান্ডসেটে প্রবেশ করানো হবে, এটি বিটিআরসি ডাটাবেসে একটি সংকেত প্রেরণ করবে যেখানে অনুমোদিত হ্যান্ডসেটগুলোর আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণ করা থাকবে। হ্যান্ডসেটের আইএমইআই ডাটাবেসের সাথে মিললে তবেই সিম কার্ডটি চালু হবে।

একজন্য ব্যক্তি একটি সিম কার্ড ব্যবহার করে একাধিক হ্যান্ডসেট ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন। তবে, এ বিষয়ে বিটিআরসি এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

যদি সক্রিয় সিম কার্ড মোবাইলে প্রবেশের পর বিটিআরসি ডাটাবেসে কোনও হ্যান্ডসেট না পাওয়া যায়, তাহলে বিটিআরসি ওই হ্যান্ডসেটের আইএমইআইকে “সাদা তালিকা”য় সাত দিন রেখে ব্যবহারকারীকে ফোনটি আমদানি বা কেনার আইনি নথি ব্যবহার করে নিবন্ধনের সময় দেবেন।

 

বিদেশ থেকে কেনা হ্যান্ডসেটগুলোর ক্ষেত্রে বিটিআরসিতে বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে।

যদি কোনো ব্যবহারকারী তার হ্যান্ডসেটটি বিক্রি করতে চান, তবে তাকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হ্যান্ডসেটটি নিবন্ধনভুক্ত করে নতুন ব্যবহারকারীর নামের অধীনে ডাটাবেসে পুনরায় নিবন্ধন করাতে হবে।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মতে, প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মোবাইল হ্যান্ডসেটের চাহিদা রয়েছে। তবে হ্যান্ডসেটগুলো অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের কারণে সরকার প্রচুর পরিমাণ আমদানি শুল্ক এবং করের হারিয়ে ফেলে যার ফলে প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

 

বিটিআরসির পরিচালক (সিগন্যাল) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল বলেন,“বর্তমানে ১২টি সংস্থা বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি করছে। ন্যায্য মূল্যে স্থানীয় নির্মাতাদের কাছ থেকে ফোন কিনে আরও বেশি লাভ করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথম তিন মাস আমরা সংশোধন, বিচার ও ত্রুটি প্রক্রিয়ার জন্য এনইআইআর প্রযুক্তি ব্যবহার করবো। চালাব। পরবর্তীতে আমরা ব্যবহারকারীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধান করে প্রক্রিয়াটি পুরোদমে প্রয়োগ করব।”


এ বিভাগের আরও সংবাদ