শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

শাহেদ মুরসালিনের জামিন হচ্ছে না কেন?

প্রতিবেদক:
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

স্ত্রী হত্যা চেষ্টা ও হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত সেনাসদস্য শাহেদ মুরসালিন বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে আটক রয়েছে। তার জামিনের আবেদন আদালত বারবার প্রত্যাখ্যান করছে। আর এই জামিন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মারা উদ্দেশ্যমূলভাবে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। সরকার বিরোধী হলেই বাছবিচার না করে তার পক্ষে কথা বলা যেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে!

শাহেদ মুরসালিনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে। জানা যায়, নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে স্ত্রীকে প্রহার করা ও হিজবুত তাহরীর নামের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০১২ সালে শাহেদকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়।

চাকুরী থেকে বহিষ্কারের পর আহসান গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মুরসালিনকে দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়। অতঃপর তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে। শাহেদ হাসান মুরসালিন তার অপকর্ম জায়েজ করার উপায় হিসেবে সরকার বিরোধিতার পথ বেছে নেয়।

সে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত জাতির পিতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্রমাগত চরম অবমাননাকর পোস্ট দিতে শুরু করে। ধর্মীয় উস্কানি দেয়া সহ উগ্রবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা করায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যাক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ  বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা বা প্রচারনা চালায় তবে তা দণ্ডণীয় অপরাধ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারা এর (ঘ) অনুযায়ী, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্ন করবার, বা  বিভ্রান্তি ছড়াবার উদ্দেশ্যে, অপপ্রচার দণ্ডণীয় অপরাধ৷

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করবার উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার দণ্ডণীয় অপরাধ৷

মুরসালিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৩ ধারায় মামলা হয় এবং উল্লেখিত ২১, ২৫ ও ২৮ ধারার অপরাধসমূহ ৫৩ ধারার অন্তর্ভুক্ত আমলযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য অপরাধ। মুরসালিনের দেয়া ফেসবুক পোস্টগুলোর বেশিরভাগই নৈতিকতা ও শালীনতা বিবর্জিত। তার কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ। এমতাবস্থায় নিম্ন আদালত থেকে তার জামিন লাভ করা আইনগতভাবে অসম্ভব। বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রেই এ জাতীয় অপরাধে ছাড় দেয়া হয় না, বরং দ্রততম সময়ে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

জানা গেছে, মুরসালিনের পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধে জড়িত না হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে উচ্চ আদালতেও কোনো আবেদন করা হয় নি। সম্পূর্ণ বিষয়টি না বুঝে দেশে ও বিদেশে বসে এক শ্রেণির মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।  যারা তার পক্ষ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের কেউও তাকে আইনী পরামর্শ বা সহযোগিতা করে নি। সুযোগসন্ধানীর মতো ইস্যু তৈরি করে অপপ্রচারেই তারা সীমাবদ্ধ।
যারা মুরসালিনের জামিন নিয়ে কথা বলছেন তাদের উচিত আইন সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।


এ বিভাগের আরও সংবাদ