1. [email protected] : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা - ebarta24.com
  1. [email protected] : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
  2. [email protected] : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  3. [email protected] : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  4. [email protected] : নিউজ এডিটর : নিউজ এডিটর
প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা - ebarta24.com
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা

মো. আজগর আলী
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২

মানুষের অর্থনৈতিক ক্রমবিকাশের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায় যে, পৃথিবীতে প্রথম আবির্ভাব হয় প্রাকৃতিক সম্পদের; তারপর আসে মানুষ। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহে (তাওরাত, বাইবেল ও কোরআন) তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে এ পৃথিবীতে কখন মানুষের আবির্ভাব হয়েছিল তার সঠিক ঐতিহাসিক দলিল সংবলিত প্রমাণ আজ পর্যন্ত মানুষের হাতে নেই। ধারণা করা হয় যে, আজ থেকে প্রায় ২০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় ১০ লাখ বছর ধরে মানুষ শিকারীর জীবন অবলম্বন করে বেঁচেছিল। গত ৪০ হাজার বছর ধরে মানুষ বন্য ফলমূল এবং পশুর মাংসের সন্ধানে স্থান থেকে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছে। একটি স্থানের প্রকৃতিজাত খাদ্যের ভান্ডার নিঃশেষ হওয়ার পর সে অন্যত্র চলে গিয়েছে। চিন্তাশক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যাযাবর বৃত্তি পরিত্যাগ করে স্থায়ী জনবসতি স্থাপনের দিকে মানুষ নজর দেয়। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা লব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার জর্ডান নদী উপত্যকায় প্রথম স্থায়ী মানব বসতির উদ্ভব হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে জর্ডান উপত্যকায় অবস্থিত একটি মরুদ্যানে জেরিকো (ঔবৎরপড়) নামক স্থানে ওই বসতি জন্ম লাভ করে। ঈধৎনড়হ-১৪ পরীক্ষা অনুসারে আজ হতে প্রায় নয় হাজার বছর পূর্বে জেরিকোতে মানব ইতিহাসের সামাজিক বিপস্নবের সূচনা হয়। ইহা স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ওই ক্ষুদ্র অংশে প্রায় ৯ হাজার বছর আগে সংঘটিত সামাজিক বিপস্নবের বহুমুখী ফল ছিল খুবই সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, খাদ্যের স্বনির্ভরশীলতা মানুষকে যাযাবর জীবন থেকে মুক্তি দেয়। দ্বিতীয়ত, খাদ্যের সরবরাহ তার অনর্থক ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন না থাকাতে অপঘাতে মৃতু্যর সংখ্যা কমে আসে। তেমনি জনসংখ্যাও বেশ দ্রম্নত হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তৃতীয়ত, পরস্পর নির্ভরশীলতা, বৃত্তি বিভাজন, গোষ্ঠী জীবনে প্রয়োজনীয় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় নানা উপায় উদ্ভাবন ও নিয়োগ ক্রমান্বয়ে সমাজজীবনকে একটি সুস্পষ্ট রূপদান করে। সূচনা হতে পরবর্তী প্রায় দেড় হাজার বছর পর্যন্ত এ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপস্নব দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়। ক্রমান্বয়ে সিন্ধু ও চীনের হোয়াংহো অববাহিকা হয়ে এশিয়া মাইনর, ইউরোপ, আফ্রিকাও অন্যান্য মহাদেশে পরিবর্তনের ঢেউ নতুন পৃথিবীতে গিয়ে পৌঁছায় এবং তার ফলে প্রাচীন জনজীবন ধারা নতুন খাতে প্রবাহিত হয়। বস্তুত, খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ ও ৩য় সহস্রাব্দের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবিষ্কার ও প্রয়োগ বিদ্যাতে মানুষ যেমনি সৃজনী শক্তির পরিচয় দিয়েছে তেমনি সমাজ জীবনে নারী-পুরুষের কর্মবিভাজনেও বৈপস্নবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবার গঠন, সম্পদ উৎপাদন ও বণ্টন এবং পরে সারা বছর ধরে তা জনসাধারণের মধ্যে বণ্টন ও বণ্টনের হিসাব রাখা, বাসগৃহ তৈরি, রাস্তা-ঘাট, নগরবেষ্টনী ও পরিখা, সুরম্য অট্রালিকা, সমাধিস্থান নির্মাণ ও সংরক্ষণ প্রভৃতি বিষয়ে মানুষ আয়ত্ত লাভ করে। ক্রমান্বয়ে মানুষ প্রাকৃতিক দ্রব্য সামগ্রীর রূপান্তরিত কৌশল আয়ত্ত করে সভ্যতার চাকাকে বিভিন্ন স্তরে বিন্যাস করে জীবনযাপনের উপযোগী করার ফলে মৃতু্যর হার কমিয়েছে। আবার সেই সঙ্গে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জনসংখ্যাও দ্রম্নত বাড়তে শুরু করে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন ফেরাউন ও ইহুদিজাতি (চযধৎধড়যং ধহফ ঐবনৎবংি) জনসংখ্যা, জমি-জমা, এবং সম্পদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করত। হযরত মুসা ( আ.)-এর ওপর নাজেলকৃত তাওরাত শরিফের ১ম ও ২৬ অধ্যায়ে আদমশুমারির কথা আছে এবং তিনি সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে বনি ইসরাইলদের জন্য আদমশুমারি পরিচালনা করেন। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, হযরত মুসা (আ.) পৃথিবীর প্রথম আদমশুমারির প্রবক্তা। মহান সৃষ্টিকর্তা মুসা (আ.) কে বলেন, গণনাকরা লোকদের সংখ্যা অনুসারে দেশটা ভাগ করে দিতে হবে এবং প্রত্যেকগোষ্ঠী তার গণনাকরা লোকদের সংখ্যা অনুসারে ভূমির/জায়গার অধিকারী হবে। হযরত মুসা (আ.) কর্তৃক পরিচালিত আদমশুমারিতে বনিইসরাইলদের মোট জনসংখ্যা হয়েছিল ৬ লাখ ১ হাজার সাত শত ৩০ জন। খ্রিষ্টপূর্ব ৬ লাখ থেকে ৬০০ শত বছর পূর্বে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ছিল ৫ মিলিয়ন। ১৬৫০ সালে যেখানে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৫৪.৫ কোটি, ১৮০০ সালে ৯০.৭ কোটি সেখানে ১৯৭০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭৬ কোটি এবং বর্তমানে ৮.০ বিলিয়ন। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়ক ও দার্শনিক জনসংখ্যা সমস্যা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস (খ্রিঃপূর্ব ৫৫১-৪৭৯) জনসংখ্যার অতিমাত্রায় বৃদ্ধি, শ্রমিকের মাথাপিছু উপার্জন হার এবং জীবনযাত্রার মানের হ্রাসসহ বিভিন্ন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, পেস্নটো (খ্রি.পূর্ব ৩২৭) নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যার কথা বলেছেন। তিনি অসুস্থ ও দুর্বল শিশুকে জীবিত রাখার পক্ষপাতি ছিলেন না এবং যাদের শরীর ব্যধিগ্রস্ত তাদের কোনো সন্তান প্রজনন করা উচিত নয়। অ্যারিস্টেটল ( খ্রি.পূর্ব ৩৮৪-৩২২) বলেন, জনসংখ্যাকে যথাযথভাবে সীমিত রাখতে না পারলে দারিদ্রতা হবে একমাত্র পরিণতি। যাহোক, বাড়তি জনসংখ্যা বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক আলোচিত বিষয়। জনসংখ্যাকে কেন্দ্র করেই বিভিন্ন সমস্যা, সমাজ ও রাষ্ট্রে ক্রমান্বয়ে আবির্ভূত হচ্ছে দিন দিন। আজ আমরা যাকে পরিবেশ বিপর্যয়, খাদ্য ঘাটতি, দেশে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, জাতিগত সংঘাত, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি প্রভৃতি বলি তা কেবল জনসংখ্যাকে ঘিরেই আবির্ভূত হচ্ছে। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গত শতাব্দীর ৫০ দশক হতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এমন এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, এ জন স্ফীতিকে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আয়তনের তুলনায় এর জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি।

১৬৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি। ১৮৭২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ১ম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ২.২ কোটি অর্থাৎ ২২২ বছরে এ দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। ১৮৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে মোটামুটি ১ শত বছরে এ দেশের জনসংখ্যা তিনগুণ বেড়ে যায়। ১৯৭৪ হতে ২০২০ সাল এই পাঁচ দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যথাক্রমে- ১৯৭৪ সালে ২.৪৮, ১৯৮১ সালে ২.৩৫, ১৯৯১ সালে ২.১৭, ২০০১ সালে ১.৫৯, এবং ২০১১ সালে ১.৩৭।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৬১ ও ২০৮১ সালে বাংলাদেশে অতি জনসংখ্যার প্রতিবেশ বড় শ্বাসরুদ্ধকর হবে। বিভিন্ন প্রকার অসংখ্য বিব্রতদায়ক সমস্যার জন্য কৈফিয়ত প্রদানকারী হিসেবে প্রচন্ড দাবানলের মতো এগিয়ে আসছে এই বাড়তি জনসংখ্যা। জনসংখ্যা সমস্যা ও সম্পদ দুটো বিষয়ই সমান্তরালভাবে অর্থনীতির ভাষায় বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে দুটোর মধ্যে বেশ অমিল দেখা যায়। তাই কোনো দেশের সরকার একটি নির্দিষ্ট পর্যাবৃত্তে অর্থাৎ সময়ের ব্যবধানে একটি জাতীয় শুমারি কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। জাতির খুঁজে বের করার প্রয়োজন হয় কী পরিমাণ জনসংখ্যা রয়েছে।

হজনসংখ্যার একটি গণনা ব্যতিত বণ্টিত জনসংখ্যার একটি বাস্তব প্রতিকৃতি, জনসংখ্যার মৌলিক অন্যান্য উপাদানসমূহ, বর্তমান ও আসন্ন সমস্যাসমূহে সরকারি প্রশাসন যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে অসমর্থ। তাই জাতীয় শুমারি কেবল জনসংখ্যা পর্যালোচনার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগই সৃষ্টি করে না বরং প্রশাসনিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য তাকে গবেষণায়ও উৎসাহিত করে থাকে। জনসংখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ ও দেশের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য শুমারি প্রদত্ত উপাত্ত থেকে অতিরিক্ত একটি সুষ্ঠু বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় এবং সরকার ও প্রশাসন এরূপ স্বচ্ছ ধারণা পাওয়ার জন্য সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। কারণ বিভিন্ন প্রকার কর্তৃপক্ষ, অর্থলগ্নিকারী ও জনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শুমারির কতিপয় বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা প্রত্যয়ন করে। যেহেতু শুমারিগুলো একটি ঐতিহাসিক দলিল এবং সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয় ফলে এতে নীতি বাক্য সৃষ্টি হয় যে এগুলো সম্পূর্ণ ভ্রান্তিমুক্ত ও উপায়গুলো সঠিক। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন। যাহোক, অত্যধিক নির্ভুল তথ্য অর্জনের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বহু শুমারি পরিচালনা করা হয়েছে। তথাপি উলেস্নখযোগ্য পরিমাণ ভ্রান্তি সব সময় বিরাজমান ছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরো ১৯৭৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১০ বার্ষিক পর্যাবৃত্তি অনুসারে এ যাবত ৫টি শুমারি কার্যক্রম সম্পাদন করেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে। এ যাবত বিশ্বের সব দেশই কাগজ-কলম ব্যবহার করে সেন্সাস ও সার্ভেসমূহ সম্পাদন করে আসছে। উলেস্নখ্য যে, ‘ভিশন-২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ফলাবর্ত অর্জন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রচন্ড সফলতা দেখিয়েছে। যাহোক, বাংলাদেশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সে অন্যান্য ঊন্নয়নশীল দেশের মতো এখন আর এনালগ ডিভাইসে নেই। পিছিয়ে নেই তথ্যপ্রযুক্তিকে টেকসই ও মানসন্মত ব্যবহারে। তার প্রমাণ থরে থরে গর্বভরে দেশের প্রতিটি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিফলিত হচ্ছে। আবার যার রয়েছে অসংখ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে ব্যতিক্রমধর্মী গর্ব করার মতো ইতিহাস যেগুলোর অধিকাংশই বিশ্বের অন্য কোন জাতির ঐতিহাসিক তথ্য ভান্ডারে নেই। বাংলাদেশ তথা বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে বলতে চাচ্ছি, লেখাটি শুরু করেছি প্রবন্ধের বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা সংবলিত বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অনুষঙ্গকে আরোহ করে। সেই ঐতিহাসিক ফিরিস্তির একটি পর্ব বাংলাদেশ নামক দেশটি বিশ্বের বুকে রচনা করবে প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পাদনের মাধ্যমে। আর এ শুমারিতে প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার গণনাকারী সশরীরে দেশের প্রতিটি খানায় গমনপূর্বক খানা ও ব্যক্তির সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল ডিভাইস ট্যাবের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন। যা কিনা হবে বিশ্ববাসীর কাছে এক বিস্ময় ও অনুকরণীয় এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল! তথ্যপ্রযুক্তিকে সঠিক পন্থায় কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরিত করে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্যে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে অধিক জনসংখ্যার কবল হতে আমাদের অবশ্যই প্রচেষ্টা চালাতে হবে নতুবা আমরা অচিরেই বিভিন্ন সমস্যারাজির বেড়াজালে নিশ্চিহ্ন হবে যাব। যাহোক, বিশ্বায়নের এ যুগে একটি সমৃদ্ধ জাতিরূপে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে অবশ্যই সাতদিন (১৫,১৬,১৭,১৮,১৯,২০ ও ২১ জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ সময়ব্যাপী দেশের ৬ষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে গণনাভুক্ত করে দেশের যাবতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সাহায্য করি। পরিশেষে বলতে চাই, শক্তির উন্মত্ততার বিজড়ন নীতিকে পেরিয়ে শান্তির সুবাতাসে লীলায়িত জীবন কামনায় লাল-সবুজ পতাকার সুন্দর এ বাংলাদেশের জনসংখ্যার সঠিক চিত্র ফুটে উঠুক বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ কার্যক্রম-২০২২ এ সঠিক তথ্য দেয়ার মাধ্যমে এই প্রত্যাশা আপনার, আমার ও সবার।

লেখক : মো. আজগর আলী – গবেষক ও কলাম লেখক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
ebarta24.com © All rights reserved. 2021