1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরী থেকে সর্বাধুনিক ডিপোতে পরিণত বিএম কনটেইনার

বিশেষ প্রতিবেদক : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
শনিবার, ১৭ জুন, ২০২৩

একটি মৃত্যুপুরী থেকে এক বছরের ব্যবধানে দেশের সর্বাধুনিক ডিপোতে রূপান্তরিত হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপো। বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ফায়ার সেফটি সিস্টেম। মানা হচ্ছে আইএমডিজি (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারাস গুডস) কোডের সবগুলো শর্তও। নতুন করে বানানো হয়েছে আমদানি-রপ্তানি পণ্য রাখার শেড। পুরো ডিপোতে এখন নতুনত্বের ছোঁয়া।

ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরো ডিপোকে নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে। নিহত সবার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণের অর্থ। আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি ডিপোতে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সীতাকুণ্ডের কেশবপুরে ২৪ একর জায়গায় বিএম ডিপো গড়ে ওঠে। ২০১১ সালের মে মাসে ডিপোর অপারেশন শুরু হয়। গত বছরের ৪ জুন দিনগত রাতে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ মারা যান ৫১ জন। দুর্ঘটনায় প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করে আসছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি ফায়ার সার্ভিসের নিহত কর্মীদের ১৫ লাখ ও আহতদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিহত ১৩ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দিয়েছে বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ। আহতদেরও দেওয়া হয়েছে প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ।

ডিএনএ পরীক্ষায় ৪২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়। অন্যদের পরিচয় শনাক্ত না হলেও ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিচয় শনাক্ত যাদের হয়নি এমন পরিবারকেও ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসাসহ এ পর্যন্ত ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ করেছে ডিপো কর্তৃপক্ষ।

নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যারা মারা গেছেন, তাদেরও ক্ষতিপূরণের ১০ লাখ টাকা করে দেওয়াসহ সবার বেতন-বোনাস চলমান রাখা হয়েছে বলে জানান ডিপোর কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনায় নিজের বাম হাত হারিয়েছেন ডিপোর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) নুরুল আকতার। দুর্ঘটনার সময় তিনি ডিউটিতে ছিলেন না। আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে যান তিনি। এরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের আগ পর্যন্ত অন্য সহকর্মীদের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় কাজ করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে উড়ে যায় তার বাম হাত। বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ নুরুল আকতারের আরও উন্নত চিকিৎসার পদক্ষেপ নিয়েছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত হাতে রোবটিক হ্যান্ড প্রতিস্থাপন করা হবে।

নুরুল আকতার বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আমি হাত হারিয়েছি, এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমার প্রতিষ্ঠান আমার সব দায়িত্ব নিয়েছে। এখন বাম হাতে রোবটিক হ্যান্ড লাগানো হবে। স্বাভাবিক না হলেও ওই হাতে কাজ করতে পারবো, অনুভূতি পাবো বলে আশা।’

তিনি বলেন, শুধু ৪ জুনের বিস্ফোরণের ঘটনা নয়। চার বছর আগে আমাদের এক কর্মচারী মারা গেছেন। তার প্রতি মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হচ্ছে। তার পরিবারের অন্য যে কেউ কর্মক্ষম না হওয়া পর্যন্ত ডিপো কর্তৃপক্ষ বেতন-বোনাস চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের দুর্ঘটনায় যারা হতাহত হয়েছেন, আহতদের মধ্যে যারা এখনো কাজে যোগ দিতে পারেননি, তাদের পরিবারের কাছে প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন-ভাতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের নজির বাংলাদেশে কম প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে।

বর্তমানে ডিপোর আহত ১১ জন ভারতে চিকিৎসাধীন। আরও কয়েকজন কাজে জয়েন করেছেন, তারাও শিডিউল অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন।

৫ জুন সরেজমিনে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে গিয়ে দেখা যায়, এক বছর আগে আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ডিপোটি আর আগের মতো নেই। ডিপো অভ্যন্তরের পুরো চিত্রই পাল্টে গেছে। প্রায় দুই লাখ ৮২ হাজার ঘনফুটের নতুন তিনটি সিএফএস (কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন) বানানো হয়েছে। বিপজ্জনক পণ্যের জন্য ১২ হাজার বর্গফুটের আলাদা শেড। সিএফএস ও শেডগুলোতে এখন পণ্য রাখা হয়েছে। এখানে শ্রমিকরা কার্গো ও কনটেইনারে পণ্য ওঠানো-নামানো করছেন।

ডিপোতে প্রবেশেও আনা হয়েছে কড়াকড়ি। এর মধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে আসা-যাওয়া করছে কনটেইনারবাহী লরি। ডিপোর অভ্যন্তরের চারদিকে ফায়ার ওয়াটার ও ফোম টাইপ হাইড্রেন্ট বসানো হয়েছে। রাখা হয়েছে বালিভর্তি বালতি এবং ফায়ার এক্সটিংগুইসারও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরই মধ্যে আহতরা সুস্থ হয়ে অনেকে কাজে ফিরেছেন। অনেকে বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কথা হলে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাইনুল আহসান বলেন, বিএম ডিপোতে লাগা আগুন আমাদের অন্তরে দাগ কেটে গেছে। আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এরই মধ্যে আমরা ডিপোর শতভাগ অপারেশন শুরু করতে পেরেছি।

তিনি নিজেও একজন মাস্টার মেরিনার এবং আইএমডিজি কোড বিশেষজ্ঞ। বড় বড় জাহাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার ঝুলিতে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএম ডিপোর দুর্ঘটনা এক বছর পেরিয়েছে। আমরা এক বছর যুদ্ধ করেছি। এই এক বছরের মধ্যেই আমরা এখন বিশ্বমানের একটি ডিপো বানিয়েছি। যেখানে নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড প্রটেকশন সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে।

‘লাশ পাইনি দশ লাখ টাকা পেয়েছি’

বাঁশখালীর জাকের হোসেন। শুরু থেকে প্রায় ১০ বছর ধরে বিএম ডিপোতে ক্লিনারের চাকরি করছেন তিনি। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। তার দ্বিতীয় ছেলে শহীদুল ইসলাম ডিপোর দুর্ঘটনার মাত্র ১৬ দিন আগে অফিস পিয়ন হিসেবে বিএম ডিপোতে যোগ দেন। দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিল। দুর্ঘটনার পর তাকে আর পাওয়া যায়নি। নিহত ৫১ জনের মধ্যে ৪২ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হলেও ৯ জনের শনাক্ত হয়নি। হয়তো ওই নয়জনের মধ্যেই হতভাগা শহীদুল ছিল। কিন্তু শনাক্ত না হওয়ায় তার লাশ পায়নি তার পরিবার। দুর্ঘনার পর থেকে নিহত শহীদুলের বেতন-বোনাস তার বাবার হাতে নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। শনাক্ত না হলেও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয় শহীদুলের বাবা জাকের হোসেনকে।

জাকের হোসেন বলেন, আমি বিএম ডিপোতে শুরু থেকে চাকরি করি। আমার ছেলেকে পিয়ন হিসেবে চাকরি দিয়েছিলাম। দুর্ঘটনার সময় সে ডিউটিতে ছিল। কিন্তু তাকে আর পাইনি। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় লাশও পাইনি। তবে মালিকপক্ষ আমার ছেলে নিহত হওয়ায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আহত হিসেবে আমাকেও ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আমার ছেলের নিয়মিত বেতন-ভাতাও পরিশোধ করে ডিপো কর্তৃপক্ষ। আমিও কাজে আছি এখনো।’

হতাহতদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে টানাটানি

দুর্ঘটনার পর ডিপো কর্তৃপক্ষ হতাহতদের সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৩০ জন সদস্য ছিলেন। যাদের মধ্যে নিহত ১৩ জনের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা, আহত অঙ্গ হারানো ৯ জনকে ১০ লাখ টাকা করে, সাধারণ আহত পাঁচজনকে ৬ লাখ টাকা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া তিনজনকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনায় অন্য হতাহতদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয় ডিপো কর্তৃপক্ষের খরচেই। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ, আহত অঙ্গ হারানোদের ছয় লাখ ও সাধারণ আহতদের ৫০ হাজার টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

তবে ডিএনএ শনাক্ত না হওয়া পরিবার এবং আহতদের অনেককে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার দাবি করছিল কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। দুদিন আগে মানববন্ধনও করেন তারা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস্) প্রোগ্রাম অফিসার ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, পত্রিকায় আমরা দেখেছি ৫১ জন মারা গেছেন, দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। নিহত ৫১ জনের মধ্যে ডিএনএ টেস্টে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৪২ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানি। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া ৭-৮ জনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। আহতদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ না পাওয়া ১৫-১৬ জনের মতো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে শ্রমিকরা মানববন্ধনে আসতে পারেননি। ছয়জনের ছবিসহ আমরা ব্যানার করেছিলাম।

এ বিষয়ে বিএম ডিপোর নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাইনুল আহসান বলেন, ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের সবার পরিবারকে জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আহত ১৮২ জনকে এরই মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এখন আহত দাবিদার আরও ৩৬ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা বিএম ডিপোর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নন। তারা গাড়ি, সিঅ্যান্ডএফ, শিপিং এজেন্ট সংশ্লিষ্ট। ওই ৩৬ জনকে ডেকে আমরা কথা বলেছিলাম। এর মধ্যে ২৬ জন ওইদিন বিএম ডিপোতে আসেননি। তারা চিকিৎসার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তারা দাবি করেছেন, বাসায় ফাস্ট এইড নিয়েছেন। তারপরেও আমরা তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি।

এ বিষয়ে পুনরায় জানতে চাওয়া হলে (বিলস্) প্রোগ্রাম অফিসার ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, যদি পরিচয় শনাক্ত না হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করা হয় আমরা এ বিষয়ে সংশোধনী দেবো।

তবে ক্ষতিপূরণ না পাওয়া ৩৬ জন বিএম ডিপোর কেউ নন বলে স্বীকার করেন তিনি।

বিএম ডিপোতে বর্তমানে অত্যাধুনিক ফায়ার সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। গত বছরের ২৭ নভেম্বর ডিপোর সেফটি প্ল্যান অনুমোদন দেয় ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে ফায়ার প্রটেকশন অ্যান্ড ডিটেকশন সিস্টেমের কাজ করেছে একটি প্রকৌশল সংস্থা। তারা গত ২৩ মে টেস্টিং ও কমিশনিং শেষে বিএম ডিপোকে বুঝিয়ে দেয়। ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, ফায়ার সেফটি সিস্টেমের আওতায় ১৫টি মনিটর বিশিষ্ট ওয়াটার এবং ফোম টাইপ হাইড্রেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপিত পাম্পের সক্ষমতা ২৫০০ জিপিএম। আড়াই লাখ গ্যালন ধারণক্ষমতার একটি রিজার্ভার ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। সংযোজন করা হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি।

ফায়ার প্রটেকশন সিস্টেমের মধ্যে ৫১টি ল্যান্ডিং বাল্ব, ১৫টি ওয়াটার মনিটর, ৪০ মিলিমিটার ব্যাসের ৩৩টি হোসপাইপ, ৬৫ মিলিমিটারের ১৩টি হোসপাইপ লাগানো হয়েছে। ডিটেকশন সিস্টেমের মধ্যে ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেল, ৩৬টি কেমিক্যাল ডিটেকটর, ৮৭টি ম্যানুয়াল কল পয়েন্ট, ১৮৮টি স্মোক ডিটেকটর, ৭৩টি মাল্টি ডিটেকটর, ৪২টি হিট ডিটেকটর সংযোজন করা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন মাইনুল বলেন, ফায়ার সেফটির জন্য ডিপোতে বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন করেছি। আমরা কেমিক্যাল ফোমের যে হাইড্রেন্ট বসিয়েছি, তাতে আগুন লাগার ১৯ মিনিটের মধ্যে পুরো ডিপো ডেকে দেওয়া সম্ভব। এতে আগুন লাগলেও কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই। তাছাড়া আইএসপিএস ও আইএমডিজি কোডের সব শর্ত মেনে আমরা এখন ডিপো পরিচালনা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এমডি আবদুল মালেক বলেন, বিএম ডিপো দুর্ঘটনার পর আমরা ডিপোতে নতুন করে ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুমোদন দেই। এরই মধ্যে বিএম ডিপো তাদের ফায়ার সেফটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে। বর্তমানে বিএম ডিপোর ফায়ার সেফটি ব্যবস্থাপনা বিশ্বের আধুনিক অনেক কনটেইনার ডিপোর চেয়ে কম নয়, বরং অনেকাংশে বেশি।

‘ডিপোটি এরই মধ্যে বিশ্বের অত্যাধুনিক ফায়ার সেফটি সিস্টেম বসিয়েছে। আমাদের দেশের অন্য কনটেইনার ডিপো কিংবা অফডকগুলো বিএম ডিপোর ফায়ার সেফটি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে যত বড়ই দুর্ঘটনা হোক না কেন, ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কম হবে।’


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ