1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

হার্টের সুরক্ষায় যা করণীয়

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪

মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মতো হার্ট বা হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখার জন্যে পাঁচ স্তরের সেবা (হার্ট বা কার্ডিয়াক কেয়ার) রয়েছে। এগুলো হচ্ছে [১] হার্টকে সুস্থ রাখার ধারণা আয়ত্ত করা (Promotive cardiac care)। [২] হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখা ও রোগ না-হওয়ার জন্য করণীয় কাজগুলো ঠিকমতো চর্চা করা (Preventive Cardiac care)। [৩] হার্টের রোগ হলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা (Curative cardiac care)। [৪] হৃদরোগের চিকিৎসার পর নিজ কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য রোগীকে প্রশিক্ষিত করা (Rehabilitative Cardiac Care)। [৫] চিকিৎসা দিয়ে পরিপূর্ণ ভালো করা যাবে না এমন হৃদরোগীর কষ্ট কমানোর ব্যবস্থা করা (Palliative cardiac care)। আমাদের দেশে হার্টের জন্য প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধরণের সেবা (Care) সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের ধারণা নেই। তারা হার্টের জন্য কেবল কোলেস্টেরল, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, ইটিটি, অ্যানজিওগ্রাম, রিং পরানো, বাইপাস অপারেশন ইত্যাদি বুঝে থাকে। এর সবগুলো হৃদপিণ্ড রোগাক্রান্ত হওয়ার পরের কথা।

কিন্তু রোগ হওয়ার আগে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ,শারীরিক সক্রিয়তা, ধূমপান, মদ্যপানসহ সকল ধরণের ক্ষতিকর অভ্যাস পরিত্যাগ এবং মানসিক চাপমুক্ত, ও আনন্দে ভরা ও ইতিবাচক জীবন যাপন করলে হার্টের অসুখ থেকে মুক্ত থাকা যায়। এই কথাগুলো সাধারণ মানুষকে ভালো ভাবে বুঝানোর দেশব্যাপী সক্রিয় কোনো সংস্থা বা দপ্তর নেই। এদেশের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে রোগীদের যথেষ্ট সময় না দেওয়ার একটি অভিযোগ রয়েছে যার অধিকাংশ সঠিক। এছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত হওয়ার পরে লোকজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়। ডাক্তারের পরামর্শ বছরের পর বছর ধরে মেনে চলা নানা কারণে সবার জন্য সম্ভব হয় না। আর্থসামাজিক বাস্তবতায় মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন বেশির ভাগের জন্য সম্ভব হয়ে উঠে না।

এসব মিলিয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্রুত ইন্টারভেনশন (অ্যানজিওগ্রাম/রিং পরানো/বাইপাস অপারেশন)-র সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সঠিক প্রোমোটিভ ও প্রিভেন্টিভ কেয়ার দ্বারা বিপুল সংখ্যক মানুষকে হৃদরোগী হওয়া থেকে রক্ষা করা যেত। চল্লিশোর্ধ মানুষ (ক্ষেত্রবিশেষে পয়ত্রিশোর্ধ)-এর জন্য বছরে একবার একটি পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা/চেক করা দরকার। এতে কোনো রোগ শনাক্ত না-হলেও বয়স,উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী ডাক্তার মহোদয় ব্যক্তিটির জন্য খাবার, শারীরিক সক্রিয়তার ধরণ ঠিক করে দিবেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করার মধ্য দিয়ে শুধু হার্ট নয় শরীরের অধিকাংশ রোগকেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারপরেও কিছু রোগ হতে পারে। সেগুলো যতো দ্রুত শনাক্ত হবে ততোই কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে ছোট কারণে হার্টে রিং পরানোর ডাক্তার জন্য অনৈতিক (Unethical) যা অপরাধ।তেমনি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও রোগীকে নানা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে রিং পরানো বা বাইপাস অপারেশন করা থেকে বিরত রাখাও অপরাধ।

লেখক: লেলিন চৌধুরী – জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ