1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

আমাদের ক্রিকেট দল ও দোয়া প্রার্থনা

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
শুক্রবার, ৭ জুন, ২০২৪

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং তাদের অব্যাহত দোয়া প্রার্থনা নিয়ে যারা হাসাহাসি কিংবা ট্রল করছেন তা নিয়ে আমার ভিন্ন মত আছে। দোয়া অবশ্যই দরকার আছে। কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আরবি উচ্চারণে এই দোয়া সীমাবদ্ধ না। দোয়া মানে শুভাশীষ। দোয়া মানে ভাগ্যের সহায়তা চাওয়া। দোয়া মানে শুভ কামনা তথা সফলতা কামনা করা। এটার প্রয়োজন আছে। পৃথিবীর সব খেলোয়াড়রাই খেলার মাঠে যার যার সৃষ্টিকর্তার দোয়া চায়। যেমন সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভিভ রিচার্ডস কিংবা শচীন টেন্ডুলকার, সাঈদ আনোয়ার আকাশের দিকে তাকাতেন কিংবা গোল করে ম্যারাডোনা বুকে ক্রস আঁকতেন। যার যার ঈশ্বরকে স্মরণ করতেন। আর মুসলমান খেলোয়াররা তো মাঠে সরাসরি সেজদায় লুটিয়ে পড়েন। ইদানীংকালের পাকিস্তানি ক্রিকেটার কিংবা লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহর উদযাপন দেখলেই বোঝা যায় খেলার মাঠে দোয়া কত বেশি দরকার। এটা ওপেন সিক্রেট।

এ প্রসঙ্গে আমার নিজেরও বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে। টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখতে বসলে আব্বা একটা অদ্ভুত মজার কাজ করতেন। যে দলকে সাপোর্ট করতেন টিভি স্ক্রিনে হাত বুলিয়ে সেই দলকে দোয়া করে দিতেন। কোনো নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন না, কেবল বলতেন, যাহ তোদের দোয়া করে দিলাম। এ ধরনের দোয়া বিশেষ করে করতেন মেসির জন্য এবং ড্রগবার আমলে চেলসির কোনো খেলা থাকলে তাদের জন্য। মেসির পর চেলসির ড্রগবা ছিলো আব্বার প্রিয় ফুটবলার। কারণ ড্রগবার সাথে মাঠে এসিয়েন-কালু-শন রাইট ফিলিপস-ওবি মিকেল এদের দেখলে তাঁর প্রিয় ভাগ্নেদের কথা মনে পড়ে যেত। এমনও হয়েছে মেসির বার্সেলোনা কিংবা আর্জেন্টিনা বাছাই পর্যায়ে কিংবা বিশ্বকাপে গোল খেয়ে পিছিয়ে আছে কিংবা গোল করতে পারছে না। তখন আব্বাকে বলতাম, একটু দোয়া করে দেন। আব্বা সোফায় বসে টিভির দিকে ফু দিয়ে উড়ন্ত দোয়া পাঠিয়ে দিতেন। সত্যি বলতে কী, মাঝে মাঝে আব্বার দোয়ার বরকতে গোল চলে আসতো মেসির পা থেকে। আর্জেন্টিনার পক্ষে আব্বার দোয়া সরাসরি ফলতে দেখছিলাম ২০১৪ বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে। খেলার শেষ দিকেও যখন গোল আসছিলো না তখন বিড়বিড় করে আব্বা দোয়া করছিলেন।

ঠিক নব্বই মিনিটে মেসি গোল করে বসলো। যদিও সেবারের ফাইনালে আব্বার দোয়া কাজে দেয়নি। কিন্তু তা বৃথাও যায়নি। ২০২২ সালে আব্বা ছিলেন না, কিন্তু তাঁর দোয়া ছিল মেসির জন্য। ভাবা যায়? আব্বা ক্রিকেট খুব একটা পছন্দ করতেন না। কানাঘুষায় শুনেছিলেন খেলাটি নাকি মাফিয়া-জুয়াড়ীরা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই কখনো তাদের জন্য কায়মনবাক্যে দোয়া করেননি। করলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। কবি বলেছেন, পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা করো। তাই দুর্বল ক্রিকেট টিমের জন্য জাতীয় পর্যায়ে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা দরকার। আমিন।

লেখক: মিরাজুল ইসলাম – চিকিৎসক


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ