1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

ইসরায়েলি বন্দরে হামলা চালিয়েছে দুই দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী

নিউজ এডিটর : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪

ভূমধ্য সাগর সংলগ্ন ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দরে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ গোষ্ঠী ও ইরাকের ইসলামী প্রতিরোধ যোদ্ধারা। দুদেশ থেকে একযোগে বেশকিছু রকেট দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুতি আনসারুল্লাহর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন বক্তব্যে তিনি এই হামলার কথা জানান। সূত্র: আলজাজিরা

টেলিভিশন বক্তৃতায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, প্রথম হামলাটিতে হাইফা বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় হামলাটি অন্য একটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হয়েছে।

গাজার রাফাহ শহরে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি গণহত্যার জবাবে ইয়েমেন ও ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা এসব হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন হুতি সামরিক মুখপাত্র। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গাজার ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এ ধরনের আরও যৌথ অভিযান চলতে থাকবে।

উল্লেখ্য, অধিকৃত ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইরাক ও ইয়েমেনের অভিন্ন স্থল-সীমান্ত নেই যেমনটি রয়েছে ফিলিস্তিনি, লেবাননি ও সিরিয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের। তাই সাগরে ও আকাশপথে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আক্রমণ তথা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে ইয়েমেনের হুতি ও ইরাকের ইসলামী প্রতিরোধ যোদ্ধারা।

এবারের এই যৌথ অভিযান রণাঙ্গনে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধ ফ্রন্টের ঐক্য ও সমন্বয়ের এবং তাদের বহুমুখী বা বিচিত্রময় হামলার চমৎকার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছে ফিলিস্তিনপন্থি গোষ্ঠীগুলো। এসব হামলা বা প্রতিরোধ না থাকলে ইসরায়েল গাজার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা আরও তীব্র করত এবং গাজায় যুদ্ধের আরও বিস্তার ঘটিয়ে এতদিনে গাজাবাসীকে মিশরের সিনাইয়ের দিকে চলে যেতে বাধ্য করার পদক্ষেপ নিত বলে মনে করছে গোষ্ঠীগুলো।

ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে ইয়েমেন প্রতিরোধ অক্ষের অন্যতম প্রধান বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এসব হামলার কারণে ইসরায়েলের এইলাত বন্দরটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে যা ছিল পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের এবং তেলআবিবের জন্য সুয়েজ খালের বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যম।

পূর্ব এশিয়া থেকে ইসরায়েলে বছরে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলগামী জাহাজগুলোর জন্য বাব আল মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চল ঘুরে ইসরায়েলে মালামাল পাঠাতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বেশি সময় লাগে।

ফলে ওইসব পণ্য আমদানির পেছনে ইসরায়েলকে পরিশোধ করতে হচ্ছে তিন শতাংশ বাড়তি মূল্য যা প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সমান। ইসরায়েল তার আমদানি করা পণ্যের ৯৯ শতাংশই আমদানি করে সাগর পথে এবং এর শতকরা ত্রিশ ভাগই আনা হয় লোহিত সাগর দিয়ে। ইসরায়েলের একজন উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্বীকার করেছে, লোহিত সাগরের উপকূল ধরে ইয়েমেনের বিশাল অঞ্চল এবং তার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্তত এক লাখ যোদ্ধা ইসরায়েলের জন্য ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ও হুমকির শামিল।

অন্যদিকে ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারাও আল-আকসা তুফান নামক ফিলিস্তিনের ইসরায়েলবিরোধী অভিযান শুরুর প্রায় পরপরই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহায়তা দিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে তারা এ পর্যন্ত ১০০’রও বেশি অভিযান চালিয়েছে।

এ ছাড়াও ইরাকের ইসলামী প্রতিরোধ শক্তি এইলাত বন্দর সংলগ্ন লোহিত সাগরের অঞ্চলগুলোসহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলের কারিশ গ্যাস ক্ষেত্রে ক্রমেই অভিযান জোরদার করেছে। এসব অঞ্চলে তারা ব্যবহার করেছে ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার নানা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।


সর্বশেষ - জাতীয় সংবাদ